08/09/2026
আপনি বা আপনার বাচ্চা - এই ৬টি অভ্যাসের কোনটা করেন?
বাচ্চারা অনেক কিছুই না বুঝে অভ্যাস করে ফেলে - নখ কামড়ানো, কলম চিবোনো, শক্ত জিনিস দাঁত দিয়ে খোলা, এমনকী বরফ চিবোনোও। বড়দের মধ্যেও কিন্তু এই অভ্যাসগুলো কম নেই!
সমস্যা হল, দেখতে ছোট মনে হলেও এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চলতে থাকলে দাঁত ও মাড়ির উপর প্রভাব পড়তে পারে।
১. বরফ চিবানো
গরমকালে বরফ চিবিয়ে খেতে অনেকেরই ভালো লাগে। কিন্তু বরফ বেশ শক্ত হওয়ায় নিয়মিত চিবোলে দাঁতে ছোট ফাটল তৈরি হতে পারে। বাচ্চারা মজা করে বরফ চিবোচ্ছে কিনা, সেটাও একটু খেয়াল রাখুন।
২. নখ কামড়ানো
বাচ্চাদের মধ্যে এই অভ্যাসটা খুবই পরিচিত। পড়াশোনা করার সময়, টেনশন হলে বা টিভি দেখতে দেখতে অনেকেই নখ কামড়ায়। এতে দাঁতের উপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং দীর্ঘদিন চললে দাঁতের কিনারাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৩. দাঁত দিয়ে বোতল বা প্যাকেট খোলা
“দাঁত দিয়েই খুলে দিই”—এই অভ্যাসটা বড়দের মধ্যে যেমন আছে, বাচ্চারাও অনেক সময় নকল করে। বোতলের ঢাকনা, প্যাকেট বা শক্ত কিছু দাঁত দিয়ে খোলার চেষ্টা করলে দাঁতে হঠাৎ বেশি চাপ পড়ে। এতে দাঁত চিড় ধরতে বা ভেঙে যেতে পারে।
৪. অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় খাওয়া
কোল্ড ড্রিঙ্ক, প্যাকেটজাত জুস বা মিষ্টি পানীয় বাচ্চাদের খুব পছন্দ। কিন্তু এগুলো বারবার খেলে দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুধু কতটা খাচ্ছে নয়, দিনে কতবার খাচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
৫. জোরে জোরে ব্রাশ করা
বাচ্চারা অনেক সময় দাঁত পরিষ্কার করার উৎসাহে খুব জোরে ব্রাশ করে। কিন্তু বেশি চাপ দিয়ে ব্রাশ করলে মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং দাঁত শিরশির করার সমস্যা হতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই সঠিকভাবে, হালকা হাতে ব্রাশ করার অভ্যাস তৈরি করুন।
৬. দাঁতের উপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া
কলম বা পেন্সিল কামড়ানো, খেলনা বা শক্ত জিনিস দাঁত দিয়ে চেপে ধরা - বাচ্চাদের মধ্যে এমন অভ্যাস দেখা যায়। বড়দের ক্ষেত্রেও দাঁত চেপে রাখা বা শক্ত জিনিস কামড়ানোর অভ্যাস থাকতে পারে। নিয়মিত এমন চাপ দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।
এবার একটু সত্যি করে বলুন - আপনার বাচ্চার মধ্যে কোন অভ্যাসটা আছে? আর আপনার নিজের?
কমেন্টে ১ থেকে ৬-এর মধ্যে নম্বর লিখে জানান।
হয়তো আপনার কমেন্ট দেখে অন্য একজন অভিভাবকও নিজের বাচ্চার একটা অভ্যাসের দিকে নতুন করে খেয়াল করবেন।
কারণ দাঁতের যত্ন শুরু হয় অভ্যাস থেকেই - আর সেটা যত ছোট বয়সে শুরু করা যায়, ততই ভালো।
আর যদি কোন সমস্যা হয়, তাহলে তো আমরা আছি।