22/05/2022
দাঁতের লাইট কিউর ফিলিং ঃ
প্রচলিত অর্থে ‘ফিলিং’ অর্থ ভরাট করা। দাঁতের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ‘ফিলিং’ একই অর্থ বহন করে। সামনে বা পেছনে, ওপরে বা নিচের পাটির যে কোনো দাঁত যে কোনো কারণে (ডেন্টাল ক্যারিজ বা দন্তক্ষয় রোগে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে, যে কোনো ওষুধের বা কেমিক্যালের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি) ভেঙে গেলে, গর্ত হয়ে গেলে বা ক্ষয়ে গেলে ডেন্টিস্ট্রিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফিলিং ম্যাটেরিয়ালের মাধ্যমে আবার দাঁতের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য এবং কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া হয়। আর এখেএে লাইট কিওর কম্পোজিট বা লেজার ফিলিং সৌন্দর্জের বা স্থায়ীতার দিক থেকে সবচেয়ে ভালো ফিলিং। সামনের দাঁতের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের কথা চিন্তা করে দাঁতের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফিলিং করা হয় (কম্পোজিট ফিলিং) পেছনের দাঁতেও এখন একই ফিলিং ব্যবহার করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এমন ফিলিং ব্যবহার করা হয় (সিলভার অ্যামালগাম ফিলিং বা এলয় ফিলিং) যেটি দাঁতের আসল রঙের সঙ্গে না মিললেও হাড় বা এ জাতীয় শক্ত খাবারের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে।
দাঁতের যে কোনো অংশে ছোট বা মাঝারি কিংবা বড় গর্ত চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেরি না করে ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে গর্তগুলো ফিলিং করিয়ে নেবেন। অবহেলায় গর্ত আরও বড় হয়ে ক্রমশ দাঁতের ভেতরের নরম অংশটিতে, (যাকে দাঁতের ‘মজ্জা’ বা ‘পাল্প’ বলা হয়) বিস্তৃত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে এবং দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। সে অবস্থায় কোনো ক্রমেই আর ফিলিং করানো সম্ভব নয়, তখনকার চিকিৎসা আরও ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।সে পর্যায়ে দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসা এবং ক্যাপ করতে হতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসার কাজটি সারিয়ে নেয়া উচিত। অনেকের গাফিলতি এতটাই প্রকট যে তারা শেষ সময়ে এমন ভাঙা এবং সংক্রমিত দাঁত নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন যে তখন দাঁতটি ফেলে দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না।
তাই দাঁতে ছোট গর্ত বা শিরশির দেখা দিলে আর অবহেলা না করে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের কাছে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে এবং অবশ্যই তার পরামর্শ মতো ফিলিং করাবেন। চিকিৎসা পরবর্তি চেকআপ করাবেন।
গর্ত হয়ে যাওয়া বা ভাঙা দাঁতে খাবার আটকে অস্বস্তিতে ভোগার চেয়ে কিংবা ভাঙা সামনের দাঁত নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে সময়মতো ফিলিং করিয়ে দাঁতের নষ্ট হয়ে যাওয়া সৌন্দর্য আর কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনাটাই কি বুদ্ধিদীপ্ত কাজ নয়?