17/07/2023
অপারেশন সবে মাত্র শেষ করেছি...এ সময় একজন সিনিয়র সার্জনের ফোন!
সাকলায়েন, আপনাকে একটু ইমার্জেন্সি আসতে হবে...
অতপর তিনি কারণটা জানালেন! হাতের টিউমার সরাতে যেয়ে সম্ভাব্য জটিলতা হিসেবে মূল রক্তনালি কেটে গেছে। প্রচুর ব্লিডিং। রক্ত আটকানো যাচ্ছেনা।
দ্রুত গেলাম। ততক্ষণে হাত যায় যায় অবস্থা। অতিরিক্ত রক্তপাতে রোগীর অবস্থাও সংকটাপন্ন। কয়েক মিনিটেই ব্লিডিং বন্ধ করলাম।
বিপত্তি হল হাত বাচাতে গেলে বাইপাস অপারেশন লাগবে...বাইপাস করতে গেলে কমপক্ষে তিন ঘন্টা সময় লাগবে..ততক্ষণে হাত চলে যাবে।
টোটকা বুদ্ধি হিসেবে ফিডিং টিউব দিয়ে বিকল্প বাইপাস করলাম..(Brachio Ulnar shunt with 8 size feeding tube)।
হাত সতেজ হল, স্যাচুরেশন ২০ থেকে ১০০%.
অতপরে ধীরে সুস্থ বাইপাস করে ফিরে এলাম।
রোগী ৭ দিন পর সুস্থ হাত ও দেহ নিয়ে বাসায় ফিরে গেলেন।
শ্রদ্ধেয় সার্জন একজন সহকারীকে দিয়ে আমাকে সার্জন ফি পাঠালেন...আমি বুঝিয়ে সুজিয়ে বিনয়ের সাথে ফেরত পাঠালাম।
এবার তিনি নিজেই এলেন। টাকাটা নেয়ার জন্যে অনুরোধ করলেন। বিপদে পাশে থাকার জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন...ধন্যবাদ দিলেন...শুকরিয়া আদায় করলেন।
আমি তাঁকে জানিয়ে দিলাম...যে মানুষটার কাছে আমি সার্জারী শিখেছি....তিনি বিপদে পড়া কোন সার্জনের পাশে দাঁড়ালে কোন ধরণের ফি নেন না। তাঁর যুক্তি অপারেশনের জন্যে একটা সার্জন ফি ধার্য থাকে। কিন্তু জটিলতা হলে তার জন্যে কোন সার্জন ফি পূর্ব থেকে কেউ নির্ধারণ করে না।
তাহলে এই টাকাটা কে দিবে?
তাছাড়া অপারেশনের চার্জ ধার্য হয়...কিন্তু বিপদে সাহায্য করার বিনিময় মূল্য দিয়ে হয় না।
আমি গুরুর এই নীতি মানি। অপারেশনে কেউ বিপদে পড়লে আমি খুশি মনে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। সফল হলে খুব বেশি আনন্দিত হই।
এমন সাহায্যে মূল সার্জন বিপদমুক্ত হন। সবচেয়ে বেশি উপকার হয় রোগীর। সম্ভাব্য নিশ্চিত বিপদ থেকে তিনি বেঁচে যান।
সব বিপদে বলে কয়ে আসেনা। সব বিপদের হিসেব পূর্ব থেকে থাকেনা।
আচ্ছা,
এই বিপদটায় যদি আমি না যেতাম?
হয়ত রোগীর হাতটা যেত, হুমকিতে পড়ত জীবনটাও। অসীলা হিসেবে আমার উপস্থিতি না থাকলে কি হত নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারছেন!
ধরুণ..
আমি গেলাম...অপারেশন করলাম...তবুও হাত বাঁচানো গেল না...জীবন বাঁচানো গেল না?
অতপর মামলা হতো?
আমাকেও আসামী করা হতো?
সমন জারি হতো আমার বিরুদ্ধে? জামিন না পাওয়ার মতো অপরাধ হতো আমার?
তাই যদি হয়...
তাহলে কেউই তো আর এমন বিপদে পাশে দাঁড়াবেনা...আমিও না... অন্য কেউই না..
ঝুঁকিতে পড়বে কে তখন?
সবাই কি তবে বিদেশ যাবে? সবার কি সে সামর্থ আছে?
সুরক্ষিত হোক রোগী...সংরক্ষিত থাকুক চিকিৎসকও। নয়ত মুখ থুবড়ে পড়বে আমাদের চিকিৎসা ব্যাবস্থা এবং সেরকমই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি পার করছি আমরা।
এর শেষ কবে? কিভাবে?