07/10/2026
Patient's diary
দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া(Bleeding from Gum)
দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যাকে আমরা মূলত দুই ভাগে ভাগ করে দেখতে পারি। একটি হলো লোকাল বা স্থানীয় কারণ, অন্যটি হলো সিস্টেমিক বা শারীরিক জটিলতা।
লোকাল কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো দাঁতের গোড়ায় জমে থাকা প্লাক এবং ক্যালকুলাস। এগুলো মাড়িতে প্রদাহ বা জিনজিভাইটিস তৈরি করে, যার ফলে ব্রাশ করার সময় বা এমনিতেই রক্তপাত হতে পারে। এছাড়া, ভুল পদ্ধতিতে ব্রাশ করা, শক্ত টুথব্রাশ ব্যবহার, বা দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকা থেকেও মাড়িতে অস্বস্তি ও রক্তপাত হতে পারে।
অন্যদিকে, সিস্টেমিক কারণগুলো শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত। ডায়াবেটিস থাকলে মাড়ির রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় এবং তা গুরুতর হতে পারে। এছাড়া, রক্তাল্পতা, ভিটামিন সি বা কে-এর অভাব, এবং লিউকেমিয়ার মতো রক্ত সম্পর্কিত রোগগুলোর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও মাড়ি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে রক্তপাত ঘটাতে পারে।
সিস্টেমিক কারণগুলোকে সহজভাবে বোঝার জন্য নাম্বারিং করে নিচে দেওয়া হলো:
১. হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থা, বয়ঃসন্ধি বা মেনোপজের সময় হরমোনের তারতম্যের কারণে মাড়ি বেশি সংবেদনশীল হয়ে রক্তপাত হতে পারে।
২. রক্ত সম্পর্কিত রোগ: রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া এবং লিউকেমিয়ার বা ব্লাড ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
৩. ভিটামিনের অভাব: বিশেষ করে ভিটামিন সি (যা স্কার্ভি রোগ সৃষ্টি করে) এবং ভিটামিন কে-এর ঘাটতি রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়, যা রক্তপাতের কারণ হতে পারে।
৪. ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে মাড়ির ইনফেকশন বা পেরিওডন্টাল ডিজিজ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
৫. ওষুধপত্রের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা অ্যাসপিরিন নিয়মিত সেবন করলে মাড়ি থেকে সহজেই রক্তপাত হতে পারে।
৬. স্কার্ভি (ভিটামিন সি-এর তীব্র অভাব): ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরির জন্য অপরিহার্য, যা মাড়ির টিস্যুকে শক্ত রাখে। এর অভাবে মাড়ি দুর্বল হয়ে যায়, ফুলে ওঠে এবং সহজে রক্তপাত হয়।
৭. লিভার ডিজিজ: লিভার রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা ক্লটিং ফ্যাক্টর তৈরি করে। লিভারের রোগ থাকলে এই প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে মাড়িসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তপাতের প্রবণতা বাড়ে।
৮. অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া: এটি একটি গুরুতর অবস্থা যেখানে অস্থিমজ্জা পর্যাপ্ত নতুন রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে না। এর ফলে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লাটিলেট— সবকিছুরই ঘাটতি দেখা দেয়। প্লাটিলেটের অভাবে রক্ত ঠিকমতো জমাট বাঁধতে পারে না এবং মাড়ি দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত হতে পারে।
৯. হিমোফিলিয়া (এ ও বি): এটি একটি বংশগত রক্তক্ষরণজনিত রোগ, যেখানে রক্ত জমাট বাঁধার নির্দিষ্ট প্রোটিনের অভাব থাকে। এর ফলে সামান্য আঘাতেই মাড়ি থেকে দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত হতে পারে।
১০. হেম্যানজিওমা: এটি রক্তনালীর একটি বিনাইন বা ক্যান্সারহীন টিউমার। মাড়িতে এই ধরনের অস্বাভাবিক রক্তনালীর উপস্থিতি থাকলে, সামান্য ঘর্ষণেও সেখান থেকে প্রচুর রক্তপাত হতে পারে।
এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে, কোনো স্থায়ী সমস্যা দেখলে একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যাতে সঠিক কারণটি শনাক্ত করে চিকিৎসা করা যায়।
ডাঃ ইয়াসির আরাফাত সোহেল
চেম্বার
আল মাদানী টাওয়ার ,ফোর্থ ফ্লোর লিফট ৩,
মীরবক্সটুলা, সিলেট