06/09/2026
দিন দিন আমাদের সমাজে ঘরের বউ, স্ত্রী কিংবা একজন নারীর প্রতি নির্যাতন যেন বেড়েই চলেছে। আর সবচেয়ে কষ্টের বিষয়—অনেক নারী সেই নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছেন, শুধু সংসারটা টিকিয়ে রাখার জন্য।
আজ মুন্নী নেই।
এটা আত্মহত্যা বলুন কিংবা হত্যা—ঘুরেফিরে প্রশ্নটা একই জায়গায় এসে দাঁড়ায়।
যদি সে আত্মহত্যা করেও থাকে, তাহলে তাকে সেই পথ বেছে নিতে হলো কেন?
কী এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যা একজন মানুষকে নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে?
কারা তাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিয়েছিল?
আমরা চাই না, মুন্নীর মতো আর কোনো নারীর জীবন এভাবে শেষ হয়ে যাক। আমরা চাই না, কোনো মেয়ে নির্যাতন সহ্য করতে করতে একদিন জীবনের কাছেই হেরে যাক।
এখন সময় মুখ খোলার।
এখন সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর।
এখন সময় নিজের সম্মান, নিজের অস্তিত্ব এবং নিজের জীবনের জন্য লড়াই করার।
যারা দিনের পর দিন নারীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন—দয়া করে থামুন। একজন নারীও একজন মানুষ। তারও সম্মান আছে, অনুভূতি আছে, স্বপ্ন আছে, বেঁচে থাকার অধিকার আছে। একজন মেয়েকে সুস্থভাবে, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে দিন।
আর যারা নির্যাতিত, তাদের বলছি—নিজেকে শেষ করে দেবেন না। আপনার জীবন কোনো নির্যাতনকারীর জন্য শেষ হয়ে যাওয়ার মতো তুচ্ছ নয়। প্রয়োজনে সংগ্রাম করুন, সাহায্য চান, কাছের মানুষদের জানান, আইনের আশ্রয় নিন, কিন্তু নিজের জীবনটাকে হারিয়ে ফেলবেন না।
মনে রাখবেন, মৃত্যু কখনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।
জীবন যত কঠিনই হোক, বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে যেতে হয়। নিজের আত্মসম্মান, নিজের অস্তিত্ব আর নিজের ভবিষ্যতের জন্য দাঁড়িয়ে যেতে হয়।
আজ মুন্নীর জন্য প্রতিবাদ হোক।
আগামীকাল যেন আর কোনো মুন্নীর জন্য আমাদের এভাবে লিখতে না হয়।
নারীর প্রতি নির্যাতন বন্ধ হোক।
নীরবতা ভাঙুক।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হই।
একজন নারী নয়—প্রতিটি মানুষের নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত হোক। 🤍