29/09/2021
★ মাউথওয়াশ ★
আমরা অনেকেই চিকিৎসনীয় কোনো কারন ছাড়াই মাউথওয়াশ ব্যবহার করার ধারনা পোষন করি। কারন অনেকেই মনে করে থাকেন মাউথওয়াশ মুখের দুর্গন্ধ দুর করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আসল বিষয় হলো মুখ ও মাড়ীর রোগের সঠিক চিকিৎসা ও যথাযথভাবে ব্রাশিং, ফ্লসিং ও মুখগহ্বরের পরিস্কার পরিছন্নতা মুখের দুর্গন্ধ দুর করার ক্ষেত্রে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।
মাউথওয়াশ নিয়ে আমাদের নানারকম প্রশ্ন মনে আসে, তাই মাউথওয়াশ জিনিসটি কি, কেন,কোথায়, কিভাবে ও সতর্কতাজনক ব্যবহারবিধি নিয়ে আজকের আলোচনা।
মাউথ ওয়াশ কি?
মাউথ ওয়াশ হলো বিভিন্ন ঔষধ মিশ্রিত এক ধরনের অ্যান্টিসেপটিক বা জীবানুনাশক দ্রবণ, যা কুলি করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
মাউথ ওয়াশের ব্যবহার কি কি?
অ্যান্টিসেপটিক বা অ্যান্টিপ্ল্যাক মাউথ ওয়াশ
মুখ ও মুখগহ্বরের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধে মাউথ ওয়াশ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
দাতঁ ও মাড়ির প্রদাহ, প্লাক, মুখের দুর্গন্ধ,
মুখ গহ্বরের অপারেশনের পর যখন কোনো রোগী দাতঁ ব্রাশ করতে পারেনা, সে সময় মাউথ ওয়াশ দাঁত ব্রাশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়, কিছু মাউথ ওয়াশে দাতঁ ক্ষয়রোধ করা ও শিরশির রোধ করার কাজে সহযোগী ভূমিকায় ব্যবহৃত হয়।
মাউথ ওয়াশের ধরন -
USFDA (আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) মাউথ ওয়াশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছে।
-কসমেটিক মাউথ ওয়াশ
(দাঁত ব্রাশের আগে বা পরে ব্যবহার করা যায়, এটি হালকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করে এবং সাময়িকভাবে মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। এটি ১০ মিনিট থেকে ২/৩ ঘন্টা পর্যন্ত মুখের সজীবতা ও দুর্গন্ধ দুর রাখতে পারে)
- থেরাপিউটিক মাউথ ওয়াশ
(এটিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়,
অ্যান্টিপ্ল্যাক বা মাঢ়ির প্রদাহবিরোধী ও
অ্যান্টিক্যাভিটি বা দন্ত ক্ষয়বিরোধী)
-কসমেটিক ও থেরাপিউটিক এর সমন্বিত মাউথ ওয়াশ
মাউথ ওয়াশের উপাদান সমুহ কি?
মাউথ ওয়াশে সাধারনত যেসব উপাদান ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেগুলো হলো হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, সোডিয়াম বেনজোয়েট, ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট, ফ্লোরাইড, পোভিডন- আয়োডিন, ইউক্যালিপটল, থাইমল, নাইট্রিক অক্সাইড,হেক্সিটিডিন, ফেনল, এলকোহল, বেনজাডয়ামিন হাইড্রোক্লোরাইড, মিথাইল স্যালিসাইলেট,এসেনশিয়াল অয়েল ইত্যাদি।
মাউথ ওয়াশ ব্যবহার এর নিয়ম -
মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের পুর্বে সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ ও ফ্লসিং করে নেওয়া উচিত। দুই চামচ মাউথ ওয়াশ সমপরিমাণ পানির সাথে মিশিয়ে অথবা ডেন্টিষ্ট / চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণে ব্যবহার করতে হয়। মাউথ ওয়াশ ৩০ সেকেন্ডের জন্য মুখের ভিতরে রেখে কুলকুচো করা হয়। মাউথওয়াশটি ফ্লোরাইডযুক্ত হলে এক মিনিট কুলকুচা করতে হয়। মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের ৩০ মিনিটের মধ্যে খাওয়া দাওয়া করা উচিত নয়। এতে মাউথ ওয়াশের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে বা নষ্ট হয়ে যায়।
মাউথ ওয়াশ ব্যবহারে সতর্কতা -
- মাউথওয়াশ ব্যবহারে দাঁতে দাগ পড়তে পারে/ সাময়িক বিবর্ন হয়ে যেতে পারে।
- মুখের অভ্যন্তরে শুষ্কভাব বিরাজ করতে পারে।
-মুখের ভেতরে জ্বালাপোড়া বা প্রদাহজনিত অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে।
- মাত্রা অতিরিক্ত ব্যবহারে মুখে ঘা বা আলসার দেখা দিতে পারে।
- মুখের স্বাদে তিন থেকে চার ঘণ্টার জন্য পরিবর্তন হতে পারে, যা কোনোকোনো সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
- মাউথওয়াশগুলো এন্টিসেপটিক ও এন্টিব্যাকটেরিয়াল হওয়ার কারনে মুখগহ্বরের সকল ব্যাকটেরিয়াকে নির্বিচারে ধ্বংস করে, কিন্তু দাঁতের ক্ষয় ও মুখের অন্যান্য অসুখের জন্য দ্বায়ীমাত্র কিছু ব্যাকটেরিয়া, বাকী বেশীরভাগ ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষাকারী হিসাবে রোগজীবাণু এর বিরুদ্ধে কাজ করে।
- সম্প্রতি প্রকাশিত ফ্রি রেডিক্যাল বায়োলজি অ্যান্ড মেডিসিন জার্নালে গবেষণায় বলা হয়েছে নিয়মিত মাউথওয়াশ এর ব্যবহার বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা৷
- ব্রিটিশ ডেন্টাল জার্নালে (নভেম্বর, ২০১৮)
প্রকাশিত হয়েছে নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যাবহার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় প্রায় ৫০ শতাংশ।
তাই চিকিৎসক/ডেন্টিস্ট এর পরামর্শ/ নিতান্তই প্রয়োজন ব্যতীত মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
লেখক -
আশিক ইকবাল
সিইও,
ডেন্টাল এক্সপ্রেস (বিডি) Dental Express