Haque Dental Care - হক ডেন্টাল কেয়ার

Haque Dental Care - হক ডেন্টাল কেয়ার Haque Dental Care - হক ডেন্টাল কেয়ার
যোগাযোগ করুন?

সচেতন হতে হবে।
11/04/2026

সচেতন হতে হবে।

ঈদ মোবারক।
07/06/2025

ঈদ মোবারক।

শুভ দুপুর।
14/01/2025

শুভ দুপুর।

আসসালামু ওলাইকুম জুম্মা মোবারক।
13/09/2024

আসসালামু ওলাইকুম
জুম্মা মোবারক।

05/03/2024

শিশু যখন আঙুল চোষে

শিশুরা নিজের আঙুল মুখে দেয়। বিশেষত, বুড়ো আঙুল অথবা মজা পায় এমন অনেক কিছুই (যেমন খেলনাজাতীয় জিনিস) তারা চুষতে শুরু করে। এভাবে তারা নিজস্ব জগৎটাকে চিনতে চায়, আবার নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে ভেবে আনন্দ পায়। ছোট শিশুরা অনেক সময় শান্ত হওয়ার জন্য নিজের আঙুল চোষে। অনেক সময় এটি করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন এমন অভ্যাসে কোনো জটিলতা হতে পারে?
হ্যাঁ, যখন দুধদাঁত পড়ে যায় এবং ওই স্থানে স্থায়ী দাঁত গজাতে শুরু করে, তখন আঙুল চোষার অভ্যাসের ফলে মুখের আকৃতি ও দাঁতের স্বাভাবিক অবস্থান বিকৃত হয় এবং ওপরের সামনের পাটির দাঁত উঁচু হয়ে যায়। যেসব শিশু আঙুল দাঁতের ওপর চাপ দিয়ে রেখে খুব জোরে জোরে দীর্ঘক্ষণ চোষে, তাদের এমন ক্ষতি বেশি হয়।
কখন আঙুল চোষা বন্ধ করতে হবে?
যখন শিশুর দুধদাঁত পড়ে গিয়ে সামনের স্থায়ী দাঁত উঠতে শুরু করে, তখন আঙুল বা অন্য কোনো বস্তু চোষা বন্ধ করা প্রয়োজন। সাধারণত শিশুরা দুই থেকে চার বছর বয়সের মধ্যেই এই চোষার অভ্যাস বন্ধ করে দেয়। না করলে ব্যবস্থা নিতে হবে। আঙুল ছাড়া অন্যান্য বস্তু যেমন চুষনি, পেনসিল, খেলার সরঞ্জাম ইত্যাদি চোষাও সমান ক্ষতিকর।
কীভাবে শিশুর এই অভ্যাস ছাড়ানো যায়?
* চার বছরের বেশি বয়সী শিশুকে বুঝিয়ে বলুন এবং অন্য কিছু দিয়ে ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করুন। যেমন খেলনা, বই, আঁকাআঁকি, গল্প বলা অথবা গান গাওয়ানোর চেষ্টা।
* শিশুরা আঙুল বা অন্য কিছু চোষে যখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তাই চেষ্টা করুন তাদের দুশ্চিন্তা দূর করতে।
* বাবা-মা যদি শিশুদের একটু বেশি সময় দিয়ে অধিক আনন্দ জোগাতে পারেন, সুফল মিলবে।
* রাতে ঘুমানোর আগে শিশুর হাত বা আঙুলগুলো একটি নতুন মোজা বা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিতে পারেন। কোনো তেতো খাবার (যেমন নিম পাতা অথবা করলার রস, যা ক্ষতিকর নয়) হাতের আঙুলগুলোতে মাখিয়ে রাখলেও ফল পাওয়া যায়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, দন্ত চিকিৎসক কিংবা শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।
অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী
দন্ত বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল

আমার নতুন ডেন্টাল চেম্বার। পাশে থাকার জন্যে ধন্যবাদ।
29/11/2022

আমার নতুন ডেন্টাল চেম্বার। পাশে থাকার জন্যে ধন্যবাদ।



প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর দাঁতের "স্কেলিং ও পলিশিং" ট্রিটমেন্ট করুন,আপনার দাঁত ও মাড়িকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখুন।

🔴 আসুন স্কেলিং ও পলিশিং ট্রিটমেন্ট এর সুফল গুলো জেনে নিই :
👉 মাড়ি থেকে রক্ত পড়া দূর হবে।
👉 মুখের দূর্গন্ধ দূর হবে।
👉 দাঁতের গোড়া মজবুত থাকবে এবং,দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকবে।
👉 দাঁতের দাগ সম্পূর্ণভাবে দূর হবে।
👉 প্রতি ৬ মাস বা কমপক্ষে ১ বছর পর পর স্কেলিং ট্রিটমেন্ট করার ফলে মাড়ি ফোলা ও প্রদাহজনিত রোগ হতে মুক্তি পাওয়া যাবে।...................................
✔ ডা. মোঃ মোমিনুল হক

 #শীতে বাচ্চার নাক দিয়ে রক্তপড়া #নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে ডাক্তারি পরিভাষায় এপিসটেক্সিস বলে।বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্তপড়া খুবই ক...
09/11/2021

#শীতে বাচ্চার নাক দিয়ে রক্তপড়া #

নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে ডাক্তারি পরিভাষায় এপিসটেক্সিস বলে।
বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্তপড়া খুবই কমন একটা বিষয়। বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্তপড়া সাধারণত খুব বেশী তীব্র হয় না। এই কারণে সাধারণত হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। কদাচিৎ হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
#বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়ার পেছনে ২ টি কারণ বিশেষভাবে জড়িত-
১| স্বাভাবিকভাবে নাকের মধ্যে ব্লাডসাপ্লাই বেশী থাকে।
২| ঘন ঘন ঠান্ডা,সর্দি,কফ কাশি লেগে থাকে (URTI)।
বেশীরভাগ রক্তপড়া নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যায় এবং বাসাতেই ম্যানেজ করা যায় বা প্রাথমিক চিকিৎসাতেই ভাল হয়ে যায়।
বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়লে শিশু ও তার বাবা মা উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েন। বাচ্চার ঘুম, স্কুল ও খেলাধুলায় প্রভাব পড়তে পারে।

#বয়সের প্রভাব:
সাধারনত ১০ বছরের নিচের শিশুদের এপিসটেক্সিস বেশী হয়। মেয়ে শিশুর তুলনায় ছেলে শিশুর এই সমস্যা বেশি হয়। ৩ - ৮ বৎসরের শিশুদের এই রোগের প্রকোপ সবচাইতে বেশী।
সাধারণত দুই বছরের নিচে বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায় না।বয়সন্ধিকালের পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে।
এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ১০ বছর বয়সী ৬০ শতাংশ শিশুর কমপক্ষে একবার নাক দিয়ে রক্ত পড়েছে।

#ঋতুর প্রভাব: শীতকালে এই রোগের প্রকোপ বেশী দেখা যায় সম্ভবত দুই কারণে:-
১| এই সময় শ্বাসনালীর ইনফেকশন বেশী হয়। (URTI)
২| বায়ু শুষ্ক থাকে।

#নাকের কোন স্থান থেকে রক্ত পড়েঃ
বাচ্চা এবং বড় দুই গ্রুপেরই এপিসটেক্সিসের কমন জায়গা হলো নাকের পার্টিশনের অগ্রভাগ। নাকের পার্টিশনের এই অংশ পাতলা এবং শুষ্ক বাতাসের বেশী কাছে থাকে। এই জায়গাতে রক্তনালিকার একটি প্লেক্সাস থাকে যাকে কিজেলবাক্স প্লেক্সাস বা লিটিলস এরিয়া বলে এবং একটি ভেইন থাকে যাকে রেট্রোকলুমেলার ভেইন বলে।

#এপিসটেক্সিসের কারণঃ
বাচ্চাদের এপিসটেক্সিসের কারণ হিসাবে সবচেয়ে বেশি যে দুইটি জিনিসকে চিন্তা করা হয় তা হল নাকের অগ্রভাগের শুষ্কতা এবং চল্টা হওয়া (Crusting)।চল্টা সরানোর পরে নিচ থেকে রক্তপাত হয়।
আগে ধারণা করা হতো এপিসটেক্সিসের বেশীরভাগ কারণ অজ্ঞাত (Idiopathic) কিন্তু বর্তমানকালে এস. অরিয়াস নামক ব্যাকটেরিয়ার প্রদাহ সংক্রান্ত নতুন রক্তনালীর জন্ম হওয়াকে দায়ী করা হয়।

#এপিসটেক্সিসের কিছু কমন কারণ তুলে ধরা হলঃ
১| আঙ্গুল দিয়ে নাক খোচানো।
২| এলার্জি
৩| ইনফেকশন (ব্যাকটেরিয়াল/ভাইরাল)
৪| ফরেইন বডি (বাচ্চারা নাকের ভিতর পুতি,কাগজ,ফোম ইত্যাদি ঢুকিয়ে রাখে)।
৫| নাকের পার্টিশন/হাড় বাকা
৬| নাকে আঘাত লাগা
৭| টিউমার
৮| রক্তজমাট বাধা সংক্রান্ত সমস্যা
৯| ডেঙ্গুজ্বর
১০।ইত্যাদি

#করণীয়ঃ-
ক. হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়লে কি করণীয়?
খ. বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়লে কি করণীয়?

#ক. হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়লে করণীয়ঃ-
হঠাৎ করে রক্ত পড়লে নাকের অগ্রভাগ ১০-১৫ মিনিট যাবৎ আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। তাতে কাজ না হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেক্ষেত্রে নাকে প্যাক দেয়া বা কটারি করা লাগতে পারে।

#খ. বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়লে করণীয়ঃ-
কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো-
১| নাকের মিউকোসাকে
আর্দ্র রাখার জন্য ডাক্তার নরমাল স্যালাইন ড্রপ অথবা নরমাল স্যালাইন স্প্রে দিতে পারেন।
২| পেট্রোলিয়াম জেলি নাকের ভিতর ব্যবহার করা।
৩| এন্টিসেপটিক মলম ব্যবহার করা (আমাদের দেশে নিওমাইসিন অয়েন্টমেন্ট, মিউপিরোসিন অয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়( ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত)।

এতে কাজ না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করবেন।
অনেক ক্ষেত্রে কেমিক্যাল কটারি বা ইলেকষ্ট্রোকটারির প্রয়োজন হতে পারে।
কখনো কখনো লিমিটেড সেপেটাপ্লাস্টি অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।

#প্রতিরোধঃ/উপদেশঃ
চিকিৎসা দেবার পর বাচ্চার বাবা মাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।
বাচ্চার হাতের নখ নিয়মিত কাটতে হবে এবং পরিষ্কার করতে হবে। যদি সর্দি, এলার্জি থাকে তবে এ সংক্রান্ত উপদেশ মেনে চলতে হবে এবং চিকিৎসা নিতে৷ হবে।

ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান
এমবিবিএস,এফসিপিএস(ইএনটি)
নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ
খিদমাহ হাসপাতাল, ঢাকা।

:Scott Brown ENT text,8th edition.

দাতঁ ভেঙে গেলে কি করনীয় ঃদাঁত শরীরের অন্যতম শক্ত ও মজবুত অঙ্গ হলেও কোনো কোনো পরিস্থিতিতে তা ভেঙে যেতে পারে। দাঁত ভাঙলে অ...
04/11/2021

দাতঁ ভেঙে গেলে কি করনীয় ঃ

দাঁত শরীরের অন্যতম শক্ত ও মজবুত অঙ্গ হলেও কোনো কোনো পরিস্থিতিতে তা ভেঙে যেতে পারে। দাঁত ভাঙলে অসহনীয় ব্যথার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এই ভাঙা দাঁতের স্থায়ীত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। নানা কারণেই দাঁত ভাঙতে পারে:

১. সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা, খেলাধুলায় আঘাতে কিংবা পড়ে গিয়ে দাঁত ভাঙতে পারে।

২. শক্ত খাবার যেমন হাড়, শক্ত ক্যান্ডি কিংবা শক্ত কিছু কামড়াতে গিয়ে দাঁত ভাঙতে পারে। ছোটখাটো দানা, বিচি, যেমন শুকনা মরিচের বিচি, পেয়ারার বিচিতে কামড় লেগেও দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৩. দাঁতের ক্ষয়রোগেও এ অবস্থা হতে পারে।

৪. দীর্ঘদিন মেডিকেটেড টুথপেস্ট বা একই টুথপেস্ট ব্যবহারের কারণেও দাঁত ভাঙতে পারে।

৫. বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষত বয়স পঞ্চাশের পর অনেকেরই দাঁতে ফাটল ধরে।

অনেক সময় দাঁত এমনভাবে ভাঙে যে বোঝাও যায় না। দাঁতে ক্ষয় না থাকলে কোনো কিছু কামড় দিয়ে ব্যথা লাগলে কিংবা ঠান্ডা বা গরমের অনুভুতি বেশি হলে, বুঝতে হবে দাঁত ভেঙেছে বা ফাটল ধরেছে। দাঁত ভাঙার ধরনেও রয়েছে ভিন্নতা:

● দাঁতের এনামেলে (বাইরের শক্ত আবরণ) ছোট ফাটল দেখা দিতে পারে। এতে কোনো ব্যথা হয় না, চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই।

● মাড়ির উপরিভাগে দৃশ্যমান দাঁতের অংশ বা দাঁতের ফিলিংয়ের অংশজুড়ে ভেঙে যেতে পারে। এতেও খুব একটা ব্যথা হয় না।

● দাঁতের উপরিভাগ থেকে মাড়ি পর্যন্ত এ ফাটল দেখা যায় বা ভেঙে যায়। এভাবে ভাঙলে দাঁত শিরশির করে। ব্যথাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতটি রক্ষা করা যায়।

● মাড়ির নিচে দাঁত ভাঙলে বা ফাটল ধরলে সংক্রমণ না হওয়া পর্যন্ত খুব একটা বোঝা যায় না। এ ক্ষেত্রে দাঁত তুলে ফেলতে হয়।

● অনেক সময় উপরিভাগ থেকে মাড়ির নিচ পর্যন্ত দাঁত ভেঙে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুরো দাঁত না ফেলে একটি অংশ রেখে দেওয়া যায়।

দাঁত ভাঙার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন। এর মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো:

১. ভেঙে যাওয়া অংশ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ক্রাউন পদ্ধতি কার্যকর। মেটাল, পোরসেলিন, সিরামিকের তৈরি ক্রাউনে দাঁত আগের মতোই আকার, রং, চেহারা ফিরে পায়।

২. সামনের দিকের আংশিক ভাঙা দাঁতে ভেনিয়ার বা কম্পোজিট রেজিনের ব্যবহার একটি আধুনিক চিকিৎসা।

৩. ভেঙে যাওয়া দাঁতটি রক্ষা করা না গেলে একটি আধুনিক ও স্থায়ী সমাধান হতে পারে ডেন্টাল ইমপ্লান্ট।

৪. দাঁত ভাঙার পর পাল্প টিস্যুতে সংক্রমণ হতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় রুট ক্যানেল করা হয়।

৫. ভাঙা দাঁতে কোনো ব্যথা না থাকলে ফিলিং একটি নিরাপদ পদ্ধতি।

সবচেয়ে বড় কথা, দাঁত ভেঙে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। নয়তো এই ভাঙা অংশগুলো থেকে জিহ্বা বা ঠোঁট কেটে যেতে পারে। ভাঙা দাঁত দিয়ে চিবানো বা কামড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে।..................................
Collected

 া_নারী_থেকে_পুরুষ_হওয়াগত কয়েকদিন আগে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে লাভলী আক্তার নামের একটা বালিকা হঠাৎ ...
12/10/2021

া_নারী_থেকে_পুরুষ_হওয়া
গত কয়েকদিন আগে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে লাভলী আক্তার নামের একটা বালিকা হঠাৎ ছেলেতে রূপান্তরিত হয়ে আবদুল্লাহ জিসান নাম ধারণ করেছে বলে প্রায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা ছোটবেলা থেকেই এরকম আরো ঘটনা শুনেছি এবং এগুলো অলৌকিক কিছু বা ভুয়া কিছু ভেবেই ধরে নিয়েছি। শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীতে ১৯৭০ সালের আগে এই ধরনের ঘটনা নিয়ে তেমন রিসার্চ হয়নি। এই অলৌকিক জিনিসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করতে আজ একটু দীর্ঘ লেখা লিখছি। ব্যপারটা মেডিকেলিয় হলেও আমি যথাসাধ্য সর্বসাধারণের উপযোগী করে লেখার চেষ্টা করবো।
১৯৭০ সাল, পূর্বপাকিস্তানে তখনো ইতিহাসের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়টি হয়নি। নিউইয়র্কের কর্নেল মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডাঃ জুলিয়ান ইম্পেরাতো ম্যাকগিনলে সাহেবের সহকারী ওনাকে ডোমিনিকান রিপাবলিক নামক দেশের একটা নিভৃত গ্রামের এক অদ্ভুত তথ্য দিলেন। সেই গ্রামে অনেক বালিকা ১২-১৩ বছরের দিকে ছেলেতে রূপান্তরিত হচ্ছে। ডাঃ ম্যাকগিনলে সাহেব এই খবরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পাত্তাড়ি গুটিয়ে ডোমিনিকান রিপাবলিকে এসে পৌঁছুলেন দিন কয়েকের ভেতরে। সেই গ্রামে গিয়ে দেখলেন ব্যপারটা আসলেই সত্য। তিনি শুনলেন যে এই ঘটনা সেই গ্রামে নতুন কিছু নয়। এই ধরনের রূপান্তরিত বাচ্চাদের গ্রামবাসী নামের শেষে গুয়েভেদোজ (Guevedoce) টাইটেল লাগিয়ে দেয়। Guevedoce শব্দ ইংরেজি করলে হয় P***s at twelve অর্থাৎ “১২ তে পুংলিঙ্গ”। সেই থেকে আজো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই Guevedoce দ্বারা এইরকম রূপান্তরিতদের বোঝানো হয়। ডাঃ ম্যাকগিনলে পরবর্তী ৩ বছর সেখানে থেকে গেলেন ও একের পর এক গবেষণা চালাতে লাগলেন। ১৯৭৪ সালে বিশ্ববিখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি Merck & Co. এর হেড অফ রিসার্চ Roy vegelos এর সাথে মিলিত ভাবে রূপান্তরের ম্যাকানিজম আবিষ্কার করেন ও সেই গ্রামবাসীকে এই রূপান্তরের পরবর্তী কিছু জটিলতা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য Finasteride নামক অষুধ আবিষ্কার করেন।

এবারে ইতিহাস ছেড়ে কার্যকারণে আসি। নন মেডিকেল পাঠকের জন্য কয়েকটি শব্দ আগে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

১) প্রাইমারি সেক্স ক্যারেক্টারঃ-
এটা হল মায়ের পেটের ভেতরে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা ভাবে তৈরি হওয়া বৈশিষ্ট্য। এটা প্রধানত লিঙ্গের আকৃতি ও গঠনকেই বোঝানো হয়। নাহয় জন্মের পরে শুধুমাত্র লিঙ্গ ছাড়া ছেলে বা মেয়ে কিনা সেটা আলাদা করার উপায় থাকেনা। লিঙ্গ ছাড়াও প্রাইমারি সেক্স ক্যারেক্টারে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ, ছেলে বা মেয়েদের আলাদা মানসিকতা-চলাফেরা-খেলার স্বভাব- বাচনভঙ্গি-পোশাক নির্বাচন- বিপরীত লিঙ্গের অভিভাবকের সাথে আচরণ ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত।

২) সেকেন্ডারি সেক্স ক্যারেক্টারঃ-
এটা হলো ১২-১৩ বছর বয়সে যৌন অঙ্গ থেকে থেকে দ্বিতীয় দফায় আমাদের রক্তে পুরুষালি বা মেয়েলি হরমোন নিঃসরণ শুরু হবার ফলে সৃষ্ট শারীরিক পরিবর্তন । এটা খুবই প্রকট। ছেলেদের স্বর ভারী ও মোটা হয়, মেয়েদের হয় কোমল ও চিকন এছাড়া ছেলেদের শুক্রাণু সৃষ্টি, ছেলে ও মেয়ের আলাদা লিঙ্গের আকৃতি ও স্তন পরিবর্তন, শরীরের নতুন স্থানে লোম গজানো, মাংশপেশি ও হাড়ের গঠনে পরিবর্তন, উচ্চতা-রক্তের ঘনত্ব-চরিত্র-মানসিকতা ইত্যাদি প্রকটভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে এই সময়। একে সুন্দর বাংলায় বয়ঃসন্ধিকাল বলে।

৩) টেস্টোস্টেরনঃ-
এটা পুরুষের যৌন হরমোন। এর কারণে একটা মানুষ পুরুষ হয়ে উঠে মায়ের পেট থেকে। এই টেস্টোস্টেরন দুই দফায় নিঃসরণ হয়। প্রথমবার হয় আমাদের মা যখন ৮ সপ্তাহ বা ২ মাসের গর্ভবতী ছিলেন তখন। সেই প্রথম দফার নিঃসরণের কারনে আমরা মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছি। নাহয় সব মানুষই প্রথমে নারীর বৈশিষ্ট্য নিয়েই বড় হতে থাকে। টেস্টোস্টেরন প্রথমবার নিঃসরণের কারণে আমাদের ছেলেদের লিঙ্গটি মেয়েদের চেয়ে আলাদা হয়ে গঠিত হয় মায়ের গর্ভতেই। এই হরমোন আবার দ্বিতীয় দফায় নিঃসরণ হয়েছে ১২ বছর বয়সে আমাদের অন্ডকোষ থেকে একটু পরিবর্তিত রূপে। এর কারণেই আজ দুই ধরণের লিঙ্গের মানুষ আমার লেখা পড়তে পারছে। ধন্যবাদ টেস্টোস্টেরন কে।

এবারে মেডিকেলিয় কথায় ঢুকি।

আমাদের কোষের ২৩ সেট ক্রোমোজোমের ভেতরে ২য় সেটে SRD5A2 নামের একটা জিন আছে। এই জিনের কাজ হলো একটা এনজাইম বানানো। এই এনজাইমের দীর্ঘ একটা নাম আছেঃ 3-oxo-5α-steroid 4-dehydrogenase 2 এই লম্বা নামের পরিবর্তে একে 5α-reductase type 2 বা 5αR2 নামেও ডাকা যাবে,নো প্রবলেম। এই এনজাইম হলো টেস্টোস্টেরনের শিক্ষক। শিক্ষক যেভাবে আমাদের দ্বিতীয়বার মানুষ বানায় সেভাবে এই এনজাইম কাঁচা Testosterone কে পাকা ও কর্মক্ষম Dihydrotestosterone (DHT) বানিয়ে দেয় ।এই ঘটনাটি হয় মায়ের পেটে ২ মাস বয়সে। এই DHT হরমোনই ছেলে সন্তানের প্রাইমারি সেক্স ক্যারেক্টার গুলো সৃষ্টি করে ধীরে ধীরে।
অনেকের এই SRD5A2 জিনে একটু পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়ে যায়। এর ফলে সে 5αR2 এনজাইমও বানাতে পারেনা যার ফলে DHT ও সৃষ্টি হয়না। তাই বাচ্চাটির বাইরের লিঙ্গ আর ছেলে হিসেবে বাড়ে না। আগে যেভাবে মেয়ের প্রাইমারি সেক্স ক্যারেক্টার নিয়ে বড় হচ্ছিল বলেছিলাম সেভাবেই হতে থাকে। কিন্তু শরীরের ভেতরে অপরিণত অবস্থায় অন্ডকোষ অবস্থান করে। এই বাচ্চা জন্মের পরে সবাই পায়ের মাঝে একটা স্পষ্ট স্ত্রীলিঙ্গই দেখতে পাবে তাকালে। কোনরকম জেনেটিক বা হরমোনাল পরীক্ষা না করালে কোন ডাক্তার বা বিজ্ঞানীরো সাধ্য নেই যে এই বাচ্চাকে পুরুষ বলে স্বীকৃতি দিবে। (কিছু ক্ষেত্রে মেয়ে ছেলের মিক্স করা আকৃতির অদ্ভুত যৌনাঙ্গ দেখা যায় যেমন অত্যন্ত ক্ষুদ্র পেনিস/ছিদ্রবিহীন পেনিস/অন্ডকোষ বিহীন পেনিস/ যোনিপথের উপরে অবস্থিত পেনিস ইত্যাদি। এটাকে ambiguous genitalia বলা হয় তখন)। কিন্তু সিনেমা এখনো যে বাকি সেটা কেউ জানেনা। এই বাচ্চা ২ নাম্বার ক্রোমোজমের গোলমালের কারণে মেয়ে হিসেবে জন্ম নিলেও তার ২৩ নাম্বার ক্রোমজমে ছোট্ট একটা Y ক্রোমোজম লুকিয়ে আছে সেটা কেউ আর বুঝে না। কারণ Y ক্রোমোজোম এখনো তার ফাইনাল কারিশমা দেখায়ইনি।
এই বাচ্চা বাইরে মেয়ে ও ভেতরে সুপ্ত ছেলে নিয়ে বড় হতে থাকবে। যখন ১২ বছরে পদার্পন করবে তখন Y ক্রোমোজোমের সিগন্যাল অনুসারে শরীরের ভেতরের অপরিণত অণ্ডকোষ এর “লিডিগ কোষ” থেকে হঠাৎ প্রচুর পরিমাণে অক্সিডাইজড টেস্টোস্টেরন বের হতে থাকবে। সে সময় আর DHT এর প্রয়োজন হয়না। মনে রাখতে হবে DHT এর কাজ শুধু প্রাইমারি সেক্স ক্যারেক্টারে সৃষ্টিতে ও পরবর্তীতে প্রয়োজনে এটি ল্যাবরেটরিতে আলাদাভাবে বানানো যায় কিছু রোগের চিকিৎসার জন্য। যাহোক, টেস্টোস্টেরন বের হবার সাথে সাথেই দ্রুত আবার পুরুষের স্বভাব সৃষ্টি হতে থাকে। স্ত্রীলিঙ্গের ক্লিটোরিস বা ভগাংকুর নামের অংশটি হঠাৎ খুব দ্রুত লম্বা হয়ে পুরুষের শিশ্নের মত হয়ে যায় আর ভেতর থেকে অন্ডকোষ বেরিয়ে আসে পরিপক্ক হয়ে। হঠাৎ মেয়ের দাঁড়ি গোঁফ গজাতে থাকে, কন্ঠ পালটে যায়, স্তন ছোট হয়ে আসে। এসব ঘটনা দুয়েক মাসের ভেতরেই হতে পারে। তবে ১২-১৩ বছর পরে এটাকে আকস্মিক ঘটনা বলাই যায়। এই রূপান্তরিত ছেলে পরবর্তী জীবন ছেলে হিসেবেই কাটাবে। ধীরেধীরে পুরুষ হয়ে উঠাকে virilization বলা হয়। এই virilization এর বিভিন্ন স্টেজ নিয়ে সুইস চিকিৎসক আন্দ্রে প্রাডা একটা স্কেল আবিষ্কার করেছেন সেটাকে প্রাডার স্কেল বলা হয়। আমি সেই স্কেলের ছবি যুক্ত করেছি। লিঙ্গ পরিবর্তনের স্টেজ গুলো বুঝতে পারবেন সেটা দেখে।

এই হলো মেয়ে থেকে ছেল হয়ে যাবার রহস্য। কিন্তু DHT তৈরি না হবার কারনে মায়ের পেটে সেই মেয়েরূপী পুরুষের প্রস্রাবের থলির নিচে লাগানো প্রোস্টেট গ্রন্থি নামক অঙ্গটি ভালো ভাবে তৈরি হয়না এবং ১২ বছর বয়সেও অন্য অঙ্গের সাথে প্রোস্টেট ঠিকমত বাড়ে না তাই রূপান্তরিত ছেলেটির প্রস্রাবের সময় অসুবিধার সৃষ্টি হয় এর কারণেই সেই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি Merck & Co. ফিনাস্টেরাইড নামক অষুধটি বানিয়েছিল। এই অষুধের কাজ প্রোস্টেট গ্রন্থিকে ভালভাবে কাজ করতে দিয়ে প্রস্রাব করা সহজ করা।
Guevedoce অবস্থা কে মেডিকেলে কিছু জটিল নামে ডাকা হয়। যেমন
familial incomplete male pseudohermaphroditism type 2
Male pseudohermaphroditism due to 5-alpha reductase deficiency
pseudovaginal perineoscrotal hypohypospadiasroid (PPHS)
5-alpha-reductase-deficiency

রহস্যাবৃত এই রূপান্তর নিয়ে আশা করি আমাদের আর দ্বিধা থাকবেনা।

©ডাঃ আসির মোসাদ্দেক সাকিব

দাঁতের রুট ক্যানাল চিকিৎসা আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষের একটি সাধারণ ধারণা দাঁতে ব্যাথা হলে দাঁত তুলে দেয়া।দাঁত তোলার অনেক...
11/10/2021

দাঁতের রুট ক্যানাল চিকিৎসা

আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষের একটি সাধারণ ধারণা দাঁতে ব্যাথা হলে দাঁত তুলে দেয়া।

দাঁত তোলার অনেক গুলো ক্ষতিকর দিক রয়েছে। সেটা অন্য একদিন আলোচনা করবো।আপাতত কিভাবে সেটিকে পাশ কাটিয়ে দাঁতকে রক্ষা করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করি।

প্রশ্ন ঃ
রুট ক্যানাল কি ও কখন করতে হয়?

উত্তর ঃ যখন কোন দাঁতের ক্যাভিটি(গর্ত) হয় এবং সেটি দাঁতের সর্ববহিঃস্থস্তর এনামেল ও তার পরবর্তী স্তর ডেন্টিনকে ভেদ করে দাঁতের একদম ভেতরের স্তর পাল্প (নার্ভ ও রক্তনালি অবস্থান করে এখানে) কে আক্রান্ত করে এবং প্রচন্ড ব্যাথা সাথে অনেক সময় দাঁতের গোড়া ফুলে ওঠে তখন, ওই আক্রান্ত পাল্প লেয়ারকে সরিয়ে সেখানে জীবাণুমুক্ত করে, কৃত্রিম ঔষধের মাধ্যমে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে রুট ক্যানাল বলা হয়।

প্রশ্নঃ রুট ক্যানেলের উপকারীতা কি?

উত্তরঃ সাধারণত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত এসব দাঁত ফিলিং করে বা ওষুধ খেয়ে ঠিক করা সম্ভব নয়।ব্যাথা হতেই থাকবে এবং এ ধরনের ইনফেকটেড দাঁত থেকে পরবর্তী তে আরও খারাপ অবস্থা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সেখানে সমাধান ১.আক্রান্ত দাঁত তুলে ফেলা।
২. রুট ক্যানাল করা।

যেহেতু দাঁত তোলার ক্ষতিকর দিক বেশী তাই রুট ক্যানেল করে দাঁতটা রক্ষা করাই শ্রেয়।

প্রশ্ন ঃ রুট ক্যানাল করা দাঁত কতদিন ভালো থাকে।
উত্তর ঃ সঠিকভাবে করলে ও পরবর্তী যত্ন নিলে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

প্রশ্ন ঃ ক্যাপ বা ক্রাউন কি?
রুট ক্যানেল করলে কি ক্যাপ বা ক্রাউন করতে হয়?

উত্তর ঃ ক্যাপ হলো সংকর ধাতু বা মিশ্র ধাতু অথবা শুধুমাত্র একটি ধাতু দ্বারা নির্মিত অবিকল সংশ্লিষ্ট দাঁতের মত দেখতে একটি আবরণ যা রুট ক্যানেল করা দাঁত অথবা প্রয়োজন এ অন্য দাঁতকে কেটে মাপ নিয়ে,ল্যাব এ তৈরী করে, ওটার উপর বসাতে হয়।

রুট ক্যানেল করলেই সেই দাঁত এ ক্যাপ করার বাধ্যবাধকতা নেই তবে ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দাঁতে করতে হয়।

প্রশ্ন ঃ রুট ক্যানেল কোথায় করাবো?

অবশ্যই যেকোন বিডিএস ডাক্তার দ্বারা করাবেন। একমাত্র বিডিএস ডিগ্রি ধারী ডাক্তার ছাড়া এটি করার আইনগত অধিকার ও পুঁথিগত জ্ঞান কারও নেই।

মনে রাখবেন একমাত্র রুট ক্যানাল চিকিৎসাই আপনার ব্যাথাযুক্ত দাঁতকে সংশ্লিষ্ট স্থানে ব্যাথাহীনভাবে ধরে রাখতে পারে। সুতরাং অযথা দাঁত না তুলে দাঁতটিকে রক্ষা করুন।

(নিচে ছবিতে পুরো প্রক্রিয়ায় বর্ণনা রয়েছে)

ডা. তন্ময় দত্ত
বিডিএস

29/09/2021

★ মাউথওয়াশ ★

আমরা অনেকেই চিকিৎসনীয় কোনো কারন ছাড়াই মাউথওয়াশ ব্যবহার করার ধারনা পোষন করি। কারন অনেকেই মনে করে থাকেন মাউথওয়াশ মুখের দুর্গন্ধ দুর করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আসল বিষয় হলো মুখ ও মাড়ীর রোগের সঠিক চিকিৎসা ও যথাযথভাবে ব্রাশিং, ফ্লসিং ও মুখগহ্বরের পরিস্কার পরিছন্নতা মুখের দুর্গন্ধ দুর করার ক্ষেত্রে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।
মাউথওয়াশ নিয়ে আমাদের নানারকম প্রশ্ন মনে আসে, তাই মাউথওয়াশ জিনিসটি কি, কেন,কোথায়, কিভাবে ও সতর্কতাজনক ব্যবহারবিধি নিয়ে আজকের আলোচনা।

মাউথ ওয়াশ কি?

মাউথ ওয়াশ হলো বিভিন্ন ঔষধ মিশ্রিত এক ধরনের অ্যান্টিসেপটিক বা জীবানুনাশক দ্রবণ, যা কুলি করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

মাউথ ওয়াশের ব্যবহার কি কি?

অ্যান্টিসেপটিক বা অ্যান্টিপ্ল্যাক মাউথ ওয়াশ
মুখ ও মুখগহ্বরের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধে মাউথ ওয়াশ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
দাতঁ ও মাড়ির প্রদাহ, প্লাক, মুখের দুর্গন্ধ,
মুখ গহ্বরের অপারেশনের পর যখন কোনো রোগী দাতঁ ব্রাশ করতে পারেনা, সে সময় মাউথ ওয়াশ দাঁত ব্রাশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়, কিছু মাউথ ওয়াশে দাতঁ ক্ষয়রোধ করা ও শিরশির রোধ করার কাজে সহযোগী ভূমিকায় ব্যবহৃত হয়।

মাউথ ওয়াশের ধরন -

USFDA (আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) মাউথ ওয়াশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছে।

-কসমেটিক মাউথ ওয়াশ
(দাঁত ব্রাশের আগে বা পরে ব্যবহার করা যায়, এটি হালকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করে এবং সাময়িকভাবে মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। এটি ১০ মিনিট থেকে ২/৩ ঘন্টা পর্যন্ত মুখের সজীবতা ও দুর্গন্ধ দুর রাখতে পারে)

- থেরাপিউটিক মাউথ ওয়াশ
(এটিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়,
অ্যান্টিপ্ল্যাক বা মাঢ়ির প্রদাহবিরোধী ও
অ্যান্টিক্যাভিটি বা দন্ত ক্ষয়বিরোধী)

-কসমেটিক ও থেরাপিউটিক এর সমন্বিত মাউথ ওয়াশ

মাউথ ওয়াশের উপাদান সমুহ কি?

মাউথ ওয়াশে সাধারনত যেসব উপাদান ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেগুলো হলো হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, সোডিয়াম বেনজোয়েট, ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট, ফ্লোরাইড, পোভিডন- আয়োডিন, ইউক্যালিপটল, থাইমল, নাইট্রিক অক্সাইড,হেক্সিটিডিন, ফেনল, এলকোহল, বেনজাডয়ামিন হাইড্রোক্লোরাইড, মিথাইল স্যালিসাইলেট,এসেনশিয়াল অয়েল ইত্যাদি।

মাউথ ওয়াশ ব্যবহার এর নিয়ম -

মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের পুর্বে সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ ও ফ্লসিং করে নেওয়া উচিত। দুই চামচ মাউথ ওয়াশ সমপরিমাণ পানির সাথে মিশিয়ে অথবা ডেন্টিষ্ট / চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণে ব্যবহার করতে হয়। মাউথ ওয়াশ ৩০ সেকেন্ডের জন্য মুখের ভিতরে রেখে কুলকুচো করা হয়। মাউথওয়াশটি ফ্লোরাইডযুক্ত হলে এক মিনিট কুলকুচা করতে হয়। মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের ৩০ মিনিটের মধ্যে খাওয়া দাওয়া করা উচিত নয়। এতে মাউথ ওয়াশের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে বা নষ্ট হয়ে যায়।

মাউথ ওয়াশ ব্যবহারে সতর্কতা -

- মাউথওয়াশ ব্যবহারে দাঁতে দাগ পড়তে পারে/ সাময়িক বিবর্ন হয়ে যেতে পারে।
- মুখের অভ্যন্তরে শুষ্কভাব বিরাজ করতে পারে।
-মুখের ভেতরে জ্বালাপোড়া বা প্রদাহজনিত অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে।
- মাত্রা অতিরিক্ত ব্যবহারে মুখে ঘা বা আলসার দেখা দিতে পারে।
- মুখের স্বাদে তিন থেকে চার ঘণ্টার জন্য পরিবর্তন হতে পারে, যা কোনোকোনো সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
- মাউথওয়াশগুলো এন্টিসেপটিক ও এন্টিব্যাকটেরিয়াল হওয়ার কারনে মুখগহ্বরের সকল ব্যাকটেরিয়াকে নির্বিচারে ধ্বংস করে, কিন্তু দাঁতের ক্ষয় ও মুখের অন্যান্য অসুখের জন্য দ্বায়ীমাত্র কিছু ব্যাকটেরিয়া, বাকী বেশীরভাগ ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষাকারী হিসাবে রোগজীবাণু এর বিরুদ্ধে কাজ করে।
- সম্প্রতি প্রকাশিত ফ্রি রেডিক্যাল বায়োলজি অ্যান্ড মেডিসিন জার্নালে গবেষণায় বলা হয়েছে নিয়মিত মাউথওয়াশ এর ব্যবহার বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা৷
- ব্রিটিশ ডেন্টাল জার্নালে (নভেম্বর, ২০১৮)
প্রকাশিত হয়েছে নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যাবহার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় প্রায় ৫০ শতাংশ।

তাই চিকিৎসক/ডেন্টিস্ট এর পরামর্শ/ নিতান্তই প্রয়োজন ব্যতীত মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

লেখক -
আশিক ইকবাল
সিইও,
ডেন্টাল এক্সপ্রেস (বিডি) Dental Express

Address

Rajshahi

Telephone

+8801865488002

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Haque Dental Care - হক ডেন্টাল কেয়ার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share