19/02/2026
রমযানে চিকিৎসা গ্রহণ ও ওষুধ ব্যবহার
মাসআলা : যত ধরনের ওষুধ সরাসরি মুখের ভেতর দিয়ে গ্রহণ করতে হয় এবং তা গলার ভেতর প্রবেশ করে, এসব ওষুধের দ্বারা যে রোযা ভেঙে যাবে তা তো স্পষ্ট। তবে দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য ডাক্তারের পরামর্শে এ ধরনের ওষুধ দিনে গ্রহণ করা একান্ত জরুরি হলে তা করতে পারবে। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে উক্ত রোযাটি কাযা করে নিতে হবে।
মাসআলা : রোযা অবস্থায় কানের ভেতর তেল, ড্রপ বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। এর দ্বারা রোযা ভাঙবে না। –মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী (দশম সংখ্যা) ২/৪৪৪, ৩৬৫; আল মাওসূআতুত তিব্বিয়া আলফিকহিয়্যা, পৃ. ৬২৪
মাসআলা : রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ-ওষুধ ব্যবহার কিংবা সুরমা লাগালে রোযার ক্ষতি হয় না। সেই ওষুধের স্বাদ গলায় অনুভব করলেও রোযা ভাঙবে না।
মাসআলা : রোযা অবস্থায় নাকে ড্রপ, স্প্রে ইত্যাদি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ নাকে ড্রপ ব্যবহারের পর যদি ওষুধ গলার ভেতর চলে যায়, তাহলে রোযা ভেঙে যাবে। আর নাকে ওষুধ দিলে তা সাধারণত গলার ভেতর চলেই যায়। –মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী (দশম সংখ্যা) ২/৪৫৪; আলমাওসূআতুত তিব্বিয়া আলফিকহিয়া, পৃ. ৬২৪
মাসআলা : পেটের এমন ক্ষতে ওষুধ লাগালে রোযা ভেঙে যাবে, যা দিয়ে ওষুধ পেটের ভেতর চলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে এমন ক্ষতে ওষুধ লাগালে পরবর্তীতে সে রোযার কাযা করে নিতে হবে। –ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪০২
মাসআলা : রোযা অবস্থায় অক্সিজেন নিলে রোযা ভাঙবে না। –ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩০০
ক্যাথেটার লাগানো
মাসআলা : পুরুষ বা মহিলার পেশাবের রাস্তায় কিংবা মহিলাদের জরায়ুতে কোনো ধরনের ওষুধ বা ক্যাথেটার কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোনো যন্ত্র ইত্যাদি প্রবেশ করালে রোযা ভাঙবে না। –মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী (দশম সংখ্যা) ২/৩৬৫, ৪৫৪; যাবিতুল মুফাত্তিরাত, পৃ. ১৭৬
ঢুশ বা সাপোজিটরি ব্যবহার
মাসআলা : রোযা অবস্থায় ঢুশ বা সাপোজিটরি ব্যবহার করলে রোযা ভেঙে যাবে। –মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী (দশম সংখ্যা) ২/৩৪৪; যাবিতুল মুফাত্তিরাত, পৃ. ১৭৪
রক্ত দেওয়া-নেওয়া
মাসআলা : রোযা অবস্থায় রক্ত দেওয়া-নেওয়া দুটোই জায়েয। এর কারণে রোযা ভাঙবে না। –ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী ১০/২/৪৬৪
ডায়ালাইসিস
মাসআলা : রোযা অবস্থায় ডায়ালাইসিস করা যাবে। এর দ্বারা রোযা ভাঙবে না। কারণ ডায়ালাইসিসে শুধু রক্ত বের করা ও প্রবেশ করানো হয়। আর রক্ত বের করা ও প্রবেশ করানোর কারণে রোযা ভাঙে না। –ফিক্হুন নাওয়াযিল ২/৩০০
ইনজেকশন ও ইনসুলিন
মাসআলা : ইনজেকশন বা ইন্সুলেনের কারণে
রোযা ভাঙে না। রোযা অবস্থায় তা নিতে অসুবিধা নেই। অবশ্য যেসকল ইনজেকশন খাদ্যের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, জটিল ওযর ছাড়া তা নিলে রোযা মাকরূহ হবে। –ফাতহুল কাদীর ২/২৫৭; যাবিতুল মুফাত্তিরাত পৃ. ৬৯; জাওয়াহিরুল ফিকহ ১/৩৬৯; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী ১০/২/৪৫৪
ইনহেলার
মাসআলা : রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোযা ভেঙে যায়। তাই সাহরির শেষ সময় এবং ইফতারের প্রথম সময় ইনহেলার ব্যবহার করলে যদি তেমন অসুবিধা না হয়, তবে রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কিন্তু অসুস্থতা বেশি হওয়ার কারণে যদি দিনেও ব্যবহার করা জরুরি হয়, তাহলে তখন ব্যবহার করতে পারবে।
সেক্ষেত্রে করণীয় হল–
১. উক্ত ওযরে দিনের বেলা ইনহেলার ব্যবহার করলেও অন্যান্য পানাহার থেকে বিরত থাকবে।
২. পরবর্তীতে যথাসম্ভব তা কাযা করে নেবে।
৩. আর ওযর যদি আজীবন থাকে, তাহলে ফিদইয়া আদায় করবে। –সূরা বাকারা (০২) : ১৮৪; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহীল ইসলামী ১০/২/৩১-৬৫
টিকা নেওয়া
মাসআলা : যেসব টিকা ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরায় পুশ করে গ্রহণ করা হয়, এসবের দ্বারা রোযা ভাঙে না। তাই রোযা অবস্থায় এ ধরনের টিকা গ্রহণ করতে অসুবিধা নেই। –ফাতহুল কাদীর ২/২৫৭; যাবিতুল মুফাত্তিরাত পৃ. ৬৯; জাওয়াহিরুল ফিকহ ১/৩৬৯; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী ১০/২/৪৫৪
তবে যেসব টিকা মুখে ব্যবহার করা হয় এবং তা গলার ভেতর চলে যায়, তা দ্বারা রোযা ভেঙে যাবে। তাই রোযা অবস্থায় এ ধরনের টিকা নেওয়া যাবে না।
সুগার মাপা
মাসআলা : ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য যে রক্ত নেওয়া হয়, এটিও রোযা ভঙ্গের কারণ নয়। –কিতাবুল আছল ২/১৪৬; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/৪৩৭; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৬
প্যাথলজি পরীক্ষা ও টেস্টের নমুনা সংগ্রহ
মাসআলা : বিভিন্ন প্যাথলজি পরীক্ষা ও টেস্টের জন্য রক্ত পেশাব ও শ্লেষ্মা বা এজাতীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসবের কারণে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। শরীর থেকে কোনো কিছু বের হলে বা বের করা হলে এ কারণে রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। –কিতাবুল আছল ২/১৪৬; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/৪৩৭; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৬; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী ১০/২/৪৬৫
ওষুধের মাধ্যমে মহিলাদের মাসিক নিয়ন্ত্রণ
মাসআলা : ওষুধ খেয়ে মাসিক বন্ধ রেখে যেসকল রোযা রাখা হয়, সেগুলো আদায় হয়ে যাবে। পরে তা কাযা করতে হবে না। তবে এ ধরনের পদ্ধতি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না– তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করে নেওয়া উচিত। –সুন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১২১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ১/৩৯৯; জামিই আহকামিন নিসা ১/১৯৮; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩০৮
মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকা।