New Smile Dental Care

New Smile  Dental  Care New Smile Dental Care is a center for specialty dental treatment, where we provide full mouth rehabilitation with on going follow-up care.

Warm and friendly atmosphere awaits you at New Smile Dental Care.This clinic is equipped with all the latest treatment facilities.The team of doctors and staff working here are qualified and dedicated.All treatment performed at our clinic are done with utmost care and responsibility. Managing Director & Chief Consultant:
Dr. A.K.M. Mazharul Islam Khan

Consulting Hours :
10.00 Am--2.00PM
4.30PM--9.00PM

ভিটামিন কে: সুস্থ দাঁত ও মাড়ির নীরব রক্ষাকবচভিটামিন কে সাধারণত রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পুষ্টি উপাদান হিসেব...
13/12/2025

ভিটামিন কে: সুস্থ দাঁত ও মাড়ির নীরব রক্ষাকবচ

ভিটামিন কে সাধারণত রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পুষ্টি উপাদান হিসেবে পরিচিত হলেও দাঁত, মাড়ি ও পুরো মুখগহ্বরের সুস্বাস্থ্যে এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মুখগহ্বরকে দৈনন্দিন জীবনে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া, খাবারের অম্লতা ও বিভিন্ন ধরনের ঘর্ষণের মুখোমুখি হতে হয়। তাই দাঁত ও মাড়ির অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শক্তি বজায় রাখতে যে ভিটামিনটি নীরবে কাজ করে যাচ্ছে, সেটি হলো ভিটামিন কে।

দাঁতের কাঠামো গঠনে ভিটামিন কে অপরিহার্য। দাঁতের শক্তি নির্ভর করে অস্টিওক্যালসিন নামের একটি প্রোটিনের ওপর, যা দাঁতের খনিজকরণ প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এই অস্টিওক্যালসিন কাজ করতে পারে ভিটামিন কে-এর সাহায্যে। ফলে শরীরে ভিটামিন কে-এর ঘাটতি হলে দাঁত দুর্বল হয়ে যায়, এনামেলের ঘনত্ব কমে যায় এবং সহজেই ক্যাভিটি বা ক্ষয় ধরার সম্ভাবনা বাড়ে। শরীর পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলেও ভিটামিন কে না থাকলে সেই ক্যালসিয়াম দাঁতের ক্ষয়রোধ বা শক্তিবৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

মাড়ির সুস্বাস্থ্যে ভিটামিন কে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট। মাড়ি ফুলে যাওয়া, ব্রাশ করার সময় রক্ত পড়া বা সামান্য আঘাতে রক্তক্ষরণ বেশি হওয়া—এসবের সঙ্গে ভিটামিন কে ঘাটতির সরাসরি সম্পর্ক আছে। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধায় ভূমিকা রাখে বলে মাড়ির ক্ষুদ্র ক্ষতেও রক্তপাত কমে। এছাড়া শরীরের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রতিক্রিয়াকে সক্রিয় করে মাড়ির প্রদাহ, ব্যথা ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। দীর্ঘমেয়াদে মাড়ি সুস্থ না থাকলে দাঁত নড়বড়ে হওয়া বা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, আর ভিটামিন কে সেই ক্ষয়প্রক্রিয়াকে কমিয়ে মুখগহ্বরকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

দাঁতকে ধরে রাখা মুখের অস্থি—অ্যালভিওলার বোন—সুস্থ রাখতে ভিটামিন কে বিশেষভাবে দরকার। এই ভিটামিন হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্থিক্ষয়ের ঝুঁকি কমায়। ফলে দাঁত দীর্ঘ সময় দৃঢ়ভাবে টিকে থাকতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাদের দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে বা হাড় ক্ষয় হচ্ছে, তাদের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভিটামিন কে মূলত দুটি রূপে পাওয়া যায়। ভিটামিন কে১ পাওয়া যায় সবুজ পাতাযুক্ত সবজি যেমন পালং শাক, মুলশাক, কলমি শাক, ধনেপাতা, ব্রকোলি ও সবুজ বাঁধাকপিতে। আর ভিটামিন কে২, যা দাঁত ও মাড়ির জন্য বিশেষভাবে কার্যকর, পাওয়া যায় দই, পনির, ডিম, মাংস এবং কিছু ফারমেন্টেড খাবারে। শরীরের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও কিছু পরিমাণ কে২ তৈরি করে, তাই সুস্থ হজমব্যবস্থা ভিটামিন কে-এর স্বাভাবিক উৎস হিসেবে কাজ করে।

ভিটামিন কে ঘাটতির কিছু লক্ষণ সহজেই চোখে পড়ে—ব্রাশ করলে রক্ত পড়া, মাড়ি ফোলা, দাঁত দ্রুত ক্ষয় হওয়া, ক্ষত শুকাতে সময় লাগা বা সামান্য আঘাতে অতিরিক্ত রক্তপাত। এমন লক্ষণ দেখা দিলে খাদ্যাভ্যাসে ভিটামিন কে বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে যাদের রক্ত পাতলা করার ওষুধ চলছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন কে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

মুখগহ্বরের সুস্থতায় ভিটামিন কে একা কাজ করে না। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম দাঁতের প্রকৃত কাঠামো গঠন করে। তাই এই তিন পুষ্টি উপাদান সমন্বয়ে কাজ করলে দাঁত ও মাড়ির দৃঢ়তা বাড়ে। শুধু ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেলেই দাঁত শক্ত হবে—এ ধারণা ভুল; ভিটামিন ডি ও ভিটামিন কে একসঙ্গে কাজ না করলে ক্যালসিয়াম তার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে না।

মুখের স্বাস্থ্য শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি পুরো শরীরের সুস্থতার সূচনা বিন্দু। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, দই, ডিম, পনির বা ফারমেন্টেড খাবার যোগ করলে ভিটামিন কে-এর ঘাটতি সহজেই পূরণ করা যায়। দাঁতে ব্যথা বা মাড়ির রক্তপাত শুরু হওয়ার আগে থেকেই যদি আমরা এই পুষ্টি উপাদানকে গুরুত্ব দিই, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দাঁত ও মাড়ির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা সহজ হয়।

অতএব, বাহ্যিক পরিচর্যার পাশাপাশি ভিটামিন কে-এর মতো অভ্যন্তরীণ পুষ্টিগত সুরক্ষা দাঁত ও মাড়ির প্রকৃত রক্ষাকবচ। আজ থেকেই খাদ্যাভ্যাসে এই পুষ্টি উপাদানকে অগ্রাধিকার দিলে মুখগহ্বরের সুস্থতা নিশ্চিত করার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

লেখকঃ
ডাঃ এ কে এম মাজহারুল ইসলাম খান
ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জন
ময়মনসিংহ।

দাঁতের স্বাস্থ্য: মুখ থেকে শুরু হয় শরীরের সুস্থতা— ডা. এ কে এম মাজহারুল ইসলাম খানদাঁতের যত্ন নিয়ে অনেকেই ভাবেন এটি কেবল ...
09/12/2025

দাঁতের স্বাস্থ্য: মুখ থেকে শুরু হয় শরীরের সুস্থতা

— ডা. এ কে এম মাজহারুল ইসলাম খান

দাঁতের যত্ন নিয়ে অনেকেই ভাবেন এটি কেবল সৌন্দর্য বা খাওয়ার সুবিধার বিষয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে, দাঁত ও মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের সঙ্গেই সরাসরি সম্পর্কিত। মুখ আসলে আমাদের শরীরের “গেটওয়ে” — এখান থেকেই ব্যাকটেরিয়া ও প্রদাহ ছড়িয়ে যেতে পারে শরীরের অন্যত্র।

দাঁতের সমস্যা কিভাবে শরীরের অন্যান্য অঙ্গে প্রভাব ফেলে

১. হৃদরোগ ও স্ট্রোক:
মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (পেরিওডোন্টাইটিস) দাঁতের গোড়ায় জীবাণুর সংখ্যা বাড়ায়। এসব জীবাণু রক্তনালীর ভেতর প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা রক্তনালীর দেয়াল শক্ত করে ফেলে এবং এথেরোস্ক্লেরোসিস (ধমনী সংকোচন) ঘটাতে পারে। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

> আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক গবেষণা অনুযায়ী, দাঁতের সংক্রমণ থাকা ব্যক্তিদের হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ২০% বেশি।

২. ডায়াবেটিস:
ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে চিনি বেশি থাকার কারণে মুখে জীবাণুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ে। অন্যদিকে মাড়ির প্রদাহ ইনসুলিন প্রতিরোধ বাড়ায়, ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে না — এটি একে অপরকে বাড়িয়ে দেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে “two-way relationship” বলা হয়।

৩. গর্ভাবস্থা ও নবজাতক স্বাস্থ্য:
গর্ভবতী নারীর মাড়ির প্রদাহ প্রি-ম্যাচিউর বার্থ (অকাল প্রসব) ও লো বার্থ ওয়েট (কম ওজনের শিশু জন্ম) এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত দাঁতের চেকআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. ফুসফুসের সংক্রমণ:
যাদের মুখে জীবাণুর সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে, সেই জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

৫. মস্তিষ্ক ও স্নায়বিক প্রভাব:
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মাড়ির জীবাণু Porphyromonas gingivalis মস্তিষ্কে প্রবেশ করে আলঝাইমার রোগ ও স্মৃতিভ্রংশের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

প্রতিরোধে যা করবেন

১. নিয়মিত ও সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করুন — প্রতিদিন দুইবার ২ মিনিট ধরে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করুন।

২. ডেন্টাল ফ্লস ও মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন — দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা সরাতে এগুলো কার্যকর।

৩. চিনি, সফট ড্রিঙ্ক ও অতিরিক্ত চা–কফি সীমিত করুন — এগুলো দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে।

৪. ধূমপান ও পান–জর্দা–গুটখা পরিহার করুন — এগুলো মাড়ির রোগ ও মুখগহ্বর ক্যানসারের বড় কারণ।

৫. নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করুন — প্রতি ৬ মাস অন্তর দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত, কারণ প্রাথমিক সংক্রমণ সময়মতো ধরা পড়লে বড় রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

৬. সুষম খাদ্যগ্রহণ করুন — দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার দাঁতের গঠন মজবুত রাখে।

৭. পর্যাপ্ত পানি পান করুন — মুখের লালা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সহায়তা করে, শুষ্ক মুখ হলে জীবাণুর বংশবৃদ্ধি বেড়ে যায়।

শেষ কথা

দাঁতের যত্ন কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি আমাদের হৃদয়, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার ভিত্তি। মুখে সামান্য প্রদাহ বা রক্তক্ষরণকেও হেলাফেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

> একটি সুস্থ হাসি মানেই এক সুস্থ দেহ — আর সেই যাত্রা শুরু হয় দাঁতের যত্ন থেকে।

দাঁত ফেললে কি চোখের ক্ষতি হয়? — চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে বিভ্রান্তির অবসানপ্রায়ই রোগীরা চেম্বারে এসে জিজ্ঞেস করেন, “ডাক্ত...
07/12/2025

দাঁত ফেললে কি চোখের ক্ষতি হয়? — চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে বিভ্রান্তির অবসান

প্রায়ই রোগীরা চেম্বারে এসে জিজ্ঞেস করেন, “ডাক্তার, দাঁত ফেললে নাকি চোখ নষ্ট হয়ে যায়?” কেউ বলেন, “দাঁত তোলার পর মাথা ঘোরে, চোখে টান পড়ে, তাই ভয় লাগে।” এমন প্রশ্ন শুনে আজও অবাক হতে হয়। এ এক পুরনো কিন্তু গভীরভাবে প্রোথিত ভ্রান্ত ধারণা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। দাঁত তোলা এবং চোখের দৃষ্টিশক্তির মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। কিন্তু কীভাবে এই বিভ্রান্তির জন্ম হলো এবং কেন এখনো এটি টিকে আছে—এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ইতিহাস, শারীরবৃত্তি ও মনস্তত্ত্বে।

একসময় দাঁতের চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। আধুনিক অ্যানেসথেশিয়া, জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি বা এন্টিবায়োটিক তখন ছিল না। চিকিৎসকেরা খোলা হাতে বা ধাতব যন্ত্র দিয়ে দাঁত টেনে তুলতেন, ফলে রোগীরা তীব্র ব্যথা ও রক্তপাতের সম্মুখীন হতেন। অনেক সময় দাঁতের সংক্রমণ সাইনাস বা চোখের চারপাশে ছড়িয়ে ফোলা সৃষ্টি করত। তখনই সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে দাঁত ফেলার ফলে চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। বাস্তবে সেটি দাঁত তোলার ফল নয়, বরং সংক্রমণ ও চিকিৎসাহীনতার পরিণতি ছিল। আধুনিক দন্তচিকিৎসা সেই যুগ থেকে বহু দূর এগিয়েছে, কিন্তু ভয়টি রয়ে গেছে সামাজিক সংস্কারে।

মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় গঠন এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়। দাঁতের স্নায়ু আসে Trigeminal nerve থেকে, যা মুখমণ্ডলের সংবেদন বহন করে। অন্যদিকে চোখের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে Optic nerve, যা মস্তিষ্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই দুটি স্নায়ুর কাজ ও পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন, কোনোভাবেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত নয়। ফলে দাঁত তোলার ফলে চোখের দৃষ্টি হারানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। Gray’s Anatomy ও Guyton & Hall Textbook of Medical Physiology-এর মতো প্রামাণ্য বইগুলোতেও এই সত্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

তবে অনেকে বলেন, দাঁত তোলার পর চোখের পাশে বা মাথায় ব্যথা অনুভূত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় “referred pain”। অর্থাৎ ব্যথার উৎস এক জায়গায় হলেও স্নায়ুর জালের কারণে তা অন্য জায়গায় অনুভূত হয়। Trigeminal nerve-এর তিনটি শাখা মুখ, গাল ও চোখের পাশ ঘিরে থাকে। দাঁতের স্নায়ুতে চাপ পড়লে বা দাঁত তোলার পর অল্প প্রদাহ হলে সেই স্নায়ুর মাধ্যমে চোখের আশপাশে হালকা টান বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কিন্তু এটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া, কোনো স্থায়ী ক্ষতি নয়। কয়েক ঘণ্টা বা এক–দুই দিনের মধ্যেই এটি দূর হয়ে যায়।

উপরের পেছনের দাঁতগুলোর শিকড় থাকে ম্যাক্সিলারি সাইনাসের একেবারে নিচে। ফলে দাঁত তোলার সময় সাইনাসে হালকা চাপ পড়ে, তখন অনেকের মনে হয় চোখে টান পড়ছে বা মাথা ভার লাগছে। বাস্তবে সেটি চোখের সমস্যা নয়, বরং সাইনাসের প্রতিক্রিয়া। খুব বিরল ক্ষেত্রে দাঁতের গর্ত থেকে সাইনাসে ক্ষুদ্র ছিদ্র তৈরি হতে পারে, যাকে বলে Oroantral communication। তবে এটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায় এবং সহজেই সারানো সম্ভব।

মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও অনেকেই করেন, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। দাঁত ও মস্তিষ্কের মধ্যে সরাসরি কোনো স্নায়ু সংযোগ নেই। তবে যদি পচা দাঁত দীর্ঘদিন চিকিৎসাহীন অবস্থায় থাকে, তাহলে সেখানকার সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা সাইনাস বা অন্য অঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এটি দাঁত তোলার কারণে নয়, বরং দাঁত না তোলার কারণে ঘটে। দাঁত তোলা আসলে সংক্রমণ দূর করে, ঝুঁকি বাড়ায় না। আজকের আধুনিক দন্তচিকিৎসায় জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি, নিরাপদ অ্যানেসথেশিয়া ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে এসব ঝুঁকি কার্যত নেই বললেই চলে।

তাহলে এই ভয়ের উৎপত্তি কোথায়? এর উত্তর মেলে মনস্তত্ত্বে। গবেষণায় দেখা গেছে, দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে ভয় বা Dental Anxiety বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে এখনো ব্যাপক। অনেকেই ছোটবেলায় দেখা ভীতিকর চিকিৎসা অভিজ্ঞতা থেকে সারা জীবন দাঁতের চিকিৎসাকে ভয় পান। সমাজে প্রচলিত “দাঁত তুললে চোখ যায়”–এর মতো কুসংস্কার সেই ভয়কে আরও দৃঢ় করে। ফলাফল হচ্ছে—রোগীরা দেরি করেন, ব্যথা সহ্য করেন, সংক্রমণ বাড়তে দেন; শেষ পর্যন্ত আরও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকের কাজ শুধু দাঁত তোলা নয়, সেই ভয় দূর করা, রোগীকে শিক্ষিত করা এবং বোঝানো—দাঁত তোলা মানে কোনো ক্ষতি নয়, বরং মুক্তি।

দাঁত তোলার পর কিছু নিয়ম মানা জরুরি। প্রথম ২৪ ঘণ্টা কুলকুচি বা থুথু ফেলা ঠিক নয়, গরম খাবার ও ধূমপানও নিষিদ্ধ। বরফ সেঁক দিলে ফোলাভাব কমে। চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হয়। চোখে টান বা মাথায় চাপ টের পেলে ভয় না পেয়ে দন্তচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই যথেষ্ট। এসব প্রতিক্রিয়া সাময়িক ও স্বাভাবিক, স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয় না।

আমাদের সমাজে “দাঁত তুললে চোখ অন্ধ হয়” কথাটি প্রায় প্রবাদে পরিণত। এই ভ্রান্তি ভাঙতে দরকার সচেতনতা। বিদ্যালয়ে মৌখিক স্বাস্থ্য শিক্ষা চালু করা, স্থানীয় স্বাস্থ্যক্যাম্পে দাঁতের চিকিৎসা প্রদর্শন, টেলিভিশন বা সামাজিক মাধ্যমে তথ্য প্রচার—এসব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ভয় কমাতে সাহায্য করবে। সঠিক তথ্যই পারে কুসংস্কারের দেয়াল ভাঙতে।

দাঁত তোলার সুফল অসংখ্য। সংক্রমণ রোধ হয়, চোয়ালের হাড় ক্ষয় বন্ধ হয়, ব্যথা ও দুর্গন্ধ দূর হয় এবং ইমপ্লান্ট বা ব্রিজ স্থাপনের পথ তৈরি হয়। অতএব দাঁত তোলা কোনো ক্ষতি নয়, বরং শরীরকে সুস্থ রাখার একটি পদক্ষেপ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটি একটি নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত প্রক্রিয়া।

সর্বশেষে বলা যায়, দাঁত তোলার কারণে চোখের দৃষ্টি বা মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি হয়—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দাঁত তোলা এখন পুরোপুরি নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। বরং চিকিৎসা বিলম্বিত করলে সংক্রমণ ও জটিলতা বাড়ে। ভয় নয়, সচেতনতা হোক আমাদের সঙ্গী। দাঁতের যত্ন মানে সার্বিক সুস্থতা; আর চিকিৎসকের প্রতি আস্থা মানেই নিরাপদ চিকিৎসা।

মানুষের মুখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সার্বিক শারীরিক সুস্থতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই মুখের যে কোনো সমস্যা অবহেলা না করে চিকিৎসা নিন, কারণ একটি সুস্থ হাসিই হতে পারে আপনার সামগ্রিক সুস্থতার প্রতীক।

লেখকঃ
ডাঃ এ কে এম মাজহারুল ইসলাম খান
ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জন, ময়মনসিংহ।

05/01/2025
মাড়ি লাল হয়ে ফুলে গেছে? বা মাড়িতে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছেন যেটা আগে ছিল না, তাহলে কিন্তু এটা ক্যান্সার হত...
21/04/2024

মাড়ি লাল হয়ে ফুলে গেছে? বা মাড়িতে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছেন যেটা আগে ছিল না, তাহলে কিন্তু এটা ক্যান্সার হতে পারে। মাড়ি থেকে হঠাৎ রক্ত পড়লে, বা দাঁত নড়তে শুরু করলেও সচেতন হন। কারণ এটা কিন্তু মাড়ির ক্যান্সারের একটা লক্ষণ হতে পারে।

কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার মাড়ির ক্যান্সার হয়েছে কিনা?

১. মুখের মধ্যে কোনও ফোলা ভাব যদি ৩-৪ সপ্তাহেও না কমে।

২. ঠোঁটের আশপাশে এবং মুখের ভিতর লাল বা সাদা ভাব থাকলে।

৩. দৃশ্যমান কোন কারণ ছাড়াই দাঁত নড়বড় করলে।

৪.মুখের মধ্যে টিউমার জাতীয় কিছু অনুভব করলে।

৫. কানে এবং মুখে ব্যথা হলে অথবা চিবোতে বা ঢোক গিলতে যদি সমস্যা হয়।

৬.হঠাৎ ওজন কমে গেলে।

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করাতে দাঁতে যেমন প্লাগ জমে ঠিক তেমনি নিয়মিত জিভ পরিস্কার না করলে জিভে প্লাগ জমে যায়। সেক্ষেত্রে প্ল...
05/06/2022

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করাতে দাঁতে যেমন প্লাগ জমে ঠিক তেমনি নিয়মিত জিভ পরিস্কার না করলে জিভে প্লাগ জমে যায়। সেক্ষেত্রে প্লাগে থাকা অগণিত ব্যাকটেরিয়া শারীরিক নানাবিধ রোগব্যাধি তৈরির পাশাপাশি একধরনের উদ্বায়ী সালফার কম্পাউন্ড তৈরি করে যা মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।

মুখের দুর্গন্ধ যেমন খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে, তেমনই স্বাস্থ্যের জন্যও খুবই জরুরি প্রতিদিন জিভ পরিষ্কার রাখা।

তাই দৈনিক দুইবার দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি নরম টুথ ব্রাশ ও টুথপেষ্ট বা প্লাস্টিকের জিভ পরিস্কারক (টাং স্ক্রেপার) দিয়ে নিয়মিত জিভ পরিস্কার করা উচিৎ।

আসুন জেনে নেই প্রতিদিন জিভ পরিষ্কার করলে কীভাবে তা স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ে-

১. খাবার হজমের প্রক্রিয়া শুরুই হয় আমাদের মুখ থেকে। আমাদের মুখে যে স্যালাইভা থাকে, তা-ই খাবারকে হজম করতে সাহায্য করে। জিভ পরিষ্কার থাকলে মুখে থাকা স্যালাইভা সঠিকভাবে খাবারকে হজম করতে সাহায্য করে।

২. সারারাত আমাদের মুখে যে টক্সিন জমে থাকে, জিভ পরিষ্কার করলে সেই সমস্ত ক্ষতিকর টক্সিন মুখ থেকে নির্গত হয়ে যায়। এর ফলে আপনি আরও পরিষ্কার এবং তরতাজা থাকতে পারেন সারাদিন।

৩. জিভে জমে থাকা ডেড সেল এবং ব্যাকটেরিয়ার ফলেই মুখে দুর্গন্ধের মতো সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন নিয়ম করে জিভ পরিষ্কার করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৪. আমরা সকলেই জানি যে আমাদের জিভের উপরিভাগে বিভিন্ন টেস্টবাড থাকে যাদের মাধ্যমে আমরা খাবারের স্বাদ বুঝতে পারি। জিভ যদি পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে সেই টেস্টবাড গুলি ক্রমশ নষ্ট হয়ে যায়। খাবারের স্বাদও সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। তাই প্রিয় খাবারের স্বাদ অনুভব করতে হলে অবশ্যই প্রত্যেকদিন জিভ পরিষ্কার করতে হবে।

৫. জিভে যদি ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে, তাহলে তা যে শুধু মুখের স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি করবে, তা-ই নয়। এই ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরের বিভিন্ন ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলিকেও সঠিকভাবে কাজ করতে দেয় না ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। তাই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে রোজ সঠিকবাবে জিভ পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি।

শিশুদের ফাঁকা দাঁত কতটা দুশ্চিন্তার?অনেক সময় আমরা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখি, দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে ...
01/03/2022

শিশুদের ফাঁকা দাঁত কতটা দুশ্চিন্তার?

অনেক সময় আমরা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখি, দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করবেন না। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৩ বছরের মাঝখানে যে সময়টা, এই সময়টাতে বেশি চিন্তা করেন মা-বাবারা।

আমাদের ১৩ বছরের সময় একটা দাঁত ওঠে, যে দাঁতটা অন্য দাঁতাগুলোর গোড়ায় প্রেসার দিয়ে উঠে। এর কারণে সামনে দাঁতগুলো ফাঁকা দেখা যায়। ১৩ বছরের সময়ে ফাঁকা জায়গাটা আস্তে আস্তে পূরণ হতে শুরু করে।

এছাড়াও ছোট বাচ্চাদের সবগুলো দাঁতের মাঝখানে যদি কিছু ফাঁকা ফাঁকা জায়গা থাকে, এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ স্থায়ী দাঁতগুলো উঠার জন্য এই ফাঁকা স্থানগুলো দরকার রয়েছে।

তবে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে- অনেকদিন ধরে যদি বাচ্চার আঙুল চোষা সমস্যাটা থাকে, সে ক্ষেত্রে ওপরের মাড়িটা উঁচু হয়ে যায়। ওপরের দাঁতগুলো উঁচু হয়ে যায়। দাঁত ফাঁকা হতে থাকে। নিচের চোয়ালটা ভেতরের দিকে চলে যায়। বাচ্চাকে এ অভ্যাস থেকে বিরত রাখতে হবে।

শিশুর টুথপেস্ট–টুথব্রাশশিশুর দাঁত সুস্থ ও ক্যাভিটিমুক্ত রাখতে প্রতিদিন দাঁত ব্রাশের বিকল্প নেই। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ...
31/01/2022

শিশুর টুথপেস্ট–টুথব্রাশ

শিশুর দাঁত সুস্থ ও ক্যাভিটিমুক্ত রাখতে প্রতিদিন দাঁত ব্রাশের বিকল্প নেই। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো একই ধরনের টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট শিশুর জন্য নয়। এ ছাড়া এদের মুখ ও দাঁতের যত্নেও রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা।

ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অর্থাৎ দাঁত ওঠার আগে শিশুদের মাড়ি নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে। শিশুর ৬ মাস থেকে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত খেয়াল করা জরুরি যে সে সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করছে কি না।

টুথপেস্ট

এক থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের জন্য ফ্লোরাইডমুক্ত টুথপেস্ট দিতে হবে। এ সময় বিভিন্ন রং ও স্বাদের জেল টুথপেস্ট দেওয়া যেতে পারে। শিশুর পছন্দের স্বাদ ও রং অনুযায়ী টুথপেস্ট বাছাই করুন। এ বয়সী শিশুরা কুলি করতে পারে না। অনেক সময় টুথপেস্ট গিলে ফেলে। এ ধরনের জেল ব্যবহারে ফ্লোরোসিস হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

তিন বছর বয়স থেকে ফ্লোরাইড আছে এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করা প্রয়োজন। ফ্লোরাইড এক প্রকার প্রাকৃতিক খনিজ, যা দাঁতকে শক্তিশালী করে, দাঁত ক্ষয় রোধ করে এবং মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে। তবে ব্রাশ করার পর অবশ্যই মুখ ভালোভাবে ধুয়ে কুলি করতে হবে। ফ্লোরাইড শিশুদের দাঁতের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর হলেও বেশি পরিমাণে ফ্লোরাইড ব্যবহার দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। তাই কেনার আগে টুথপেস্টে কত শতাংশ ফ্লোরাইড রয়েছে, তা দেখে নেওয়া জরুরি। শিশুদের টুথপেস্টে ফ্লোরাইডের পরিমাণ কম থাকবে।

শূন্য থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের একটি চালের দানার সমান পেস্ট দিয়ে ব্রাশ করাতে হবে। তিন বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের একটি মটরদানার পরিমাণ পেস্ট দিতে হবে। সকালে নাশতার পর এবং রাতে খাবার পর দাঁত ব্রাশ করতে হবে।

টুথব্রাশ

জন্মের পর থেকে শিশুর মাড়ি এবং জিহবা নরম সুতি কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ছয় মাস বয়স থেকে দাঁত ওঠা শুরু করলে ফিঙ্গার টুথব্রাশ ব্যবহার করে দাঁত পরিষ্কার করা যাবে। এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ছোট মাথার টুথব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। শলাকাগুলো হবে নরম এবং এর মাথাগুলো হবে গোলাকার। ব্রাশের হাতল এমন হতে হবে যেন শিশু স্বাচ্ছন্দ্যে হাতের মুঠোয় ধরতে পারে। ৫ থেকে ১০ বছর বয়সে অধিকাংশ শিশুই সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করে না। তাই দাঁতে ক্যাভিটি বা ক্ষয় বেশি হয়। প্রতিবার কমপক্ষে দুই মিনিট করে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস করাতে হবে শিশুদের।

অসমান দাঁত ঠিক করার উপায় কী?দাঁতের চিকিৎসায়, অসমান দাঁত ও চোয়ালের গঠনকে সমান করার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হয় যে বিভাগে, তাকে...
18/09/2021

অসমান দাঁত ঠিক করার উপায় কী?

দাঁতের চিকিৎসায়, অসমান দাঁত ও চোয়ালের গঠনকে সমান করার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হয় যে বিভাগে, তাকে বলা হয় অর্থোডন্টিক চিকিৎসা। দাঁতের চিকিৎসার এই ক্ষেত্র বেশ জনপ্রিয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তা আরও উন্নত হয়ে উঠেছে।

সাধারণত কী ধরনের সমস্যা দেখা যায়?
* এক বা একাধিক উঁচু দাঁত।

* একাধিক দাঁত একে অপরের উপরে উঠে যাওয়া।

* দাঁতের মধ্যে অত্যন্ত বেশি ফাঁক।

* অসমান চোয়াল ও দাঁত, বিশেষ করে যে সমস্ত বাচ্চাদের মুখে আঙুল দেওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

ব্রেসিংয়ে সমস্যার সমাধান

অর্থোডন্টিক চিকিৎসার প্রাথমিক ধাপ হল ব্রেসিং। উপরের ও নীচের চোয়ালের দাঁতের সারিতে একাধিক মেটাল বা সেরামিক তার ও ক্লিপ লাগিয়ে দাঁত ও চোয়ালের গঠন ঠিক করার পদ্ধতিকে বলা হয় ব্রেসিং। সাধারণত, অসমান দাঁতের আনুষঙ্গিক সমস্যা কামড়ের হেরফের। ফলে অসমান দাঁত থাকলে, অনেকেই ঠিক ভাবে খাবার চিবোতে পারেন না। ব্রেসিং পদ্ধতি সুন্দর হাসির সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যারও সমাধান করে।

কত ধরনের ডেন্টাল ব্রেস?

সাধারণত পাঁচ ধরনের ব্রেস ব্যবহার করা হয় অসমান দাঁতের চিকিৎসায়। দাঁত ও চোয়ালের গঠন অনুসারে তৈরি হয় প্রত্যেকের ব্রেস। গোটা ব্রেসিং পদ্ধতি সম্পন্ন হতে তিন থেকে চারটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে।

* প্রচলিত মেটাল ব্রেস: এই ধরনের ব্রেসের সঙ্গে মোটামুটি সকলেই পরিচিত। অন্যান্য ব্রেসের তুলনায় এটির দাম বেশ কম। উচ্চমানের স্টেনলেস স্টিলের তার ও ব্র্যাকেট বা ক্লিপের সাহায্যে এই ব্রেস দাঁত সমান করতে সাহায্য করে। তবে, এই ব্রেস ব্যবহারের অন্যতম অসুবিধে হল, কথা বলা বা হাসার সময়ে মুখ খুললেই তা খুব সহজে চোখে পড়ে।

* সেরামিক ব্রেস: মেটাল ব্রেসের পরিবর্তে অনেকেই সেরামিক ব্রেস ব্যবহার করেন। এতে তারটি স্টিলের হলেও ক্লিপটি হয় দাঁতের রঙের। ফলে সহজে বোঝা যায় না যে, দাঁতে ক্লিপ পরানো রয়েছে। কিন্তু ওরাল হাইজিন মেনে না চললে এই ব্রেস হলুদ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

* লিঙ্গুয়াল ব্রেস: মেটাল ব্রেসের রকমফের বলা যায় লিঙ্গুয়াল ব্রেসকে। দাঁতের সামনের দিকের পরিবর্তে এটি বসানো হয় দাঁতের লিঙ্গুয়াল সাইড বা পিছন দিকে। এটির খরচ বেশি। এটি পরিষ্কার করাও বেশ ঝক্কির কাজ।

* অ্যালাইনার: এই পদ্ধতিতে মূলত স্বচ্ছ প্লাস্টিকের অ্যালাইনার ব্যবহার করা হয়। এই অ্যালাইনারগুলি অন্যান্য ব্রেসের মতো স্থায়ী নয়। সহজেই খুলে ফেলা যায়। ফলে ২-৩ সপ্তাহ অন্তর এগুলোকে বদলাতে হয়। এগুলি ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ। তবে দাঁতের জটিল সমস্যায় খুব একটা কাজে দেয় না। এটিও বেশ ব্যয়সাপেক্ষ।

* সেলফ লাইগেটিং ব্রেস: প্রচলিত ব্রেসগুলি ইলাস্টিকের সাহায্যে তার ও ব্র্যাকেটগুলিকে দাঁতের উপরে বিন্যস্ত রাখা হয়। কিন্তু এই ব্রেসে কোনও রকম ইলাস্টিক ব্যবহার করা হয় না। স্লাইড মেকানিজ়মের সাহায্যে পুরো ব্রেসটি সুবিন্যস্ত থাকে।

চিকিৎসার সময়সীমা

দাঁত ও চোয়াল কতটা অসমান তার উপরে নির্ভর করে ঠিক কত সময় লাগবে। তবে সাধারণত দেড় থেকে দু’বছরের মধ্যে গঠন স্বাভাবিক হয়ে যায়। চিকিৎসার পরে স্থায়ী ব্রেসের জায়গায় একটি অস্থায়ী ব্রেস দেওয়া হয়। ডাক্তারি পরিভাষায় এটিকে রিটেনার বলে। ছ’মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত এটি ব্যবহার করা যায়। সাধারণত যে কোনও বয়সেই দাঁতে ব্রেসিং করানো যায়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে দুধের দাঁত পড়ে যাওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হয়।

খরচ কেমন?
ডেন্টাল ব্রেসের খরচ কেমন তা নির্ভর করে কী ধরনের ব্রেস ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কোথায় করানো হচ্ছে তার উপরে। অর্থোডন্ট্রি দাঁতের চিকিৎসার অন্যতম স্পেশালাইজেশনের জায়গা। সুতরাং চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার উপরেও খরচ নির্ভর করে। সাধারণত, ৬০ থেকে ৮০০০০-এর মধ্যে মেটাল ব্রেসের খরচ। সেরামিক ব্রেসের খরচ গড়ে এক লাখ। লিঙ্গুয়াল ব্রেসের খরচ দেড় লক্ষ। এ ছাড়া অ্যালাইনারের দাম শুরু হচ্ছে ৫০০০০ থেকে।

চিকিৎসা চলাকালীন সতর্কতা

ব্রেস বসানোর পরে কয়েকদিন মুখের ভিতরে সামান্য ছড়ে যেতে পারে, ফলে জ্বালা ভাব বা অস্বস্তি হতে পারে। তবে কয়েক দিন পরে তা ঠিক হয়ে যায়। ব্রেস বসানোর পরে মুখের ভিতরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কী করবেন?

* খাওয়ার পরে প্রতিবার ব্রাশ করতেই হবে। আর তা করতে হবে বিশেষ ধরনের অর্থোডন্টিক ব্রাশ ও ফ্লোরাইড টুথ পেস্ট দিয়ে। এ ছাড়া রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ফ্লোরাইড মাউথওয়াশও ব্যবহার করতে হবে।

* যদি আপনি খেলাধুলো করেন, তবে অবশ্যই মাউথ গার্ড ব্যবহার করবেন।

* কম চিনি আছে, এমন খাবার
ও পানীয় গ্রহণ করলে ভাল হয়।

* নিয়মিত চেক আপ জরুরি।

কী করবেন না?

* ক্যারামেল বা চিউইং গাম জাতীয় আঠালো খাবার একেবারে এড়িয়ে চলতে হবে।

* শক্ত খাবার বা যে খাবার খুব চিবিয়ে খেতে হয়, তা এই সময় না খাওয়াই ভাল। মাছের কাঁটা, মাংসের হাড় চিবিয়ে খেতে যাবেন না।

* দাঁত দিয়ে নখ কাটবেন না।

* দাঁত দিয়ে কোনও কিছু জোরে টেনে ছিঁড়তে যাবেন না।

* নিয়মিত ফ্লস করতে ভুলবেন না।

ছোটখাটো এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলেই দাঁত সুন্দর থাকবে।

Address

Moitry Plaza ; 10 No. Durgabari Road (opposite To National Bank)
Mymensingh

Opening Hours

Monday 10:00 - 21:00
Tuesday 10:00 - 21:00
Wednesday 10:00 - 21:00
Thursday 10:00 - 21:00
Saturday 10:00 - 21:00
Sunday 10:00 - 21:00

Telephone

8801720103001

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when New Smile Dental Care posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share