28/06/2022
স্বাস্থ্যকর দাঁত ও মাড়ির জন্য ১০ টি টিপস
স্বাস্থ্যকর দাঁত এবং মাড়ি বজায় রাখতে ও আপনার সামগ্রিক সুস্থতাকে টিকিয়ে রাখতে আপনি যা কিছু করতে পারেনঃ-
১. প্রতিদিন দুবার আপনার দাঁত ব্রাশ করুনঃ
আপনার দাঁত পরিষ্কার এবং সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন ।নাহলে দাঁতের উপর প্লাক বা খাদ্যকনার মিহি একটি স্তর গঠিত হয়।দিনে দুবার এবং দুই মিনিটের জন্য ব্রাশ করা, যা ২x২ নিয়ম হিসাবে পরিচিত তা প্লাক দূর করতে সাহায্য করবে। শিশুদের ব্রাশিং এর অভ্যাসটি শুরুতেই তৈরি করা উচিত এবং এটিকে মজাদার করার উপায় খুঁজে বের করা উচিত। তারা ব্রাশ করার সময় আপনি একটি গান বাজাতে পারেন, অথবা টাইমার ব্যবহার করে জানাতে পারেন যে কখন দুই মিনিট পূর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিটি দাঁত পরিষ্কার করা সহজ করতে, আপনার মুখকে ৪টি ভাগে ভাগ করে (উপরের ডানদিকে, উপরের বাম দিকে, নীচের ডানদিকে, নীচের বাম দিকে) প্রতি ভাগে ৩০ সেকেন্ড ব্যয় করার চেষ্টা করুন।আপনার দাঁতগুলি সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং আপনি দাতের চারপাশের নরম টিস্যুর ক্ষতি করছেন না তা নিশ্চিত করার জন্য সঠিক কৌশলে ব্রাশিং করুন।
২. প্রতিদিন ফ্লস করুনঃ
আপনার টুথব্রাশ দুই দাঁতের মাঝের জমে থাকা খাদ্যকণা দূর করতে পারেনা তাই ব্রাশ করার আগে প্রতি রাতে ফ্লস করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক রোগী এই স্টেপটি এড়িয়ে যান, কিন্তু এটি স্বাস্থ্যকর রুটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনি যদি শুধুমাত্র ব্রাশ করেন এবং ভাবেন যে আপনার ফ্লস করার দরকার নেই, তাহলে খাবারের ছোট কণা যা আপনার টুথব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার হয়নি তা শেষ পর্যন্ত থেকে যেতে পারে। এটি এড়াতে, আপনার ব্রাশিং হ্যাভিট এ ফ্লসিং যোগ করুন। আপনি যখন প্রথম প্রথম ফ্লসিং শুরু করেন,তখন এটি মাড়িতে আঘাত করতে পারে। এটি স্বাভাবিক এবং আপনি কয়েক দিন রেগুলার ফ্লসিং করার পরে এটি বন্ধ হয়ে যাবে। ফ্লস করার সময়, আপনি এটিকে পুরো দাঁত বরাবর উপরে এবং নীচে স্লাইড করুন।
৩. নিয়মিত আপনার টুথব্রাশ পরিবর্তন করুনঃ
ক্ষতিগ্রস্থ বা ফেটে যাওয়া টুথব্রাশ আপনার দাঁতের সকল জায়গা সঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারে না এবং আপনার মাড়ির ক্ষতি করতে পারে।প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর এটি পরিবর্তন করতে হবে। আপনার টুথব্রাশটি ভালভাবে ধুয়ে এমন জায়গায় রাখুন যাতে এটি শুকিয়ে যায়। আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে,সুস্থ্য হওয়ার পর আপনার মুখের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া পুনরায় প্রবেশ করা থেকে রোধ করতে আপনার টুথব্রাশ পরিবর্তন করতে ভুলবেন না।
৪. প্রতি ছয় মাস পর আপনার ডেন্টিস্টের কাছে যানঃ
রেগুলার চেকআপে থাকলে আপনার দাঁতের ডাক্তার , দাঁতের সমস্যাগুলি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবেন।যত দ্রুত ট্রিটমেন্ট করা হবে তত কম খরচে আপনি ট্রিটমেন্ট করাতে পারবেন।
৫. একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট বজায় রাখুনঃ
শক্ত এবং স্বাস্থ্যকর দাঁতের জন্য,মিষ্টিজাতীয় খাবার (যেমন স্পোর্টস ড্রিংকস এবং ক্যান্ডি) এড়িয়ে চলার পাশাপাশি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। কিছু খাবার যা আপনার দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করবে তার মধ্যে রয়েছে শাক, বাদাম, দই এবং পনির।
৬. ডেন্টাল হাইজিন পণ্য ব্যবহার করুনঃ
দাঁতের স্বুস্থ্যতার জন্য ব্রাশিং এবং ফ্লসিং হলো মূল চাবিকাঠি, তবে আপনি আপনার রুটিনে বিভিন্ন্য সহায়ক উপাদানগুলি অন্তর্ভুক্ত করে আপনার দাঁতকে স্বুস্থ্য অবস্থায় রাখতে পারেন। এই পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে মাউথওয়াশ, ওরাল ইরিগেটর, ইন্টারডেন্টাল ক্লিনার এবং টাং ক্লিনার। যা নিয়মিত ব্রাশিং এবং ফ্লসিংয়ের সাথে (এর পরিবর্তে নয়) ব্যবহার করা উচিত।
৭. সারাদিন হাইড্রেটেড রাখুনঃ
পর্যাপ্ত হাইড্রেশন শুধুমাত্র আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো নয়, তা স্বাস্থ্যকর লালা প্রবাহ বজায় রাখতেও সাহায্য করে। লালা খাবারের কণাগুলি সরানোর মাধ্যমে দাঁতের স্বাস্থ্যে সহায়তা করে, এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেতে বাধা দেয়। এটি আপনার মুখকে আরামদায়ক এবং আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করে।
৮. ধূমপান করবেন নাঃ
ধূমপানের কারণে দাঁতে দাগ পড়ে, সেইসাথে মাড়ির (পিরিওডন্টাল) রোগের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে যা দাঁতের ক্ষতি এবং মুখের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। আপনার স্বুস্থ্য দাঁত এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য আপনি যা করতে পারেন তার মধ্যে একটি হল অবিলম্বে ধূমপান ত্যাগ করা।
৯. ডেন্টাল সিল্যান্ট ব্যাবহার করুনঃ
ডেন্টাল সিল্যান্ট আপনার মোলার এবং প্রিমোলারের খাঁজ (ফিসার) পূরণ করে,এসব জায়গায় প্লাক জমা রোধ করে এবং ক্যাভিটি থেকে বাচতে সাহায্য করে। শিশু এবং কিশোর-কিশোরীরা প্রায়শই প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ব্রাশ করে না, তাই তাদের জন্য সিল্যান্ট অত্যন্ত উপযোগী।
১০. বাড়িতে নিয়মিতভাবে আপনার মুখের ভিতরের অংশ পরীক্ষা করুনঃ
আপনার ডেন্টিস্টের সাথে নিয়মিত চেকআপ এ থাকলে যেকোনো সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হয়।কিন্তু ব্রাশ করার সময় নিয়মিত নিজের দাঁত কে লক্ষ্য করা উচিত,তাহলে কোনো ক্যাভিটি হলে সাথে সাথে ট্রিটমেন্ট নেওয়া যায়।ব্রাশিং এর সময় মাড়ি থেকে রক্ত পরছে কিনা তাও লক্ষ্য রাখতে হবে,যদি রক্ত পড়ে তাহলে স্কেলিং করতে হবে।
Dr. Shadman Zakir
ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জন
Dental Garden