11/04/2023
রোজায় দাঁতের যত্ন
আমাদের মধ্যে অনেকেই রমজান মাসে দাঁত-ব্রাশ করা থেকে বিরত থাকি। অনেকের ধারণা টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙে যায়, যা সম্পূর্ণ ভুল। ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। রমজানে আমাদের মুখের স্বাস্থ্য ও দাঁতের যত্ন ভালোভাবে নেয়া উচিত।
আমরা প্রতিনিয়ত যে খাবার খাই তার কিছু টুকরো, খাবারের তেল ও চর্বি ও মুখের মৃত কোষ লালার সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে এক ধরনের ঝিল্লি তৈরি করে, যা পরবর্তী সময়ে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মাড়িতে প্রদাহ তৈরি করে। মুখে দুর্গন্ধ হয়। অনেক সময় মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়। খাদ্যকণা অনেক দিন জমতে থাকলে দন্তক্ষয় রোগের সৃষ্টি হয়।
সাধারণভাবে সাবান যেমন- শীরের ময়লা পরিষ্কার করে, ঠিক তেমনিভাবে টুথপেস্ট দাঁতে লেগে থাকা ময়লা একইভাবে পরিষ্কার করে। রমজানে আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয়। তাই এ সময় একটু আলাদাভাবে মুখ ও দাঁতের যতœ নেয়া উচিত। নিয়মিত ব্রাশ, ডেন্টাল ফ্লস, মাউথওয়াশ ব্যবহার করা উচিত।
মুখ ও দাঁতের যত্নে অবশ্য করণীয়
* রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ও সাহরির পর অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
* নিয়মিত ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে হবে, যাতে করে দাঁতে খাদ্যকণা জমে না থাকে।
* নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। বাজারে দেশীয় অ্যালকোহলমুক্ত অনেক মাউথওয়াশ পাওয়া যায়।
* টাং স্ক্রাপার (tongue scrapper) দিয়ে জিহ্বায় লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।
* যারা denture অথবা রিটেইনার ব্যবহার করেন, তা খুলে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
* ইফতারের পর ও সাহরির আগে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পানের মাধ্যমে মুখের আর্দ্রতা রক্ষা পায়। ফলে অনেক রোগ প্রতিরোধ হয় ও মুখের দুর্গন্ধ কমে যায়।
* বেশি বেশি শাকসবজি এবং ভিটামিন-সি যুক্ত দেশি ফল খেতে হবে।
* ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। ধূমপান মুখের দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দেয়।
* Fast Food, কোল্ড ড্রিংকস, চকলেট, তেলে ভাজা, অধিক মসলাদার খাবার থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে।
দাঁত ও মুখের সমস্যা
মুখে দুর্গন্ধ : রমজানে মুখের প্রধান সমস্যা হল মুখ থেকে দুর্গন্ধ আসে।
মূলত মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী জমে থাকা খাদ্যকণা ও মুখের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সালফাইড ও অ্যামোনিয়া তৈরি হওয়া। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদের নিুোক্ত কাজগুলো করতে হবে-
* রাতে ঘুমানোর আগে ও সাহরির পর অবশ্যই ভালো করে ব্রাশ করতে হবে।
* অজু করার আগে নিয়মিত মেসওয়াক করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে, পানি ও টুথপেস্ট যেন গলার ভেতর প্রবেশ না করে।
* নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে হবে।
* ডেনচার অথবা রিটেইনার যারা নিয়মিত ব্যবহার করেন, তা পরিষ্কার করে অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণে ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে।
দাঁতের আরও সমস্যা : মাড়ি ফোলা, রক্তপড়া, মুখে ঘা, দাঁত ব্যথা, দন্তক্ষয় রোগ (dental caries), আঘাত পেয়ে দাঁত ভেঙে যাওয়া, দাঁত নড়া ইত্যাদি।
রমজানে দাঁতের চিকিৎসা
* লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে করা দাঁতের কোনো কাজ * স্কেলিং, পলিশিং, দাঁত Whitening * সব ধরনের ফিলিং * গ্রাইন্ডিং * ক্যাপ, ব্রিজ * দাঁত তোলা * আঁকাবাঁকা দাঁতের চিকিৎসা * রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট ইত্যাদি।
খেয়াল রাখতে হবে পানি, রক্ত ও পুঁজ যেন গলার ভেতর প্রবেশ না করতে পারে। যে রোগী ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসার, কিডনি সমস্যার জন্য নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন; তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত ডোজ ঠিক করে নেবেন।
দাঁতের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকস বিভিন্ন ওষুধ ও ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত ঠিক করে নেবেন। তীব্র দাঁতের ব্যথায় রোজা রেখে ব্যথার ওষুধ খাওয়া যাবে না। কিন্তু ব্যথা কমানোর ইনজেকশন দিতে পারবেন।