17/03/2020
অনেক রুগি প্রশ্ন করেন-- কেন আমরা লোহা দিয়ে বা ঢালাই করে পার্মানেন্ট ফিলিং / সিমেন্ট / পুডিং দেই না??
উত্তর:
আসলে লোহা দিয়ে বা চকচকে রুপালি যে ধাতব
দিয়ে ফিলিং করা হয় (অনেক রুগি একে ঢালাই
দেয়া বা পুডিং করা বলেন :)) তা হচ্ছে এমালগাম ফিলিং। এটার জন্য ব্যবহার করা হয় পারদ, যা ব্যবহার
করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বারণ রয়েছে। তাই "শোভন ডেন্টাল কেয়ার এন্ড অর্থোডন্টিক্স" তার পথ চলার শুরুর সময় থেকেই এই ফিলিং পরিহার করে আসছে, এবং এর বিপরীতে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে আসছে।
এমালগাম ফিলিং নিঃসন্দেহে যে কোন পার্মানেন্ট ফিলিং এর থেকে সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘ স্থায়ী, কিন্তু তাতে কি? এর ক্ষতিকর দিকের কথাও তো মাথায় রাখতে হবে!
আমাদের অনেক শিক্ষিত মানুষও এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত না। আর সাথে আছে কিছু শিক্ষিত ডেন্টিস্টদের বেখেয়ালি ও আত্ম-ভ্রান্তি। আর কোয়াক/
হাতুরে ডাক্তারদের তো কথাই নেই, তারা এর থেকে মারাত্মক সেল্ফকিঊওর মনোমার দিয়ে ফিলিং করে, যা ক্যান্সার রোগের সরাসরি প্রিকার্সোর / নিয়ামক।
যাক আজ জানাই কেন আমরা এই ফিলিং করা পরিহার করি এবং এই ফিলিং যাদের মুখে আছে, তাদের কেন এই ফিলিং শরিয়ে অন্য উন্নত ফিলিং করতে বলি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষেরই দাঁতের ফিলিংয়ে ব্যবহৃত পারদের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানে না।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সীমার চেয়ে বাংলাদেশে পারদ অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়। এর কারণ হিসেবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খরচ বাঁচাতে এখানকার বেশিরভাগ দন্ত চিকিৎসকই ফিলিংয়ের মিশ্রণে এর ব্যবহার করে থাকেন। পারদসংকর মূলত একটি ধাতব মিশ্রণ। এ মিশ্রণের অর্ধেকই হচ্ছে পারদ। বাকি অর্ধেকের মধ্যে রয়েছে রূপা, টিন, দস্তা ও তামার মতো ভারি ধাতু। দাঁতের ফিলিংয়ে এই ডেন্টাল সংকর মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। কারণ এটা হচ্ছে দাঁতের গর্ত পূরণে সবচেয়ে সাশ্রয়ী সমাধান। তবে দুনিয়াজুড়ে সাধারণভাবে দাঁতের ফিলিংয়ে এমন সংকর ব্যবহৃত হয় না। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশেই এর ব্যবহার হয়ে থাকে। রূপালী রঙের সংকর ধাতু অ্যামালগাম দাঁতের ক্ষয় দ্বারা সৃষ্ট গর্ত ভরাটের জন্য ব্যবহৃত হয়। দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে এটা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে মুখগহ্বর সংক্রান্ত চিকিৎসায় এটি সবচেয়ে প্রাচীন উপাদানগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
শংকার বিষয় হচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ভবিষ্যতবাণী করা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক ১০টি কেমিক্যালের মধ্যে ঠাঁই পেয়েছে এই মার্কারি বা পারদ।দাঁতের আকারের ওপর ভিত্তি করে এর গর্ত পূরণে ৫ মিলিগ্রামের বেশি অ্যামালগামের দরকার হয়। এর মধ্যে আড়াই গ্রামেরও বেশি থাকে পারদ। দাঁতের এক ইউনিট
গর্ত ভরাটের জন্য চিকিৎসকরা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।
বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মহিদুস সামাদ খান বলেন, বিশ্বব্যাপী দুটি ভিন্ন রাসায়নিক নিরাপত্তা মান (কেমিক্যাল সেফটি স্ট্যান্ডার্ড) রয়েছে। এ দুটি নিরাপত্তা মানের একটি হচ্ছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও ডব্লিউএইচও কর্তৃক নির্ধারিত। অন্যটি হচ্ছে মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) কর্তৃক নির্ধারিত।
এফএও ও ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী ৭০ কেজি ওজনের একজন বয়স্ক ব্যক্তি ১১২ মাইক্রোগ্রামের (০১
মিলিগ্রাম=১ হাজার মাইক্রোগ্রাম) বেশি পারদ সহ্য করতে পারেন। তবে মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা বলছে, একই ওজনের একজন বয়স্ক ব্যক্তি ৭ মাইক্রোগ্রাম পারদ নিরাপদে সহ্য করতে পারেন।
একটা দাঁত ফিলিং করতে লাগে আড়াই হাজার মাইক্রোগ্রাম পারদ। এটা এফএও ও ডব্লিউএইচও-এর নির্ধারিত দৈনিক মানদণ্ডের চেয়ে ২২ গুণ বেশি এবং ইপিএ নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে ৩৫৭ গুণ বেশি।
মার্কারি ডেন্টাল অ্যামালগামের বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম রেসিন, সিলিকা, সিরামিক ও পলিমারের ওপর জোর দেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এ
সহকারী অধ্যাপক। ডা. আলতামাস মাহমুদ বলেন,
‘একটা দাঁতের কম্পোজিট ফিলিংয়ে খরচ হয় দেড় থেকে তিন হাজার টাকা, যা অ্যামালগামের চাইতে ১৫ গুণেরও বেশি।
বাংলাদেশে দাঁতের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। গ্রামাঞ্চলে রোগীরা ব্যয়বহুল কম্পোজিট ফিলিং করতে পারে না।
ফলে সেখানে চিকিৎসকদের জন্য মার্কারি অ্যামালগাম ব্যবহারের বিকল্প নেই। এটা বহু শহুরে রোগীর জন্যও প্রযোজ্য।‘
বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা.
মির্জা আরিফুর রাহমান বলেন, ‘পারদ নিজেই একটা বিষ এবং এটা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও উঠতি বয়সীদের জন্য ক্ষতিকর।
দাঁতের ফিলিং ভেঙে গেলে এই ক্ষতিকর পারদ রক্ত ও স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।‘
তার দাবি, ঢাকায় বর্তমানে চিকিৎসকরা অ্যামালগাম
ব্যবহার করছেন না। কিন্তু গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরে এটা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো বহু আগেই অ্যামালগাম ব্যবহার বন্ধ করেছে। তারা কম্পোজিট ফিলিং ব্যবহার করছে কারণ সেটা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক নয়।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)- এর হিসাবে,
পারদের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার ২০০ কোটি ডলার। মৃতদেহ পোড়ানোর সময় ডেন্টাল অ্যামালগামের পারদ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। তখন এটা মাটি ও পানিতে প্রবেশ করে, খাদ্য সরবরাহের ওপর যার প্রভাব পড়ে।
তাই "শোভন ডেন্টাল কেয়ার এন্ড অর্থোডন্টিক্স" আপনাদের আহবান করছে, যার দাঁতেই এই ধরনের
ফিলিং আছে, তারা তা তুলে, বর্তমান যুগের আধুনিক
ফিলিং করে নিন, যা নিরাপদ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত।
"শোভন ডেন্টাল কেয়ার এন্ড অর্থোডন্টিক্স" আপনাদের
সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দিচ্ছে এক অনন্য অফার। যাদের দাতে এরকম ফিলিং রয়েছে, তারা সেই ফিলিং উঠিয়ে নতুন করে লাইট কিউর ফিলিং করে নিতে চাইলে তাদের জন্য প্রতি ফিলিং এ রইল ১০% ডিসকাউন্ট।
এই সুযোগ গ্রহন করে ঝুঁকিমুক্ত হোন।
শোভন ডেন্টাল কেয়ার এন্ড অর্থোডন্টিক্স
(অল্প খরচে দাঁতের বিশ্বমানের আধুনিক চিকিৎসা)
ফোন : ০১৭১৮২৬৭৪৪২
DrShovon Banik
BDS, MPH
Consultant, Shovon Dental Care and Orthodontics