18/01/2024
বাচ্চাদের দুধ দাঁত ওঠা ও পড়ার সময়কাল
=========================
ডেন্টাল প্র্যাকটিসে অভিভাবকদের যে প্রশ্নটির উত্তর ডাক্তারদের সম্ভবত সবচেয়ে বেশি দিতে হয় তা হল “এই দাঁতটা কি পড়লে আবার উঠবে?”। চলুন দেখে নিই বাচ্চাদের দুধ দাঁত কখন ওঠে আর কখন পড়ে এবং এই সময়ের কিছু সাবধানতা।
দুধ দাঁত কি ও এগুলোর কাজ কি?
দুধ দাঁত হল স্থায়ী দাঁতের পূর্বসূরি। বাচ্চাদের চোয়াল একবারে স্থায়ী দাঁত ওঠার উপযোগী নয়। তাই চোয়ালের গঠন ও দাঁতের আকারের সামঞ্জস্য রাখার জন্য প্রথমে ছোট দুধ দাঁত ওঠে। তারপর তার নীচের থেকে একে একে ওঠে স্থায়ী দাঁত। তার মানে দুধ দাঁতের কাজ হল খাওয়া দাওয়া আর স্থায়ী দাঁতের জন্য জায়গা ধরে রাখা।
মোট বিশটি দুধ দাঁত ওঠে। মাড়িকে যদি আমরা চারভাগে ভাগ করি তবে প্রত্যেক ভাগে পাঁচটি করে দাঁত ওঠে। –
উপরে ডানে ৫ টি
উপরে বামে ৫ টি
নীচে ডানে ৫ টি
নীচে বামে ৫ টি
এই পাঁচটি দাঁতকে যথাক্রমে A,B,C,D,E বলা হয়। এগুলো পড়ে যে স্থায়ী দাঁত ওঠে তাদের বলা হয় যথাক্রমে 1,2,3,4,5।
গুরুত্বপূর্ণ : মনে রাখবেন মাড়ির এই পাঁচটি দুধ দাঁত এর পরের অংশে প্রত্যেক ভাগে আরো তিনটি স্থায়ী দাঁত ওঠে। এরা হল ৬,৭,৮ নম্বর দাঁত। এদের কোন দুধ দাঁত থাকে না। এরা প্রথমবারেই স্থায়ী দাঁত হিসেবেই ওঠে। তাহলে প্রত্যেক ভাগে ৮ টি করে মোট ৩২ টি দাঁত হয়।
দুধ দাঁত ওঠা ও পড়ার সময়কাল-
বাচ্চাদের দুধ দাঁত সাধারনত ওঠা শুরু হয় ৬মাস বয়স থেকে। সবগুলো দাঁত ওঠার সময় জানা বা মুখস্ত রাখা জরুরী নয়। এই সময় বাচ্চারা যেকোন জিনিস কামড়াতে চায়। আর দাঁত ওঠার সময় সামান্য ব্যাথা অনুভব হতে পারে।
তাই এই সময় একটু বেশি খেয়াল করে দাঁতের যত্ন নিতে হবে। এইসময় মাড়ি দাঁত থেকে একটু আলগা থাকে। খাবার জমে সহজেই। তাই এই বাড়তি যত্ন।
দুধ দাঁত ওঠার চেয়ে দুধ দাঁত পড়ার সময় সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা থাকা বেশি জরুরি। ঠিক সময়ের বেশি আগে কিংবা বেশি পরে দুধ দাঁত পড়ে যাওয়া দুটোই খারাপ।
প্রায়ই দেখা যায় বাচ্চাদের ব্রাশ করানোর সময় সামনের দিকের চেয়ে পিছনের দাঁত এর উপর কম গুরুত্ব দিয়ে থাকেন অভিভাবকরা। অথচ দেখুন, সামনের দাঁতগুলো খুব দ্রুত পড়ে যায়, ৬-৮ বছরের মধ্যে। কিন্তু পিছনের দাঁতগুলি পড়ার স্বাভাবিক সময় কিন্তু আরো পরে। তাই ব্রাশ করা একটু কঠিন বলে পিছনের দাঁতকে অবহেলা করা বড় ভুল।
দুধ দাঁত স্বাভাবিক সময়ের আগে/পরে পড়লে কি হয়?
দুধ দাঁত যদি স্বাভাবিক।সময়ের আগে পড়ে যায়, তবে স্থায়ী দাঁত সঠিক জায়গায় উঠতে পারে না। তাছাড়া পাশের দাঁত নিজের জায়গা থেকে সরে যায়। ফলে স্থায়ী দাঁত আঁকাবাঁকা হয়ে ওঠে। দুধ দাঁত স্বাভাবিক সময়ের বেশি সময় মাড়িতে থাকলেও একই সমস্যা হতে পারে। তখন স্থায়ী দাঁত আটকা পড়ে যায় অথবা মাড়ির ভিতরে বা বাইরের পাশ দিয়ে ওঠে। তাই যেই দুধ দাঁত যখন পড়ার সময় তখন বা অন্তত তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা দরকার।
“এই দাঁত তো পড়েই যাবে” এই ভেবে দুধ দাঁতের যত্নে অবহেলা করা যাবে না।মনে রাখবেন দুধ দাঁত স্থায়ী দাঁতের চেয়ে দুর্বল হয়। তাই এদের যত্নও বেশি নিতে হবে।
আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকুন। আর দাঁতের যত্ন নিন।
Dr. Romana Yeasmin