13/01/2026
দাঁত স্কেলিং সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা:
একজন দক্ষ ডেন্টিস্টের কাছে সঠিক নিয়মে দাঁত স্কেলিং (Scaling) করালে দাঁতের কোনো স্থায়ী ক্ষতি বা অপকারিতা নেই। বরং মাড়ি ও দাঁত সুস্থ রাখার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
তবে স্কেলিং করার পর সাময়িকভাবে কিছু অস্বস্তি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা অনেকে "অপকারিতা" মনে করেন। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
👉সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Temporary Side Effects):
স্কেলিংয়ের পর কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে যা সাধারণত কয়েক দিন বা এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়:
🔹দাঁত শিরশির করা (Sensitivity): দাঁতের গোড়ায় জমে থাকা পাথর (Tartar) সরে যাওয়ার কারণে দাঁত সাময়িকভাবে গরম বা ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। এটি কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যায়।
🔹মাড়ি থেকে সামান্য রক্তপাত: যাদের মাড়িতে আগে থেকেই প্রদাহ (Gingivitis) ছিল, তাদের স্কেলিংয়ের সময় বা পরে সামান্য রক্ত বের হতে পারে। এটি মাড়ি সুস্থ হওয়ার লক্ষণ।
🔹মাড়িতে হালকা ব্যথা: মাড়ির গভীর থেকে পাথর পরিষ্কার করার ফলে মাড়ি কিছুটা নমনীয় বা কালচে হতে পারে, যা ১-২ দিন সামান্য ব্যথা করতে পারে।
🔹দাঁতের মাঝে ফাঁকা মনে হওয়া: দীর্ঘদিন পাথর জমে থাকার ফলে দাঁতের মাঝখানের ফাঁকা স্থান ভরাট হয়ে থাকে। স্কেলিং করে পাথর সরিয়ে ফেললে সেই ফাঁকা জায়গাগুলো জিহ্বায় অনুভব হয়। অনেকে ভাবেন স্কেলিং করে দাঁত ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে, যা ভুল ধারণা।
⚠️কখন স্কেলিং ক্ষতিকর হতে পারে?
👉অদক্ষ কারো কাছে করালে: কোনো হাতুড়ে ডাক্তার বা টেকনিশিয়ান যদি অপরিচ্ছন্ন যন্ত্র বা ভুল পদ্ধতিতে জোরে ঘষাঘষি করে স্কেলিং করেন, তবে এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
👉ঘন ঘন করালে: সাধারণত ৬ মাস বা ১ বছর পর পর স্কেলিং করা উচিত। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার অপ্রয়োজনে স্কেলিং করালে এনামেলের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
👉পরামর্শ
স্কেলিংয়ের পর শিরশির ভাব কমাতে ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী 'Desensitizing Toothpaste' ও মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন এবং কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করতে পারেন।