07/05/2026
এই নামটিকে বাংলাদেশের অনেক ডেন্টাল সার্জনরাও হয়তোবা চিনে না।
প্রফেসর ডা. আবু হায়দার সাজেদুর রহমান স্যার ।
শ্রদ্ধেয় স্যারকে নিয়েই আমাদের Humans of DDC এর আজকের পর্ব।
১৯৩০ সালে জয়পুরহাট জেলায় যার জন্ম। যিনি বাংলাদেশের ডেন্টাল সার্জনদের নিকট "মাস্তানা স্যার" নামেই সুপরিচিত ছিলেন।
বাংলাদেশের ডেন্টিস্ট্রির সূচনালগ্নে, এ দেশের মানুষের মুখ-দাঁতের শিক্ষা,চিকিৎসা ও সম্প্রসারণ যার একক প্রচেষ্টার ফসল। ক্ষণজন্মা এই প্রতিভা একই সাথে ছিলেন MBBS এবং BDS ডিগ্রির অধিকারী, যা এদেশের ইতিহাসে বিরল। যিনি ছিলেন লাহোর থেকে বিডিএস পাশ করা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল বিভাগের প্রথম শিক্ষক। স্যার লাহোর হতে বিডিএস পাশ করে আসার পর নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৬১ সালের ১লা আগস্ট ৬ জন ছাত্রসহ তাকে নিয়ে দেশের একমাত্র ডেন্টাল কলেজ চালু হয় । তখন প্রায় সবগুলো বিষয় তিনি একাই পড়াতেন। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক এবং চতুর্মুখী প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন অত্যন্ত সফল ডেন্টাল সার্জনের পাশাপাশি একাধারে গায়ক, লেখক,বুদ্ধিজীবী প্রমুখ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন ।
ছদ্মনামে "কুয়াশা" নামে একটা জনপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ লিখতেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে একটি গান উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার কন্ঠে গাওয়া তুফান চলচ্চিত্রের "ও দরিয়ার পানি তোর মতলব জানি" ও ফেরদৌস ওয়াহিদের সিনেমায় গাওয়া "নেশার লাটিম ঝিম ধরেছে" বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৮০ সালে বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। সাজেদুর রহমান স্যারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৮৪ সালে এদেশে ডেন্টিস্ট্রির প্রথম পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি ডিডিএস(DDS) কারিকুলাম চালু হয়।
অধুনা ডেন্টিস্ট্রির ফরেনসিক ওডোন্টোলজিতেও স্যারের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
স্যারের মুখে শোনা একটা কাহিনী বলি-
"স্যার ইংল্যান্ডে থাকাকালীন একবার একটি কিশোরী মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া যায়। যেটার গায়ে কিছু কামড়ের আলামত ছিল। মৃত্যুর কিনারা করতে না পারায় এই কামড়গুলো বিশ্লেষণ এর জন্য স্যারের ডাক পড়লো। স্যার কামড়ের জায়গায় ইম্প্রেশন নিয়ে মডেল বানিয়ে মার্ডারার সম্পর্কে আইডিয়া দিয়েছিলেন যার প্রেক্ষিতে হত্যাকারী ধরা সম্ভব হয়।"
আমরা স্মরণ করছি সেই মহান ব্যক্তিকে!