28/12/2023
#শিশুর_দাঁত_ওঠা
প্রতিটি বাবা-মা ই কবে তার শিশুটির দাঁত উঠবে, কবে সেই সুন্দর দাঁতের হাসি দেখবে তা নিয়ে আকুল আগ্রহে থাকে। মনে রাখতে হবে শিশুর দাঁত উঠার একটা নির্দিষ্ট সময় থাকলেও তা একদম ক্যালেন্ডার ধরা সময় নয়।এর কিছুটা এদিক ওদিক হতে পারে।
শিশুর প্রথম যে দাঁত উঠে তাকে বলা হয় দুধ দাঁত (Decidual teeth or primary teeth)।
একেক স্থানের দাঁত একেক সময় উঠে, তেমনি একেক স্থানের দাঁত এক সময় পড়ে যায়।
বেশীরভাগ বাচ্চারই ৪-৭ মাসের মধ্যে প্রথম দাঁত দেখা যায়।কিছু কিছু বাচ্চার ৩ মাসের মাথায় দাঁত উঠতে পারে আবার কারও ১ বছর বা তার কিছু বেশী সময়ও লাগতে পারে।(অল্প কিছু ক্ষেত্রে বাচ্চার জন্মের সময়ই দাঁত দেখা যেতে পারে!)। শিশুদের দুধদাঁত ছয় মাস বয়স থেকে মুখে গজাতে শুরু করলেও এর মূল ভিত্তি তৈরি হয় মাতৃগর্ভে থাকার সময়ে, যখন মা ছয় থেকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকেন।বাচ্চার দাঁত একটি একটি করে উঠতে পারে আবার বেশ কয়েকটি একসাথেও উঠতে পারে। বাচ্চার সব দাঁত সোজা হয়ে নাও উঠতে পারে। কিন্তু তাতে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। আস্তে আস্তে এটা ঠিক হয়ে যায়।
মানুষের দুধ দাঁত থাকে- ২০ টি।বাচ্চার তিন বছর বয়সের মধ্যে সাধারনত ২০ টি দুধ দাঁতই উঠে যায়। সাধারণত ছয় বছর বয়সের দিকে এই দুধদাঁত পড়তে শুরু করে এবং এর জায়গায় নতুন স্থায়ী দাঁত ওঠে। মেয়েদের দাঁত সাধারণত ছেলেদের আগেই পড়ে। ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে সব দাঁত পড়ে গিয়ে আবার ওঠারউ কথা।শিশুর বয়স ১৮ মাস হওয়ার পরও যদি দাঁত না ওঠে তাহলে ডেন্টাল সার্জন এর পরামর্শ নিতে হবে।
দাঁত ওঠার সময় যে লক্ষনগুলো সবচেয়ে বেশী সমস্যায় ফেলে সেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
১।মুখ থেকে লালা পড়া ( এর থেকে মুখে লাল দাগ পড়ে যেতে পারে)
২।মাড়ী ফোলা এবং স্পর্শকাতরতা কামড়ানো
৩।অকারনে রাগ অথবা অস্থিরতা।
৪।দাঁত ওঠার সময় বাচ্চাদের মুড একেবারেই ভালো থাকে না। সেই সময় তাদের বার বার মাথা চুলকাতে দেখা যায়। এমনকি চোখ চুলকে নিজেদের অস্বস্তি প্রকাশ করে তারা।
৫।এই সময় বাচ্চাদের খাবার ইচ্ছে চলে যায়। তাদের দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হয়। সেই কারণেই বাচ্চা খেতে চায়না।
৬।ব্যথা আর শিরশিরানির জন্য বার বার ঘুম ভেঙে যায় বাচ্চাদের। সেই কারণে তাদের ঘুম খুব কম হয়। অনেক সময় দাঁত ওঠার আগে মাড়িতে ইনফেকশন হয়ে যাওয়ার ফলেও ব্যথা হয়। যার কারণে বাচ্চাদের ঘুম ভেঙে যায়।
নিচের মাড়িতে, মাঝের দাঁত প্রথমে ওঠে, এরপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য দাঁত ওঠা শুরু করে। যেহেতু এটি মাড়ি ফুঁড়ে বের হয়, তাই দাঁত ওঠার সময় মাড়ি ফুলে যেতে পারে। কখনো কখনো কিছু দাঁত উঠার সময় তা বেশ যন্ত্রণাদায়ক হয়, বিশেষ করে পিছনের দাঁত ওঠার সময়। পিছনের দাঁত বেশি জায়গা নিয়ে ওঠে, তাই এই সময় শিশুরা বেশি কষ্ট পায়। এটি স্বাভাবিক, ঘাবড়াবার কিছু নেই। একে সহজভাবে নিতে হবে। অনেক শিশুর কোন সমস্যাই হয় না, আবার কারোর সামান্য সমস্যা হয়, আবার চলেও যায়।
দাঁত ওঠার সময় জ্বর আসা, ডায়রিয়া বা সর্দি স্বাভাবিক। দাঁত ওঠার সময় ডায়রিয়ার হতে পারে। শিশুর অতিরিক্ত লালা তার অন্ত্রে গিয়ে জমা হয় এবং পায়খানাকে নরম করে ফেলে।
আসলে দাঁত ওঠার সঙ্গে ডায়ারিয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু, দাঁত ওঠার সময় বাচ্চাদের মাড়ি খুব শিরশির করে। যার ফলে তারা বিভিন্ন জিনিস মুখে দেয়। আর এই কারণেই তাদের পেটে ইনফেকশন হয়। যার ফলে ডায়ারিয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
মাড়ির যন্ত্রনার জন্য শিশু অল্প
জ্বরে ভুগতে পারে ( ১০১ ডিগ্রি ফারেন হাইটের কম)। শিশুর তাপমাত্রা যদি ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা তার বেশী হয় ( ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য ১০০.৪ ডিগ্রি অথবা তার বেশী) তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। ডাক্তার বলতে পারবেন তার লক্ষনগুলো কোন সংক্রমনের কারন কিনা যার জন্য ঔষধের প্রয়োজন পড়বে। আপনার শিশুর পায়খানা যদি নরম হয়, ডায়রিয়া না হলে, ঘাবড়াবার কিছু নেই। এটা এমনিতেই সেরে যাবে।
বাচ্চার দাঁত ওঠার সময় আরাম দেয়া যায় ওর জন্য নন টক্সিমেটেরিয়ালের তৈরি টিদার কিনতে পারেন। অনেক টিদারের ভেতরে লিকুইড ভরা থাকে, এগুলো কিছু সময় ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা হলে শিশুকে দিন। ঠাণ্ডা স্থানে কামড় বসালে শিশুর আরাম লাগবে।
পরিষ্কার আঙুল মুখে শিশুর মুখে দিতে পারেন যাতে শিশু কামড় দিতে পারে। মাড়িতে মৃদু চাপ দেয়া যেতে পারে, এতে শিশু আরাম বোধ করবে।অথবা পরিষ্কার কাপড়ের টুকরা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে মুখে দেয়া যেতে পয়ারে, যাতে শিশু তাতে কামড় দিতে পারে।
দাঁত ওঠার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত-
১।দাঁত ওঠার সময় শিশুরা এটা-ওটা কামড়াতে চায় বলে অনেক মা শিশুর মুখে চুষনি দিয়ে রাখেন। এ চুষনি বা খেলনা
দিয়া ঠিক না।
২।বাচ্চাদের হাত বা খেলনা সবসময় পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানিতে ধুয়ে রাখা উচিত।
৩।অনেককিছু মুখে দেয়ার কারনে মুখ দিয়ে লালা পড়ে। মুখমুছে দিতে হবে তা না হলে মুখে র্যাশ হতে পারে।
দাঁত উঠতে দেরি হলে দুশ্চিন্তা না করে সরাসরি ডেন্টাল সার্জন এর কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া উচিত।