14/01/2026
অনেক রোগী বলেন,
"মুখের ভেতরে ঘা হয়েছে। কিছু খেতে গেলেই জ্বালা করে, ঝাল বা গরম খেলেই সহ্য হয় না। কথা বলতেও অস্বস্তি লাগে।”
এই ধরনের ঘাকে সাধারণভাবে বলা হয় মুখের ঘা বা মাউথ আলসার।
🔹 এই ঘা টা কী?
মুখের ভেতরের নরম অংশে (গাল, ঠোঁটের ভেতর, জিহ্বা বা মাড়িতে) যখন ক্ষত বা লালচে দাগ হয় এবং ব্যথা বা জ্বালা অনুভূত হয়, তখন তাকে মুখের ঘা বলা হয়। এটি বেশিরভাগ সময় ক্ষতিকর নয়, তবে অস্বস্তিকর।
🔹 সাধারণ কারণ:
◽মুখের ভেতরে কামড়ে লাগা,
◽খুব ঝাল, গরম বা শক্ত খাবার,
◽দাঁতের ধারালো অংশ বা ভাঙা দাঁত,
◽মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাব, ভিটামিন B বা আয়রনের ঘাটতি,
◽মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব,
◽দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা,
◽শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
🔹 সাধারণ লক্ষণ:
◽মুখের ভেতরে লাল বা সাদা ঘা,
◽খাওয়া বা কথা বলার সময় ব্যথা,
◽ঝাল বা গরম খাবারে জ্বালা,
◽কখনও মুখের ভেতর ফোলা ভাব,
◽বেশি হলে খেতে অনীহা।
👉 সবার ক্ষেত্রে লক্ষণ একরকম নাও হতে পারে।
🔹 রোগীর বাস্তব কথা থেকে সচেতনতা:
অনেকে বলেন,
“আমি ভাবছিলাম এমনিতেই সেরে যাবে, কিন্তু কয়েকদিন পরেও ভালো হচ্ছিল না।”
এখানেই সচেতন হওয়া জরুরি।
🔹 করণীয় (সাধারণ পরামর্শ):
◽ঝাল, গরম ও শক্ত খাবার আপাতত এড়িয়ে চলা।
◽কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলি করা।
◽মুখ পরিষ্কার রাখা।
◽পর্যাপ্ত পানি পান করা।
◽ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলা।
◽মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা।
◽ঘা বারবার হলে বা দীর্ঘদিন না সারলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
⚠️ নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ বা জেল ব্যবহার না করাই ভালো।
🔹 কখন অবশ্যই ডেন্টাল সার্জনের কাছে যাবেন-
👉 ১০–১৪ দিনের মধ্যে না সাড়লে,
👉 ঘা খুব বড় হলে বা বারবার হলে,
👉জ্বর, অতিরিক্ত ব্যথা বা ফোলা থাকলে,
👉 ওজন কমে যাওয়া বা খেতে খুব কষ্ট হলে।
ডা. আবদুর রহিম
বিডিএস( চমেক), পিজিটি
ওরাল & ডেন্টাল সার্জন
কনসালটেন্ট, হেনা ডেন্টাল & ইমপ্ল্যান্ট সেন্টার
✆ 01878-900190
✆ 01620581593