Dr.Mohammed Morshed Alam

Dr.Mohammed Morshed Alam Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr.Mohammed Morshed Alam, Chittagong.

Dental & Maxillofacial Surgeon
BDS,FCPS(Oral & Maxillofacial Surgey)
Assistant Professor of Oral & Maxillofacial Surgery
Dental Unit,Chittagong Medical College
BMDC no: 1025

A Hidden threatট্রান্সফ্যাট কী ও শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর:ট্রান্সফ্যাট শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এর প্রভাব সম্পর্ক...
20/04/2026

A Hidden threat

ট্রান্সফ্যাট কী ও শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর:

ট্রান্সফ্যাট শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যাপক তথ্য–প্রমাণ রয়েছে। এটি প্রধানত কৃত্রিমভাবে উৎপন্ন হয়, যেমন আংশিক হাইড্রোজেনেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিজ্জ তেল থেকে এবং কিছু প্রাকৃতিকভাবে, যেমন গরু–মহিষের মাংস বা দুগ্ধজাত পণ্যে অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়। ট্রান্সফ্যাট শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এর কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। এটি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, লিভারের ক্ষতি ও অন্যান্য গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

ট্রান্সফ্যাটের উৎস:
কৃত্রিম: মার্জারিন, শর্টেনিং, প্রক্রিয়াজাত খাবার (যেমন চিপস, কেক, বিস্কুট, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই) ও ফাস্ট ফুড।

প্রাকৃতিক: মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যে অল্প পরিমাণে (তবে এর প্রভাব কৃত্রিম ট্রান্সফ্যাটের মতো তীব্র নয়)।

ট্রান্সফ্যাট আপনার শরীরে কী ক্ষতি করতে পারে, এটা জানলে আপনি হয়তো সতর্ক থাকতে পারবেন। এই লেখা সতর্ক করার জন্যই।

১. হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি

ট্রান্সফ্যাট শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি ধমনিতে প্লাক (Atherosclerosis) তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়, যা হৃদ্‌রোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (AHA) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে যে প্রতিদিন মোট ক্যালরির ১ শতাংশ ট্রান্সফ্যাট গ্রহণও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।

২. প্রদাহ (Inflammation) বৃদ্ধি
ট্রান্সফ্যাট শরীরে প্রদাহজনক প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে, যা বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণ হতে পারে, যেমন ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস ও ক্যানসার।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ: ২০০৬ সালে ‘Journal of Nutrition’–এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের সঙ্গে সিআরপি নামক প্রদাহ সূচকের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

৩. টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

ট্রান্সফ্যাট ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি করে। এটি টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ: ‘American Journal of Clinical Nutrition’ (২০০১)–এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যাঁরা নিয়মিত ট্রান্সফ্যাট–সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করেন, তাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩১ শতাংশ বেশি।

৪. লিভারের ক্ষতি
ট্রান্সফ্যাট লিভারে ফ্যাট জমতে সাহায্য করে, যা নন–অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের দিকে নিয়ে যায়। এটি দীর্ঘ মেয়াদে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারে।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ: ২০১৭ সালে ‘Hepatology’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ট্রান্সফ্যাট ও লিভারে ফ্যাট জমার সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

৫. ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা

ট্রান্সফ্যাট শরীরে বিপাকপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ায়, বিশেষ করে পেটের চারপাশে (Visceral Fat), যা স্থূলতা ও বিপাকীয় সমস্যার কারণ।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ: ২০০৭ সালে ‘Obesity’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণকারী প্রাণীদের ওজন বৃদ্ধি অন্যান্য চর্বির তুলনায় বেশি হয়।

৬. ক্যানসারের সম্ভাবনা
গবেষণায় ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের সঙ্গে স্তন ক্যানসার ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এটি প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধির কারণে ঘটে।

তথ্য: ‘European Journal of Cancer Prevention’ (২০০৮)–এর একটি গবেষণায় বিস্তারিত দেওয়া আছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)–এর স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, দৈনিক মোট ক্যালরির ১ শতাংশের কম ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ করা উচিত এবং সম্ভব হলে সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘REPLACE’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করে, যার লক্ষ্য ২০২৩ সালের মধ্যে খাদ্য সরবরাহ থেকে কৃত্রিম ট্রান্সফ্যাট নির্মূল করা। অনেক দেশ (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত) ইতিমধ্যে এটি নিষিদ্ধ করেছে।

# সয়াবিন তেল # :
কেন ট্রান্সফ্যাট বাড়ে?

সয়াবিন তেল পরিশোধনের সময় উচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহার করা হলে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয়। বাংলাদেশে অনেক কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেও প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে এটি ঘটতে পারে।

আংশিক হাইড্রোজেনেশন: যদি তেল আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড হয়, তবে ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ বাড়ে।
• খোলা সয়াবিন তেলে ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম (গড়ে ২ শতাংশ বা তার কাছাকাছি)। কারণ, এগুলো সাধারণত কম প্রক্রিয়াজাত হয়।

• বোতলজাত তেলে বেশি (৪ থেকে ৮ শতাংশ বা তার বেশি)। কারণ, এগুলো বেশি পরিশোধিত এবং দীর্ঘ সংরক্ষণের জন্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।

বাংলাদেশে বোতলজাত সয়াবিন তেলে ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ফলাফল থেকে জানা গেছে যে অনেক ক্ষেত্রে এটি ২ শতাংশের বেশি, গড়ে ৪ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। তবে নিয়মিত ও ব্যাপক পরীক্ষার মাধ্যমে এই তথ্য আরও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়াতে ও নীতি কার্যকর করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা দরকার।

জানু২০২৪ সালেরয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় (ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের পরীক্ষাগারে পরিচালিত ও ফুড কেমিস্ট্রি অ্যাডভান্স (Food Chemistry Advances) জার্নালে প্রকাশিত) দেখা গেছে যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের নমুনার প্রায় ৬৭ শতাংশ (১৮টির মধ্যে ১২টি) ও খোলা সয়াবিন তেলের নমুনার প্রায় ২৫ শতাংশে সহনীয় মাত্রার (২ শতাংশ) চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে। গড়ে এই নমুনাগুলোয় ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ সহনীয় মাত্রার ২ থেকে ৪ গুণ বেশি ছিল অর্থাৎ ৪ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। কিছু ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) ২০২১ সালে ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ জারি করে, যা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এতে খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সয়াবিন তেল এই মান মেনে চলছে না।

তাই এটি এড়িয়ে চলা এবং প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর তেল, যেমন অলিভ ওয়েল, নারকেল তেল ইত্যাদি ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

লেখক:
আলমগীর আলম
খাদ্য ও পথ্য–বিশেষজ্ঞ; প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র

প্রতি বছর এপ্রিল মাস বিশ্বব্যাপী মুখের ক্যান্সার সচেতনতা মাস (Oral Cancer Awareness Month) হিসেবে পালিত হয়। এই মাসের মূ...
19/04/2026

প্রতি বছর এপ্রিল মাস বিশ্বব্যাপী মুখের ক্যান্সার সচেতনতা মাস (Oral Cancer Awareness Month) হিসেবে পালিত হয়। এই মাসের মূল উদ্দেশ্য হলো মুখ, গলা ও ঠোঁটের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস (যেমন- তামাক সেবন) এবং প্রাথমিক স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। প্রাথমিক সনাক্তকরণ জীবন বাঁচাতে পারে।

কারণ:
১.তামাক ও তামাক জাতীয় দ্রব্য প্রধান কারণ :
*ধূমপান।
*পান-সুপারি ও সাদাপাতা, জর্দা, গুল, খৈনী ইত্যাদি তামাক জাতীয় পদার্থ গ্রহণ ও ব্যবহার।
৩. মদ্যপান।
৪. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস১৬(HPV- 16) এর সংক্রমণ।
৫. সূর্যালোকের সংস্পর্শ(ঠোঁটের ক্ষেত্রে)।
৬. প্রাক-ক্যান্সারীয় ক্ষত।( Oral potentially Malignant Disorders)



*উপসর্গঃ
১. মুখের কোন স্থানে(যেমনঃ ঠোঁট, জিহবার পার্শ্বদিকে,মাড়ি, তালু,গাল) দীর্ঘদিন ধরে ক্ষত যা সাধারণ চিকিৎসায় ভাল হচ্ছে না।(যা ২-৩ সপ্তাহেও সারে না)
২. মুখের ভেতর ব্যথা-বেদনাহীন ফোলা যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
৩. মুখের ভেতর কোন অংশে লালচে/ কালচে/সাদাটে ক্ষত বা ছোপ পরা।
(Leukoplakia,Erythro-leukoplakia,Erythroplakia)
৪. জিহবা নাড়াতে অসুবিধা হওয়া, কথা বলতে অসুবিধা অনুভব বা খাদ্য গেলার সময় ব্যথা হওয়া।
৫. চিবুকের নিচে/ গলা বা ঘাড়ের লসিকাগ্রন্থি ব্যথাহীন ফুলে যাওয়া।

প্রতিরোধের উপায়ঃ
১.জীবনযাত্রা ও অভ্যাসের পরিবর্তন:
তামাক ও তামার জাতীয় পদার্থের অভ্যাস
* সম্পূর্ণভাবে ধূমপান পরিহার করা।*পান-সুপারি ও সাদাপাতা, জর্দা, গুল, খৈনী ইত্যাদি তামাক জাতীয় পদার্থ পরিহার করা।
*মদ্যপান পরিহার করা।
৪. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস- ১৬ (HPV-16) এর ভ্যাক্সিন গ্রহণ করা।
৫. দাঁতের ভাংগা অংশ / নকল দাঁতে সুচালো অংশ যার আঘাত থেকে ক্ষত/ ঘা হচ্ছে তা ভোঁতা করা বা পরিবর্তন করা।
৬. প্রাক-ক্যান্সারীয় ক্ষতের ( Potentially Malignant Disorders)চিকিৎসা করা।
৭. রোদে বের হলে ঠোঁটে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
৮. মুখের কোন ক্ষত/ ঘা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে(ব্যথা থাকুক বা না থাকুক)অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।
৯. ৬ মাস অন্তর অন্তর একজন রেজিস্টার্ড ডেন্টাল সার্জনের কাছে মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
১০. মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখা।
১১. প্রতিদিন নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম
১২. সুষম খাদ্য ও তাজা ফল-মূল গ্রহণ।

মুখের ভেতর কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

18/04/2026
Oral Cancer Awareness month AprilAnswer :True"Early diagnosis, prompt treatment, better survivaland prognosis "
14/04/2026

Oral Cancer Awareness month April
Answer :True
"Early diagnosis, prompt treatment, better survival
and prognosis "

True or False? Routine dental visits can support early detection of head and neck cancers. Image: Head and neck cancer regions, illustrated by Therese Winslow

জনস্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক পোস্ট মানবদেহে Proton Pump Inhibitors ( প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর)  বা সাধারণ ভাষায় ‘গ্যাস্ট্রিকের ...
11/04/2026

জনস্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক পোস্ট

মানবদেহে Proton Pump Inhibitors ( প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর) বা সাধারণ ভাষায় ‘গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ’ (যেমন: ওমেপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল, এসোমেপ্রাজল) দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। যদিও এই ওষুধগুলো এসিড নিঃসরণ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর, তবে দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো সেবন করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক নিয়মে ও নির্দিষ্ট সময়ে পর্যন্ত সেবন করা উচিত।

** দীর্ঘ মেয়াদে এর ব্যবহার মানবদেহের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কি কি হতে পারে?

প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) কী?

PPI হলো এমন একধরনের ওষুধ যা পাকস্থলীর অ্যাসিড কমায়।এই ওষুধগুলো সাধারণত গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালা, আলসার ও অ্যাসিডিটির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।বর্তমানে এটি ওটিসি (OTC) ড্রাগ হয়ে গেছে।

সাধারণ নাম:
• Omeprazole (ওমিপ্রাজল)
• Pantoprazole (প্যান্টোপ্রাজল)
• Esomeprazole (ইসোমিপ্রাজল)
• Rabeprazole (রাবিপ্রাজল)

পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে কমে যাওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক কিছু প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় ।
দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের প্রধান প্রভাবগুলো নিচে দেওয়া হলো:
# পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি:
পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজ শোষণ করতে সাহায্য করে। অ্যাসিড কমে যাওয়ায় শরীরে এগুলোর অভাব দেখা দিতে পারে:

* ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12): অ্যাসিডের অভাবে খাবারের প্রোটিন থেকে এই ভিটামিন আলাদা হতে পারে না, ফলে স্নায়বিক সমস্যা ও রক্তশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে ।
* ম্যাগনেসিয়াম: দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে (Hypomagnesemia), যার ফলে মাংসপেশিতে খিঁচুনি বা হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।
* ক্যালসিয়াম ও আয়রন: ক্যালসিয়াম শোষণে বিঘ্ন ঘটায় হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

# # হাড়ের সমস্যা ও ফ্র্যাকচার:
দীর্ঘদিন পিপিআই সেবনের ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমতে পারে এবং নিতম্ব, কবজি বা মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়ার (Bone Fracture) ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় । বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি ।

# # সংক্রমণের ঝুঁকি:
পাকস্থলীর অ্যাসিড ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবজ দুর্বল হয়ে পড়ায় কিছু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে:

* অন্ত্রের সংক্রমণ:
ক্লোস্ট্রিডিয়াম ডিফিসিল (C. difficile) নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা মারাত্মক ডায়রিয়া বা অন্ত্রের প্রদাহ হতে পারে ।
* নিউমোনিয়া: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

# # অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে পরিবর্তন:
এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা হজম প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে

# # কিডনির জটিলতা:

গবেষণায় দেখা গেছে যে পিপিআই-এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার সরাসরি কিডনির ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত। এটি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) বা হঠাৎ কিডনি বিকল (Acute Interstitial Nephritis) হওয়ার কারণ হতে পারে।

কিন্তু সমস্যা হয় যখন —

*আপনি মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর এই ওষুধ খেয়ে যান
* নিজের ইচ্ছেমতো খাচ্ছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া
*কিডনির অসুখ আছে, অথচ জানেন না।

PPI কীভাবে কিডনির ক্ষতি করে?

১. Acute Interstitial Nephritis (AIN): হঠাৎ কিডনির ফোলা ও ক্ষতি

PPI ওষুধে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) ভুল করে কিডনিকে “শত্রু” মনে করে আক্রমণ করে।
এর ফলে কিডনির ভিতরে জ্বালা সৃষ্টি হয় ও কিডনি ফুলে যায়।

লক্ষণ:
• হঠাৎ প্রস্রাব কমে যাওয়া
• জ্বর
• দুর্বলতা বা গা ব্যথা
• গায়ে ফুসকুড়ি

চিকিৎসা না করলে এটা দ্রুত কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ করে দিতে পারে।

‌২. Chronic Kidney Disease (CKD): ধীরে ধীরে কিডনি নষ্ট হওয়া

PPI দীর্ঘদিন খাওয়ার ফলে কিডনি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় না।
এমনকি অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না যে তার কিডনি নষ্ট হচ্ছে।

এভাবে ধীরে ধীরে চিরস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) শুরু হয়। এটি নীরব ঘাতক।

৩. ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া

PPI দীর্ঘদিন খেলে রক্তে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও সোডিয়ামের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
এর ফলে:
• দুর্বলতা
• পেশীতে টান
• হৃদযন্ত্রের সমস্যা
• কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে

কারা বেশি ঝুঁকিতে?
* ৫০ বছরের বেশি বয়সীরা
* যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা আছে
* যারা বহুদিন ধরে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাচ্ছেন
* যারা আরও ওষুধ (যেমন পেইন কিলার বা ডায়াবেটিসের ওষুধ) এর সাথে PPI নিচ্ছেন

সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ:
1. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন PPI খাবেন না
2. যদি ২-৩ সপ্তাহের বেশি লাগছে, তবে কারণ খুঁজে বের করুন — শুধু গ্যাস্ট্রিক কমালে হবে না
3. PPI খেলে মাঝে মাঝে কিডনির ফাংশন (Creatinine, eGFR) পরীক্ষা করুন
4. কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ (প্রস্রাব কমে যাওয়া, দুর্বলতা, ফুসকুড়ি) হলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
#
স্মৃতিভ্রংশ বা Dementia: কিছু পর্যবেক্ষণে বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।



বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিপিআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে সেমিনারে এ ধরনের ওষুধ সেবনের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে আলোচনা হয়। জানা যায় ভয়ঙ্কর তথ্য। গ্যাস্ট্রিক বা পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রায় ৪৫ শতাংশ পিপিআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে হয়ে থাকে।

এ ছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে ক্ষতি হয় এমন ওষুধ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করতে হবে।

সংগৃহীত ও সম্পাদিত

জনস্বাস্থ্য  গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট "এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স(Antimicrobial Resistance), এক মহাবিপর্যয়ের হাতছানি!"আমা...
31/03/2026

জনস্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট

"এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স(Antimicrobial Resistance), এক মহাবিপর্যয়ের হাতছানি!"

আমাদের ক্যান্সার চিকিৎসায় অনেক সফল সার্জারি পোস্ট অপারেটিভ ইনফেকশন এর কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে রেজিস্টেন্স জীবাণুদের এর কারণে। রোগীদের আর্থিক খরচ বাড়ছে, বাড়ছে Morbidity & Mortality। তাই এখন থেকেই আমরা অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে ও ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করি। আসুন আমরা ও জনগন সচেতন হই।

বাজারে প্রচলিত ও অপ্রচলিত ব্যবহৃত প্রায়ই এন্টিবায়োটিক জীবাণুদের বিরুদ্ধে অকার্যকর।
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুগুলো দিনকে দিন আরো বেশি শক্তিশালী, বেপরোয়া ও বিধ্বংসী হচ্ছে।আই সি ইউ তে সুপারবাগগুলোর কাছে অনেক জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক গুলি অকার্যকর ও অসহায় পড়ছে । এটা শুধু মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের স্বাস্থ্যকেই বিপন্ন করছে না বরং খাদ্য নিরাপত্তা এবং Sustainable Development Goal (SDG) অর্জনের ঝুঁকিতে ফেলছে সারা বিশ্বকে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা( WHO) Antimicrobial Resistance কে (AMR) বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভয়াবহ হুমকি হিসেবে এরই মধ্যে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক শীর্ষ দশ জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির একটি হলো অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স।
অ্যান্টিবায়োটিকের irrational use, Misuse, Overuse করা হচ্ছে মানুষের দেহে, প্রাণীদেহে ও উদ্ভিদে। ফলশ্রুতিতে জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিক গুলোকে আরো অকার্যকর করে ফেলছে। আমরা শেষ সম্বল অ্যান্টিবায়োটিকগুলোকে ব্যবহার করে ফেলছি।বহয়তো ভবিষ্যতে আর হাতিয়ার থাকবে না। ফুরিয়ে যাচ্ছে । নতুন প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাচ্ছি?
বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নতুন অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে লাভ কম হচ্ছে বলে।পাইপলাইনে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আসছে না, অ্যান্টিবায়োটিক যা আসছে পূর্বের অ্যান্টিবায়োটিকের গঠনগত পরিবর্তন সাধন করে।

আমাদের কাছের অনেক মানুষ হয়তো এই মাল্টি পল /পেন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর আক্রমণে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০৫০ সালে এমন চলতে থাকলে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় ১০ মিলিয়ন লোক মারা যাবেন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুগুলোই দ্বারা। তাই এখন থেকেই আমরা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করি। আসুন আমরা ও জনগন সচেতন হই।

*সংক্ষেপে আলোচনা *
➡️এন্টিবায়োটিক কি ?

সহজ কথায় এন্টিবায়োটিক এমন এক ধরনের ঔষধ যা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে অথবা এর বৃদ্ধি ব্যাহত করে।

➡️এন্টিবায়োটিক কিভাবে কাজ করে ?

এটা জানার জন্য ব্যাকটেরিয়ার গঠন সম্পর্কে একটুখানি ধারণা রাখা প্রয়োজন।একটি ব্যাকটেরিয়ার কোষে-
১। কোষপ্রাচীর রয়েছে ।
২। কোষপর্দা রয়েছে ।
৩। আদিকোষী রাইবোজোম(70S) রয়েছে।
কিছু এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর তৈরী বন্ধ করে দেয়। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার কোষ পর্দার সাথে যুক্ত হয়ে তা ধ্বংস করে দেয়। যার কারণে অসমোটিক বার্স্ট হয়ে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। আবার কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার আদিকোষী রাইবোজোমের সাথে সংযুক্ত হয়ে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে অথবা এর বৃদ্ধি ব্যাহত করে। এছাড়াও কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ,আরএনএ এর উপর কাজ করে থাকে।

➡️ব্যাকটেরিয়া মানব কোষের ওপর কাজ করে ?
সাধারণত ব্যাকটেরিয়া মানব কোষের ওপর কাজ করে না, কারণ মানব কোষের গঠন ব্যাকটেরিয়ার গঠনের তুলনায় ভিন্ন।
যেহেতু আমাদের শরীরের অধিকাংশ রোগই ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্টি হয়, সেজন্য এই রোগ গুলো মোকাবিলার জন্য এন্টিবায়োটিক এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান সময়ে এন্টিবায়োটিক এর অপব্যবহার এর কারণে দিনে দিনে সারা বিশ্বে এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স বেড়ে যাচ্ছে এবং আমাদের সামনে অত্যন্ত ভয়ংকর এক সময় আসতে চলেছে।

➡️এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স কি?

আমরা ইতিমধ্যে দেখলাম যে অ্যান্টিবায়োটিক একটি ব্যাকটেরিয়া কোষের - কোষপ্রাচীর, রাইবোজোম,কোষপর্দা, ডিএনএ, আরএনএ এর সাথে সংযুক্ত হয়ে কাজ করে। আমরা অনেক সময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভুল অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করি, অ্যান্টিবায়োটিক এর সঠিক কোর্স সম্পন্ন করি না। সে কারণে রোগ সৃষ্টি কারী ব্যাকটেরিয়া গুলো সম্পূর্ণ ভাবে মরে যায় না তখন অবশিষ্ট ব্যাকটেরিয়া গুলো ওই নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
কারণ এন্টিবায়োটিক টি ব্যাকটেরিয়া কোষের যে রিসেপটরে গিয়ে সংযুক্ত হতো সেই রিসেপটরকে ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তন করে ফেলে মিউটেশন এর মাধ্যমে। আবার অনেক ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিড নামক ডিএনএ উক্ত অ্যান্টিবায়োটিক কে ধ্বংস করার এনজাইম তৈরি করে।অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া তার কোষপর্দায় কিছু পরিবর্তন করে,যা পরবর্তিতে উক্ত এন্টিবায়োটিক কে কোষের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয়।
আবার ব্যাকটেরিয়ার আরো একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে,তারা খুবই পরোপকারী। কোনো একটা ব্যাকটেরিয়া যখন একটা নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে,তখন সেই ব্যাকটেরিয়া সেই প্রতিরোধ তৈরির পদ্ধতি(রেজিসটেন্স ফ্যাক্টর) প্লাজমিডের মাধ্যমে অন্য ব্যাকটেরিয়াকেও দিয়ে দেয়।এভাবে ওই সকল ব্যাকটেরিয়া ওই নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক এর বিপরীতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এভাবে আমরা যখন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অনেক এন্টিবায়োটিক এর অপব্যবহার করি,তখন সেই সকল এন্টিবায়োটিক গুলোর বিরুদ্ধে আমাদের শরীরের রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া গুলো প্রতিরোধ(রেজিসটেন্স) গড়ে তোলে।
যার কারণে পরবর্তীতে সেই ব্যক্তির ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগের চিকিৎসায় রেজিসটেন্স প্রাপ্ত এন্টিবায়োটিক গুলো ব্যবহার করে কোনো সুফল পাওয়া যায় না।বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হচ্ছে এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্সের জন্য। কারণ তার শরীরে এত পরিমাণ এন্টিবায়োটিক এর প্রতি রেজিসটেন্স গড়ে উঠেছে যে, ব্যাকটেরিয়া জনিত সাধারণ রোগের চিকিৎসাতেও কোনো ঐন্টিবায়োটিক কাজ করছে না তার শরীরে এবং এই সংখ্যাটাও দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

➡️অন্য একজনের শরীরে এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স ডেভেলপ করেছে, এতে আমার কি সমস্যার হবে ?

জি। যে সকল ব্যাকটেরিয়া একজনের শরীরে থেকে অন্য জনের শরীরে যেতে পারে তাদের মাধ্যমেই এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স অন্য আরেকজনের শরীরে গড়ে উঠতে পারে। আবার অনেক এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স ব্যাকটেরিয়া পরিবেশের মাটি,পানি,বাতাস ইত্যাদি মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকতে পারে এবং আর একজনের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
একারণে "এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স" বিষয়টি বর্তমান সময়ের জন্য একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।এর প্রতিরোধ করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ সামান্য জ্বরের চিকিৎসাও করতে পারবে না কারণ প্রত্যেকের শরীরেরই তখন সকল এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে রেজিসটেন্স গড়ে উঠবে।

➡️এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স প্রতিরোধের উপায় কি?

রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যত্রতত্র এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা। কারণ কেবলমাত্র একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকই জানেন আপনার কখন কোন ডোজে এবং কতদিন এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।আবার কোনো কোনো রোগের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র একটি এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করলে সহজে রেজিসটেন্স গড়ে উঠতে পারে,সে সকল রোগের ক্ষেত্রে একাধিক এন্টিবায়োটিক একত্রে সেবন করতে হয়। এজন্য কখনোই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করা উচিত নয়।
২০১৯ সালে সারা বিশ্বে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্স এর কারণে ১.২৭ মিলিয়ন এবং বাংলাদেশে ২৬২০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

২০২৩ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে "ঔষধ ও কসমেটিকস আইন,২০২৩" প্রণয়ন করা হয়। এই আইনে -
ষষ্ঠ অধ্যায়ে , ৪০ নং ধারায় বলা হয়েছে -
কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত এন্টিবায়োটিক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিক্রয় করিতে পারিবে না। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রয় করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এই বিশ্বের প্রতিটি মানুষের সচেতনতাই কেবল পারে "এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স" নামক অদূর ভবিষ্যতের এই মহামারী কে রুখে দিতে।
Reference:
1.Review Of Medical Microbiology And Immunology 17th
2.Laurance Clinical Pharmacology
3. ঔষধ ও কসমেটিকস আইন,২০২৩
(মো:মেহেনুর ইসলাম(মেরিট)
সেশন: ২০২০-২১,প্রাইম মেডিকেল কলেজ।)

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কেন দেখা দেয়?
*সঠিক পরিমাণে এবং সময়মতো এন্টিবায়োটিক না নেওয়া হলে।সিডিসির মতে, প্রায় অর্ধেক রোগীর ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বাচন, ডোজ ও মাত্রা সঠিক থাকে না। অনেক সময় আমরা রোগের উপসর্গে উন্নতি হওয়া মাত্রই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বন্ধ করে দেই, ফলে জীবাণুসমূহ সম্পূর্ণ ধ্বংসের পরিবর্তে রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা প্রাপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে একই অ্যান্টিবায়োটিক এসব জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
*প্রয়োজন ছাড়াই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে থাকলে।
*চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে করতে ছেড়ে দিলে।
*পোল্ট্রি ও গবাদিপশু খামারে প্রচুর পরিমাণ অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হয়ে থাকে, ফলে রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতাপ্রাপ্ত জীবাণুসমূহ খাবারের সাথে এবং পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধের উপায়:
*চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রার এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করুন।
*ঠাণ্ডা লাগা বা সর্দিজ্বর সাধারণত ভাইরাসের আক্রমণে হয়ে থাকে। আর ভাইরাসের উপর এন্টিবায়োটিক কোন কাজ করতে পারেনা। তাই ঠাণ্ডা লাগলে বা সর্দিজ্বর হলেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করবেন না।
*ডাক্তার যতদিন না বলে ততোদিন পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক গ্রহণ বন্ধ করবেন না।
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি মহাবিপর্যয়। তাই সময় থাকতে আজই সচেতন ও সাবধান হোন।এন্টিবায়োটিক গ্রহনের ব্যাপারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ও যথাযথ তাঁর কোর্স পূর্ণ করুন।

Academic post
26/03/2026

Academic post

Nature Reviews Molecular Cell Biology: Proteins can localize to multiple cellular compartments and some exhibit distinct functions depending on their location. This Review discusses the mechanisms of protein localization, the control of specialized protein functions through subcellular localization, and how mislocalization is involved in cancer, neurodegeneration and autoimmunity.

Link to the Review in the comments.

Awareness build-up postমুখ ও মুখ গহব্বর এর ক্যান্সার   নিয়ে কিছু কথা( Updated 24.03.26)Oral Cancer"দ্রুত রোগ নির্ণয়, দ্র...
23/03/2026

Awareness build-up post
মুখ ও মুখ গহব্বর এর ক্যান্সার
নিয়ে কিছু কথা
( Updated 24.03.26)

Oral Cancer
"দ্রুত রোগ নির্ণয়, দ্রুত সঠিক চিকিৎসা,
কমায় চিকিৎসা ব্যয়, বাড়ায় জীবনের আশা।"
"Early Detection , Diagnosis, Treated early,
Better survival rate & prognosis"


ওরাল ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধ যোগ্য ক্যান্সার।ওরাল ক্যান্সারের ৯০% দায়ী এই তামাক। আমাদের দেশে তামাক ও তামাক জাত দ্রব্য এর কারণে ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত রােগীদের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুই তৃতীয়াংশ রোগী আমাদের কাছে আসে advanced stage (stage III & stage IV) রোগ নির্ণয়ের সময়ে। উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়না বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে। মুখের ক্যান্সার উন্নতমানের চিকিৎসা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আমাদের দেশে বিদ্যমান।

ওরাল ক্যান্সার স্ক্রিনিং বেসরকারি পর্যায়ে ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু প্রোগ্রাম হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।এখন প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলে মিলে কাজ করা।সারা দেশে একযোগে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ওরাল ক্যান্সার প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।।

আমাদের সকলকে ওরাল ক্যান্সার সম্পর্কে ভাবতে হবে। সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।"

ক্যান্সার! শব্দটি শুনলেই মনের অজান্তেই এক আতংক সৃষ্টি হয়। হাল-আমলে স্টিভ জবস, হুমায়ূন আহমেদের ক্যান্সারে মৃত্যু এই আতংক আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উন্নত বিশ্বে যখন দিন দিন মুখের ক্যান্সার এর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে তখন বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দিন দিন মুখের ক্যান্সার এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখের ক্যান্সার নিয়ে বাংলাদেশে আলাদা কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের ক্যান্সার নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের মানুষের শরীরে হওয়া ক্যান্সারের মধ্যে মুখের ক্যান্সার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ,যা খুবই আতংকের বিষয়।
তবে আশার কথা হলো মুখের ক্যান্সার প্রায় ৯০% ই প্রতিরোধযোগ্য ও বাংলাদেশেই মুখের ক্যান্সার এর উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।

*কোথায় হয়ঃ
মুখের ভেতর যে কোন স্থানেই ক্যান্সার হতে পারে। তবে বেশিরভাগ মুখের ক্যান্সার হয়:
১.গালের ভিতরে (Buccal Mucosa)
২.মাড়ি ( Gingiva)
৩. জিহবার পার্শ্বভাগ ও নিচে(Tongue)
৪. ঠোঁটে ( বিশেষত নিচের ঠোঁটে)(Lip)
৫. তালু (Palate)
৬. Retro molar area
৭. Floor of the mouth

*কারণ:
ক্যান্সারের শতভাগ নিশ্চিত কারন এখনও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি তবে মুখের ক্যান্সারের কিছু কিছু কারণ জানা যায়, তা হলোঃ
১. ধূমপান।
২. পান-সুপারি ও সাদাপাতা, জর্দা, গুল, খৈনী ইত্যাদি তামাক জাতীয় পদার্থ গ্রহণ ও ব্যবহার।
৩. মদ্যপান।
৪. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস(HPV) এর সংক্রমণ।
৫. সূর্যালোকের সংস্পর্শ(ঠোঁটের ক্ষেত্রে)।
৬. প্রাক-ক্যান্সারীয় ক্ষত।( Oral potentially Malignant Disorders)
৭. ভাংগা দাঁতের/ নকল দাঁতে সুচালো অংশ দিয়ে ক্রমাগত আঘাত পেয়ে পেয়ে সৃষ্ট ক্ষত।


*উপসর্গঃ
১. মুখের কোন স্থানে(যেমনঃ ঠোঁট, জিহবার পার্শ্বদিকে,মাড়ি, তালু,গাল) দীর্ঘদিন ধরে ক্ষত যা সাধারণ চিকিৎসায় ভাল হচ্ছে না।
২. মুখের ভেতর ব্যথা-বেদনাহীন ফোলা যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
৩. মুখের ভেতর কোন অংশে লালচে/ কালচে/সাদাটে ক্ষত বা ছোপ পরা। (Leukoplakia,Erythro-leukoplakia,Erythroplakia)
৪. জিহবা নাড়াতে অসুবিধা হওয়া, কথা বলতে অসুবিধা অনুভব বা খাদ্য গেলার সময় ব্যথা হওয়া।
৫. চিবুকের নিচে/ গলা বা ঘাড়ের লসিকাগ্রন্থি ব্যথাহীন ফুলে যাওয়া।

*রোগনির্ণয় (Diagnosis)
*Confirmatory পরীক্ষা :
বায়োপসি (Incisional Biopsy) ও হিস্টোপ্যাথলজি(Histopathology)পরীক্ষা :
আক্রান্ত স্থান থেকে টিস্যু কেটে নিয়ে তা অণুবীক্ষণযন্ত্রের মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয় করা হয়।

এর সাথে প্রয়োজনে অনুসারে,
* Radio- Imaging:
CT scan with Contrast
MRI
OPG

চিকিৎসাঃ
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশে ওরাল ক্যান্সারের উন্নত মান চিকিৎসা আছে।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে মুখের ক্যান্সার ভাল হয়। দ্রুত রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশই এখন উন্নত দেশের মতই মুখের ক্যান্সার এর চিকিৎসা হচ্ছে।

মুখের ক্যান্সার এর চিকিৎসা হলোঃ
চিকিৎসা পদ্ধতি সিদ্ধান্ত নিতে হয় ক্যান্সারের Staging উপর নির্ভর করে।
*শুধু সার্জারি।
*শুধু রেডিওথেরাপি।
*সার্জারি তাদের সাথে রেডিও থেরাপি/ কেমো-রেডিও থেরাপি।

**সার্জারি (Surgery) :
প্রাইমারি অবস্থানে ক্যান্সার টিস্যু অপসারণ (Three dimensionally), Neck dissection, প্রয়োজন অনুযায়ী টিস্যু প্রতিস্থাপন (Reconstruction)।
*পরবর্তীতে প্র‍য়োজন মত রেডিওথেরাপি/ কেমো-রেডিওথেরাপি (Concurrent Chemo-Radiotherapy)

**Follow-Up

প্রতিরোধের উপায়ঃ
১.Lifestyle modification
(জীবনযাত্রা ও অভ্যাসের পরিবর্তন) :
তামাক ও তামার জাতীয় পদার্থের অভ্যাস
* সম্পূর্ণভাবে ধূমপান পরিহার করা।*পান-সুপারি ও সাদাপাতা, জর্দা, গুল, খৈনী ইত্যাদি তামাক জাতীয় পদার্থ পরিহার করা।
*মদ্যপান পরিহার করা।
৪. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস- ১৬ (HPV-16) এর ভ্যাক্সিন গ্রহণ করা।
৫. দাঁতের ভাংগা অংশ / নকল দাঁতে সুচালো অংশ যার আঘাত থেকে ক্ষত/ ঘা হচ্ছে তা ভোঁতা করা বা পরিবর্তন করা।
৬. প্রাক-ক্যান্সারীয় ক্ষতের ( Potentially Malignant Disorders)চিকিৎসা করা।
৭. রোদে বের হলে ঠোঁটে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
৮. মুখের কোন ক্ষত/ ঘা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে(ব্যথা থাকুক বা না থাকুক)অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।
৯. ৬ মাস অন্তর অন্তর একজন রেজিস্টার্ড ডেন্টাল সার্জনের কাছে মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
১০. মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখা।
১১. Physical Activity & Exercise:
(প্রতিদিন নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম)
১২. Balanced Diet& Fruits and Vegetables, Water Consumption :
(সুষম খাদ্য ও তাজা ফল-মূল গ্রহণ।)

(পরিবর্তিত ও সম্পাদিত)
ধন্যবাদ সকলকে।

Courtesy : Dr. Mahfuzur Rahman

World Cancer Day4th February 2026Date:17/02/26Oral Cancer  নিয়ে কিছু কথাLip & Oral Cavity"দ্রুত রোগ নির্ণয়, দ্রুত সঠিক চ...
17/02/2026

World Cancer Day
4th February 2026
Date:17/02/26

Oral Cancer নিয়ে কিছু কথা
Lip & Oral Cavity

"দ্রুত রোগ নির্ণয়, দ্রুত সঠিক চিকিৎসা,
কমায় চিকিৎসা ব্যয়, বাড়ায় জীবনের আশা।"
"Early Detection , Diagnosis, Treated early .
Better survival rate & prognosis"

ওরাল ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধ যোগ্য ক্যান্সার।ওরাল ক্যান্সারের ৯০% দায়ী এই তামাক। আমাদের দেশে তামাক ও তামাক জাত দ্রব্য এর কারণে ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত রােগীদের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুই তৃতীয়াংশ রোগী আমাদের কাছে আসে advanced stage (stage III & stage IV) রোগ নির্ণয়ের সময়ে। উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়না বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে। বেসরকারি পর্যায়ে ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু প্রোগ্রাম হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।এখন প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলে মিলে কাজ করা।সারা দেশে একযোগে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ওরাল ক্যান্সার প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।।আমাদের সকলকে ওরাল ক্যান্সার সম্পর্কে ভাবতে হবে। সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।"

ক্যান্সার! শব্দটি শুনলেই মনের অজান্তেই এক আতংক সৃষ্টি হয়। হাল-আমলে স্টিভ জবস, হুমায়ূন আহমেদের ক্যান্সারে মৃত্যু এই আতংক আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উন্নত বিশ্বে যখন দিন দিন মুখের ক্যান্সার এর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে তখন বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দিন দিন মুখের ক্যান্সার এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখের ক্যান্সার নিয়ে বাংলাদেশে আলাদা কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের ক্যান্সার নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের মানুষের শরীরে হওয়া ক্যান্সারের মধ্যে মুখের ক্যান্সার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ,যা খুবই আতংকের বিষয়।
তবে আশার কথা হলো মুখের ক্যান্সার প্রায় ৯০% ই প্রতিরোধযোগ্য ও বাংলাদেশেই মুখের ক্যান্সার এর উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।

কোথায় হয়ঃ
মুখের ভেতর যে কোন স্থানেই ক্যান্সার হতে পারে। তবে বেশিরভাগ মুখের ক্যান্সার হয়:
১.গালের ভিতরে (Buccal Mucosa)
২.মাড়ি ( Gingiva)
৩. জিহবার পার্শ্বভাগ ও নিচে। (Tongue)
৪. ঠোঁটে ( বিশেষত নিচের ঠোঁটে) (Lip)
৫. তালু (Palate)
৬. Retro molar area
৭. Floor of the mouth

কারণ:
ক্যান্সারের শতভাগ নিশ্চিত কারন এখনও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি তবে মুখের ক্যান্সারের কিছু কিছু কারণ জানা যায়, তা হলোঃ
১. ধূমপান।
২. পান-সুপারি ও সাদাপাতা, জর্দা, গুল, খৈনী ইত্যাদি তামাক জাতীয় পদার্থ গ্রহণ ও ব্যবহার।
৩. মদ্যপান।
৪. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস(HPV) এর সংক্রমণ।
৫. সূর্যালোকের সংস্পর্শ(ঠোঁটের ক্ষেত্রে)।
৬. প্রাক-ক্যান্সারীয় ক্ষত। Oral potentially Malignant disorders)
৭. ভাংগা দাঁতের/ নকল দাঁতে সুচালো অংশ দিয়ে ক্রমাগত আঘাত পেয়ে পেয়ে সৃষ্ট ক্ষত।


উপসর্গঃ
১. মুখের কোন স্থানে(যেমনঃ ঠোঁট, জিহবার পার্শ্বদিকে,মাড়ি, তালু,গাল) দীর্ঘদিন ধরে ক্ষত যা সাধারণ চিকিৎসায় ভাল হচ্ছে না।
২. মুখের ভেতর ব্যথা-বেদনাহীন ফোলা যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
৩. মুখের ভেতর কোন অংশে লালচে/ কালচে/সাদাটে ক্ষত বা ছোপ পরা।
৪. জিহবা নাড়াতে অসুবিধা হওয়া, কথা বলতে অসুবিধা অনুভব বা খাদ্য গেলার সময় ব্যথা হওয়া।
৫. চিবুকের নিচে/ গলা বা ঘাড়ের লসিকাগ্রন্থি ব্যথাহীন ফুলে যাওয়া।

রোগনির্ণয়ঃ
বায়োপসি (Biopsy) ও হিস্টোপ্যাথলজি(Histopathology)পরীক্ষা :
আক্রান্ত স্থান থেকে টিস্যু কেটে নিয়ে তা অণুবীক্ষণযন্ত্রের মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয় করা হয়।

চিকিৎসাঃ
সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে মুখের ক্যান্সার ভাল হয়। দ্রুত রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশই এখন উন্নত দেশের মতই মুখের ক্যান্সার এর চিকিৎসা হচ্ছে।
মুখের ক্যান্সার এর চিকিৎসা হলোঃ
সার্জারি,পরবর্তীতে প্র‍য়োজন মত রেডিওথেরাপি ও কেমো-রেডিওথেরাপি।

প্রতিরোধের উপায়ঃ
১.Lifestyle modification (জীবনযাত্রা ও অভ্যাসের পরিবর্তন) :
তামাক ও তামার জাতীয় পদার্থের অভ্যাস
* সম্পূর্ণভাবে ধূমপান পরিহার করা।*পান-সুপারি ও সাদাপাতা, জর্দা, গুল, খৈনী ইত্যাদি তামাক জাতীয় পদার্থ পরিহার করা।
*মদ্যপান পরিহার করা।
৪. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস(HPV) এর ভ্যাক্সিন গ্রহণ করা।
৫. দাঁতের ভাংগা অংশ / নকল দাঁতে সুচালো অংশ যার আঘাত থেকে ক্ষত/ ঘা হচ্ছে তা ভোঁতা করা বা পরিবর্তন করা।
৬. প্রাক-ক্যান্সারীয় ক্ষতের চিকিৎসা করা।
৭. রোদে বের হলে ঠোঁটে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
৮. মুখের কোন ক্ষত/ ঘা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে(ব্যথা থাকুক বা না থাকুক)অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।
৯. ৬ মাস অন্তর অন্তর একজন রেজিস্টার্ড ডেন্টাল সার্জনের কাছে মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
১০. মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখা।
১১. Physical Activity
প্রতিদিন শারীরিক ব্যায়াম
১২. সুষম খাদ্য ও তাজা ফল-মূল গ্রহণ।

(পরিবর্তিত ও সম্পাদিত)

Courtesy : Muhammad Mahfuzur Rahman

Address

Chittagong

Opening Hours

Tuesday 09:00 - 21:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Saturday 16:00 - 21:00
Sunday 16:00 - 21:00

Telephone

+8801717045973

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Mohammed Morshed Alam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr.Mohammed Morshed Alam:

Share