11/03/2024
'রমজান এবং মুখের স্বাস্থ্য: যা জানা দরকার'
-----------------------------------------------------------
বছর ঘুরে আবারো আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে রমজান, ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডারের নবম মাস, মুসলমানদের প্রিয় রোজার মাস।
যাঁরা এই পবিত্র মাসে রোজা রাখেন, তাঁদের অনেকে রোজা ভঙ্গের ভয়ে দাঁতের চিকিৎসা পিছিয়ে দেন। এমনকি ডাক্তারদের মধ্যেও রোজাদার রোগীর ক্ষেত্রে ডেন্টাল ট্রিটমেন্টের ব্যপারে দ্বিধা কাজ করে।
রোজার মাসে দাঁতের চিকিৎসা সংক্রান্ত খুব আলোচিত প্রশ্নগুলো হচ্ছে-
~রোজা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে?
~রোজা রেখে মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যাবে?
~কোন ডেন্টাল ট্রিটমেন্টগুলো জায়েয এবং কোনগুলো রোজা ভেঙে ফেলতে পারে?
আসুন জবাবগুলো দেখে নেয়া যাক।
~রোজা রাখার সময় আপনি কি দাঁত ব্রাশ বা ফ্লস করতে পারবেন?
# রোজাকালীন সময় টুথপেস্ট ব্যবহার করা জায়েয , যদিও কিছু স্কলার রোজা রেখে টুথপেস্ট ব্যবহারকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিৎ বলে মনে করেন কারণ ইচ্ছাকৃত বা দুর্ঘটনাবশত এগুলো গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যেতে পারে।
আপনি সবসময় ইফতারের পরে বা রাতে ঘুমানোর আগে এবং আমি সেহরির পরে ভালভাবে ব্রাশ এবং ফ্লস করতে পারেন। প্রতিদিন দুবার ব্রাশ করা মুখের রোগ প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট।
~রোজা রেখে মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যাবে কি?
# জরুরি চিকিৎসার অনুসঙ্গ হিসেবে আপনার ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী আপনি রোজা রেখে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। মাউথওয়াশ অবশ্যই সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবেই গিলে ফেলা যাবে না।
~ডেন্টাল ট্রিটমেন্ট নিলে কি রোজা ভেঙ্গে যায়?
# কিছু রোগী মনে করেন যে বিভিন্ন ধরনের ডেন্টাল ট্রিটমেন্টের কারণে রোজা ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।
ফিলিং, দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট বা অন্য কোনো পদ্ধতি সহ দাঁতের সমস্ত কাযে যতক্ষণ না আপনি পানি বা কিছু গিলে ফেলছেন ততক্ষণ আপনার রোজা ভেঙ্গে যাবে না।
যদি আপনি ও আপনার চিকিৎসক মনে করেন যে চিকিৎসাকালীন পানি গিলা এড়ানো কঠিন হবে এবং চিকিৎসা পদ্ধতিটি জরুরী, তাহলে চিকিৎসার গুরুত্বের ভিত্তিতে রোজা ভেঙ্গে চিকিৎসা করা এবং রোজা কাযা করা যেতে পারে। তবে, যদি রোগী চিকিৎসা নিতে অনিচ্ছুক হন, বিশেষ করে যদি কোন তীব্র ব্যথা/অস্বস্তি না থাকে তবে চিকিৎসা রোজার পরে করাই ভালো।
√রোজাকালীন যেসব ডেন্টাল ট্রিটমেন্ট ধর্মীয়ভাবে অনুমোদিত:
১/ স্কেলিং এন্ড পলিশিং।
২/ ফিলিং।
৩/ দাঁত তোলা।
৪/ পাল্প থেরাপি/রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট।
৫/ অবশকারী ইনজেকশন (টপিকাল এন্ড লোকাল অ্যানেস্থেটিক)
৬/ মাউথওয়াশ।
√ রোজাকালীন যেসব ট্রিটমেন্ট ধর্মীয়ভাবে অননুমোদিত:
১/ ইন্ট্রাওরাল জেল এবং লজেন্স (আলসার বা ওরাল থ্রাশের জন্য)।
২/ মুখে খাওয়ার ওষুধ। রোজা রেখে মুখে খাওয়ার ওষুধ জায়েজ নয়। যে কোনো ওষুধ গিলে ফেললে (ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক ইত্যাদি) রোজা ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু যদি ওষুধ বন্ধের কারণে গুরুতর স্বাস্থ্য ক্ষতি বা জীবন-হুমকির সম্ভাবনা দেখা দেয়, তাহলে কাযা আদায় সাপেক্ষে রোজা ভাঙা গ্রহণযোগ্য।
যেসব রোগীর অবিলম্বে বা উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যেমন যারা মুখ বা দাঁতের দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভুগছেন বা কোনো অসুখের জরুরী অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁরা রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরবর্তীতে কাযা আদায় করে নিতে হবে।
পবিত্র রমজান মাসে যখন দাঁতের সমস্যা দেখা দেয় এবং ওষুধের প্রয়োজন হয়, আপনি একজন কোয়ালিফাইড ডেন্টাল সার্জনের সাথে আলোচনা করতে পারেন। রোজার সময় অনুযায়ী তিনি আপনার ওষুধ এবং/অথবা ডোজ এডজাস্ট করে দিবেন।
সবশেষে যারা রোজা রাখবেন তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু স্বাস্থ্য টিপস:
>সেহরি এড়িয়ে যাবেন না।
>ইফতারের সময় অতিরিক্ত খাবার খাবেন না।
>ভাজা খাবার, লবনাক্ত খাবার এবং উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
>রান্নায় তেল ব্যবহার যথাসম্ভব কম করুন।
>প্রচুর পানি ও স্বাস্থ্যকর পানীয় পান করুন; যেমন জুস,ফলের রস,দুধ স্যুপ, ইত্যাদি।
>কফি, চা, সোডা এবং অন্যান্য সমস্ত ক্যাফিনযুক্ত পানীয় কমিয়ে দিন; এগুলো প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে।
>ধূমপান থেকে বিরত থাকুন কারণ এটি লালা উৎপাদন কমিয়ে দেয়, তাই মুখ শুকিয়ে যেতে পারে, পিপাসা বেড়ে যেতে পারে এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে।