20/02/2023
মুখের দুর্গন্ধের কারণ ও করণীয় :
মুখের দুর্গন্ধ রয়েছে এমন অনেকেই নানা ভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে থাকেন। মুখের সামনে অপবাদ না দিলেও আড়ালে চলে ভয়াবহ দুর্নাম। ”ওমা! কি গন্ধরে বাবা! জীবনে মনে হয় দাঁত মাজে না! আপনার প্রিয়জনও আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে পারে। অনেকেই নিজের মুখের দুর্গন্ধ ফিল করেন কিন্তু সমাধানের জন্য চেষ্টা করেন না। হয়তো জানেন না । আজকের আলোচ্য বিষয় মুখের দুর্গন্ধের কারণ ও করণীয়।
⚛️ সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ও মুখের পরিচর্চা না করলে দুর্গন্ধ হতে পারে।
⚛️ জিঞ্জিভাইটিস বা মাড়ির প্রদাহ ( জিঞ্জিভাইটিস এর অন্যতম উপসর্গ মাড়ি থেকে রক্তপাত , ব্রাশ করতে, শক্ত খাবার খেতে গেলে লাল রংয়ের আভা দেখা যেতে পারে। ঠান্ডা বা গরম খাবার গ্রহণে দাঁত শির শির করা)
⚛️ দুই দাঁতের মাঝ খানে খাদ্য জমে পচে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে।
⚛️ দাঁতে গর্ত থাকলে,তাতে খাবার আটকে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে।
⚛️ আক্কেল দাঁত বাঁকা হয়ে উঠলে অথবা আংশিক উঠলে তার ফাকা অংশে খাবার আটকে থাকলে দুর্গন্ধ হতে পারে।
⚛️ খাবার খাওয়ার পর জিহ্বার পেছনের অংশে আবরণ পড়ে , জিহ্বার পেছনের আবরণ পরিষ্কার না করলে।
⚛️ মুখের লালা (থুথু) কমে গেলে । নানাবিধ কারণে মুখের লালা কমে যেতে পারে। কিছু মেডিসিনের কারণে বা রোগের কারণে মুখ শুকিয়ে যায়।
⚛️ কিছু কিছু শারীরিক সমস্যা থাকা যেমন- নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস, আলসার এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে, লিভারের সমস্যা, টনসিল জনিত সমস্যা ইত্যাদি।
⚛️ মুখ ও দাঁতের অসম্পূর্ণ চিকিৎসা।
⚛️ মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাসগত সমস্যা।
করণীয়-
✳️ সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ও মুখের পরিচর্চা করতে হবে ।
✳️জিঞ্জিভাইটিস বা মাড়ির প্রদাহ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাল ভাবে স্কেলিং করিয়ে নিতে হবে।
✳️ দুই দাঁতের মাঝ খানে প্রাকৃতিক ফাকা থাকলে ব্রাশ করার পর, ফ্লসিং করতে হবে।
✳️দাঁতে গর্ত থাকলে যত দ্রুত সম্ভব ফিলিং করিয়ে নিতে হবে।
✳️আক্কেল দাঁতের সমস্যা থাকলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।
✳️ খাবার খাওয়ার পর জিহ্বা পরিষ্কার করতে হবে। বাজারে জিহ্বা পরিস্কার করার জন্য টাং ক্লিনার কিনতে পাওয়া যায় ।
✳️মুখের থুথু কমে গেলে কারণ বের করে চিকিৎসা নিতে হবে।
✳️নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস, আলসার এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা , লিভারের সমস্যা, টনসিলের সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা গ্রহণ করা ।
✳️দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি খেতে হবে।
✳️ফলমূল, শাকসবজি, দই জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত।
✳️মৌসুমি তাজা ফল ও সবজি চিবিয়ে খেতে হবে।
✳️ মুখ ও দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করা।
✳️ নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করা।
✳️ মুখ ও দাঁতের অসম্পূর্ণ চিকিৎসা সম্পন্ন করে নেওয়া, যাতে খাবার না জমতে পারে।
বর্জনীয়
✅️ কফি ও অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
✅️ধূমপান পরিহার করতে হবে।
✅️অত্যধিক ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিত।