24/09/2023
দাঁত তুললে কি চোখের সমস্যা হয়?
-----------
বিভিন্ন কারণে দাঁত ফেলে দিতে হয়। তাই রোগীরা উদ্বিগ্ন থাকেন এবং সংগত কারণে প্রশ্ন করেন, দাঁত তুললে কি চোখের কোনো সমস্যা হবে? আর সে দাঁত যদি হয় ওপরের মাড়ির, তাহলে তো আর কথাই নেই, এ ধরনের প্রশ্ন হবেই।
তা ছাড়া ওপরের মাড়ির দাঁতের গোড়াগুলো চোখের কাছাকাছি থাকার কারণে এটি রোগীদের ভাবায়। দাঁত ও চোখ দুটির আলাদা স্নায়ুতন্ত্র বিদ্যমান। এদের স্নায়ুপ্রবাহ ও রক্তপ্রবাহ দুটিই আলাদা। চোখের স্নায়ুপ্রবাহ হচ্ছে অপথালমিক ডিভিশন অব ট্রাইজেমিনাল নার্ভ এবং নিচের দিকে হচ্ছে ম্যাক্সিলারি ডিভিশন অব ট্রাইজেমিনাল নার্ভ। রক্ত প্রবাহিত হয় অপথালমিক ও ল্যাক্রিমাল আর্টারির মাধ্যমে।
অন্যদিকে, ওপরের পাটির দাঁতে স্নায়ুপ্রবাহ হলো অ্যান্টিরিয়র পোস্টিরিয়র, মিডল সুপিরিয়র নার্ভ। নিচের পাটিতে থাকে ইনফিরিয়র অ্যালভিওলার নার্ভ ব্রাঞ্চ অব ম্যান্ডিবুলার নার্ভ। তাই চিকিৎসার প্রয়োজনে দাঁত তুললে চোখের সমস্যা হবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।
রেফার্ড পেইন (Reffered Pain)
মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট সংখ্যক স্নায়ু তাদের শাখাপ্রশাখার মাধ্যমে শরীরের সমস্ত অনুভূতি বহন করে। একটি স্নায়ু ভিন্ন ভিন্ন শাখা ভিন্ন ভিন্ন স্থানের ব্যাথার অনুভূতি বহন করতে পারে। কিন্তু এরা যখন একত্রিত হয় তখন অনেকসময় এক স্থানের ব্যাথা অন্যস্থানে হচ্ছে বলে মনে হয়। একে রেফার্ড পেইন বলে।
যে নার্ভ বা স্নায়ু দাঁতে ব্যাথার অনুভূতি বহন করে তা ট্রাইজেমিনাল নার্ভ এর একটি শাখা। এই ট্রাইজেমিনাল নার্ভ আবার তার ভিন্ন কিছু শাখার মাধ্যমে সম্পূর্ণ মুখের, মাথার উপরিভাগ এবং গলার কিছু অংশের ব্যাথার অনুভূতি বহন করে। এজন্য দাঁতের ব্যাথায় অনেকসময় মাথাব্যাথা,গলা, মুখ এমনকি চোখেও ব্যাথা হচ্ছে বলে মনে হয়।
এই ব্যাথার তীব্রতা অনেকসময় এত বেশি হয় যে রোগীরা চোখে কম দেখছেন বলেও মনে হতে পারে। কিন্তু এসবই আপেক্ষিক। ব্যাথা কমে যাওয়ামাত্র রোগীরা ভালো অনুভব করেন এবং দাঁত ভিন্ন যেসব যায়গায় ব্যাথা হচ্ছিল বলে মনে হয় সেখানে আদৌ কোন সমস্যা ছিলই না।
এটাও সম্ভবত আরেকটা কারন যে কারনে রোগীরা দাঁত ও চোখকে অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন। কিন্তু দাঁত ও চোখের যেটুকু সম্পর্ক আছে তাতে দাঁত তোলার পর চোখের পাওয়ার কমার প্রশ্নই আসে না।
তার মানে কি দাঁতের সমস্যা থেকে চোখের কোন ধরনের সমস্যাই হতে পারে না?
দুই ক্ষেত্রে দাঁতের সমস্যা থেকে চোখে সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকে।
যদি রোগী রোগী দীর্ঘদিন দাঁতের সমস্যা জিইয়ে রাখেন (বিশেষ করে উপরের পাটির দাঁতের সমস্যা), তবে সেখানকার ইনফেকশন চোখে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া জমে সেলুলাইটিস (cellulitis) হতে পারে।
এতে চোখের পাওয়ার নয় বরং চোখের অস্তত্বই সংকটে পড়তে পারে এবং রোগীর জীবনও হুমকির মুখে থাকে। তখন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তাই দাঁতের চিকিৎসা সময়মত করানো জরুরি।