18/02/2026
রমযান মাসে রোজা রেখে দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি, কারণ এ সময় মুখ ও দাঁতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। নিচে রমযানে দাঁতের যত্নের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো:
১. দিনে (রোজা অবস্থায়) দাঁত পরিষ্কার রাখা
· মিসওয়াক ব্যবহার: রোজা অবস্থায় মিসওয়াক ব্যবহার করা সুন্নত এবং এটি দাঁত পরিষ্কার রাখার একটি উত্তম উপায়। মিসওয়াক ব্যবহারে রোজা ভঙ্গ হয় না।
· টুথপেস্ট ছাড়া ব্রাশ🪥: অনেক আলেমের মতে, টুথপেস্ট ব্যবহার করলে এর স্বাদ বা কণা গলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দিনের বেলায় শুধু পানি দিয়ে বা টুথপেস্ট ছাড়া ব্রাশ করা নিরাপদ। যদি টুথপেস্ট ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে খুব সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন এবং ফেনা বা পেস্ট গিলে ফেলবেন না। তবে ঝুঁকি এড়াতে দিনের বেলায় টুথপেস্ট না ব্যবহার করাই ভালো।
· কুলি করা: প্রয়োজন ছাড়া বারবার জোরে কুলি করা বা গড়গড়া করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে পানি গলার ভেতর চলে যেতে পারে।
২. ইফতার ও সেহরির পর দাঁত পরিষ্কার করা
· ইফতারের পর: ইফতার করার পর (মাগরিবের নামাজের আগে বা পরে) ভালোভাবে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন। ইফতারে খাওয়া বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও শরবত দাঁতে লেগে থেকে প্লাক ও ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে, তাই ইফতারের পর ব্রাশ করা জরুরি।
· রাতের খাবারের পর: রাতে গভীর রাতে খাবার খেলে তা দাঁতে লেগে থাকতে পারে। ঘুমানোর আগে অবশ্যই ভালোভাবে ব্রাশ করুন এবং ফ্লস ব্যবহার করুন।
· সেহরির পর: সেহরি খাওয়ার পর (ফজরের আজানের আগে) ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করে নিন। এতে সারা দিন দাঁত পরিষ্কার থাকবে এবং মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।
৩. মুখের দুর্গন্ধ প্রতিরোধ
রোজা রাখার কারণে মুখ শুষ্ক থাকে, যা দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে। এটি কমাতে:
· ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ে প্রচুর পানি পান করুন।
· সেহরিতে খুব লবণাক্ত, মসলাদার ও তীব্র গন্ধযুক্ত (যেমন: রসুন, পেঁয়াজ) খাবার এড়িয়ে চলুন।
· সেহরির পর ভালোভাবে জিভ পরিষ্কার করুন (টাং ক্লিনার দিয়ে)।
৪. দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া
· জরুরি না হলে বেছে নিন বিকেল: দাঁতের চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন হলে, ইফতারের পরে সময় নেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি রোজা অবস্থায় ডাক্তারের কাছে যেতেই হয়, তাহলে ডেন্টিস্টকে জানিয়ে দিন যে আপনি রোজায় আছেন, যাতে তিনি পানি বা অন্য কোনো তরল ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক থাকেন।
· রোজা ভঙ্গের আশঙ্কা: দাঁতে ইনজেকশন দেওয়া, দাঁত তোলা, বা রুট ক্যানেলের মতো বড় চিকিৎসায় পানি বা রক্ত গলায় চলে যেতে পারে, যা রোজা ভঙ্গের কারণ হতে পারে। তাই ইফতারের পর এগুলো করানোই উত্তম।
৫. সঠিক খাদ্যাভ্যাস
· সেহরিতে দই, পনির, শাকসবজির মতো খাবার খান, যা দাঁতের জন্য ভালো।
· চিনিযুক্ত ও অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় (যেমন: সফট ড্রিংকস, জুস, মিষ্টি) কম খান, কারণ এগুলো দাঁতের এনামেল নষ্ট করে।
মনে রাখবেন: রোজা অবস্থায় শুধু টুথপেস্ট ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হয় না, যদি তা ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেলা না হয়। তবে নিশ্চিত থাকতে এবং সতর্কতা হিসেবে দিনের বেলায় শুধু মিসওয়াক বা পানি দিয়ে ব্রাশ করাই অধিক নিরাপদ।
#রোযায়দাঁতেরযত্ন #রামাদানুলকারিম
ডা. মো. সাইদুল ইসলাম তুহিন
বিডিএস (ডিইউ)
চীফ কনসালট্যান্ট
তুহিন ডেন্টাল কেয়ার
হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা, বরিশাল
📞01706220110