28/07/2026
টুথপেষ্ট কিন্তু আমরা খাইনা...নিশ্বাসেও নেই না!
জাস্ট ব্রাশ করি...কুলি করে বেসিনে ফেলি!
টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক (Abrasive materials)
দাঁতকে চকচকে করতে সাহায্য করে।
অথচ...
মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রতিনিয়ত আমরা খাচ্ছি, শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে নিচ্ছি!
আপনি যে কাপে চা খাচ্ছেন,
প্লাস্টিকের যে বোতলে পানি খাচ্ছেন,
টি ব্যাগের যে চা খাচ্ছেন,
বাজার থেকে কিনে যে ওয়ানটাইম প্লেটে খাবার খাচ্ছেন সবই কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিকের অন্যতম সোর্স।
আবার..
প্লাস্টিকের কন্টেইনারে রেখে কি মাইক্রোওভেনে হিট দিচ্ছেন?
ব্যাস, অন্তত ৪ গূণ কিন্তু বেড়ে গেল মাইক্রোপ্লাস্টিক!
লন্ডনের কিংস কলেজের এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, বাতাসেও মিশে এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক বায়ুদূষণ করছে।
বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অন্যতম একটি উৎস ফসলি জমিতে ব্যবহৃত সার।
এমনকি সিনথেটিক কার্পেট ও কাপড় থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আমাদের দেশে
বিভিন্ন ধরনের নিত্যব্যবহার্য কসমেটিক, ডিটারজেন্ট, ফেসওয়াশ, স্ক্রাব, ক্রিম ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এমনকি টুথপেস্টেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক কোনো প্লাস্টিক থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি মাইক্রোপ্লাস্টিক নয়।
বরং ইঞ্জিনিয়ারিং উপায়ে তৈরি করা মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা এসব পণ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব পণ্য ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন আমাদের স্বাঁস্থ্যঝুকি বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এসব কসমেটিক ব্যবহারের পর তা পানির সঙ্গে মিশে ভেসে যাচ্ছে খাল, নদী কিংবা সমুদ্রে। বর্তমানে অনেক বোতলজাত পানিতেও পাওয়া গেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক।
‘বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য প্রজাতির ওপর মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ' নামক এক গবেষণায় জানা যায়, বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও অণুজীবের পেটে ক্ষুদ্র আকারের প্লাস্টিক বা মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতিসংঘ পরিবেশ সম্মেলনে সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্যদূষণকে শীর্ষ ১০ জরুরি পরিবেশগত সমস্যাগুলোর একটি হিসেবে মাইক্রোপ্লাস্টিককে তালিকাভুক্ত করা হয়।
২০১৫ সালে দ্বিতীয় জাতিসংঘ পরিবেশ সম্মেলনে মাইক্রো প্লাস্টিকদূষণ পরিবেশ এবং পরিবেশবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈজ্ঞানিক সমস্যা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় বাঁকখালী নদীর মোহনা ও সোনাদিয়ার পাশে সমুদ্রের উপরিভাগের পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে।
লাবণী পয়েন্ট সৈকতের ও কাঁকড়া বিচের বালুতে প্লাস্টিকের দূষণ নির্ণয় করা হয়েছে এবং অপরিশোধিত ও পরিশোধিত খাওয়ার লবণে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ পরীক্ষা করা হয়েছে।
বাঁকখালী নদীর মোহনায় পানির উপরিভাগে ভাসমান অবস্থায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২০ হাজারের বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মহেশখালী, টেকনাফ ও শাহ পরীর দ্বীপ থেকে সংগৃহীত অপরিশোধিত লবণে কেজিতে প্রায় ১ হাজারটি এবং পরিশোধিত লবণে প্রতি কেজিতে পাওয়া গেছে ৭০০ থেকে ৯০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক।’
প্লাস্টিক মাটিতে পচতে সময় লাগে প্রায় ৪০০ বছর!
তাই ভয়াবহ এক বিপদের দিকে এগুচ্ছে বিশ্ব ⚠️
আপনি কি..
সিংগাপুরসহ উন্নত বিশ্বে গিয়েছেন রিসেন্টলি?
দেখবেন,
খেতে গেলে প্লাস্টিকের বোতল নয়, কাচের জগে পানি খেতে দেয়!
চিড়িয়াখানায় সিল মাছকে দিয়ে নানা খেলা দেখায়...মানুষকে সচেতন করে প্লাস্টিক ব্যবহার না করতে!
দরকার তাই বিকল্প কিছু ব্যবহার করা...প্লাস্টিককে রিসাইক্লিং করা!
তাই,
মাইক্রোপ্লাস্টিকের সাগরে ডুবে থেকে..টুথপেষ্ট নিয়ে আতংকে থাকা বিলাসিতা নয় কি?
তাহলে কি করব?
নিমের ডাল শুধু?
না, ❌
কারণ সেখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লোরাইড নাই!
কয়লা?
না, ❌
খুবই ক্ষতিকর!
অর্গানিক? ❌
ভরসা পাই না। এগুলো ব্যবসায়ীদের ছলা কলা!
সচেতন হই, ভালো থাকি। উদ্বেগ যৌক্তিক। তবে অতি সচেতনতা অনেক সময় অতি আতংক ডেকে আনে।
(Collected)
তথ্যসুত্র:
National Institute of Health (NIH)
Stanford Medicine
Bigganchinta
Daily Jugantor
Daily ProthomAlo