26/03/2020
আসুন করোনা সম্পর্কে জানিঃ
করোনা ভাইরাস (SARS-CoV-2) ও কোভিড-১৯ কি?
করোনা ভাইরাস (CoV) হচ্ছে ভাইরাসগুলির একটি বৃহৎ পরিবার যা সাধারণ সর্দি কাশি থেকে শুরু করে মারাত্মক অসুখ করতে পারে, যেমন Middle East Respiratory Syndrome (MERS-CoV), Severe Acute Respiratory Syndrome (SARS-CoV) এবং কোভিড-১৯ (COVID-19)। করোনাভাইরাসের অনেকগুলো প্রজাতির মাঝে ৭টি প্রজাতি মানবদেহে রোগ সৃষ্টি করে যার মাঝে SARS-CoV-2 অন্যতম। করোনাভাইরাসগুলি জুনোটিক, যার অর্থ তারা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ করতে পারে।
সাধারনভাবে কোভিড-১৯ এর লক্ষণঃ -ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে সাধারনত প্রায় ২-১৪ দিন লাগে
-বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ জ্বর (১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি)
-এছাড়া শুকনো কাশি/ গলা ব্যথা হতে পারে
-শ্বাসকষ্ট/ নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে
-অন্যান্য অসুস্থতা (ডায়াবেটিস/ উচ্চ রক্তচাপ/ শ্বাসকষ্ট/ হৃদরোগ/ কিডনী সমস্যা/ক্যান্সার ইত্যাদি) থাকলে অরগ্যান ফেইলিওর হতে পারে।
যেভাবে ছড়ায়ঃ করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমন ঘটায়;
• শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে (হাঁচি/কাশি/কফ/সর্দি/থুতু) এবং
• আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়
মূলত ভাইরাসটি ছড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুস থেকে উৎপন্ন প্রদাহ কণা (রেসপিরেটরি ড্রপলেট) এর মাধ্যমে যা হাঁচি বা কাশির সাথে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ১ মিটার (৩ ফুট) দূরত্বে যেয়ে পড়ে। এই রেসপিরেটরি ড্রপলেট এর সংস্পর্শে আসলে যেমন আক্রান্ত ব্যক্তির ১ মিটার দূরত্বের কমে অবস্থান করলে বা ড্রপলেট ছড়িয়ে পড়া কোন তল (সারফেস) বা ব্যবহার্য্য সামগ্রী (যেমন টেবিল, চেয়ার, দরজার হাতল ইত্যাদি) হাত দিয়ে ধরলে এবং খালি হাতে নাকে মুখে বা চোখে হাত দিলে ভাইরাসটি সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়
=> হাত ধোয়া
• সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোবেন। প্রয়োজনে এলকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম- -বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভিডিও লিংকঃ https://www.youtube.com/watch?v=y7e8nM0JAz0
• অপরিষ্কার হাতে (দেখতে ময়লা মনে হলে বা খাদ্য বস্তু ধরলে বা রান্না করার সময়ে, টয়লেট ব্যবহারের পর কিংবা কফ, থুতু, বমি, রক্ত ইত্যাদি হাতে লাগলে বা পরিষ্কার করার পর, অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যা করার পর, ময়লা বা আবর্জনা হাতে লাগলে, একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করে এমন জড়বস্তু যেমন দরজার হাতল, গ্লাস, রিমোট ইত্যাদি ধরার পর) ও বারবার/অপ্রয়োজনে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না।
• সাবান-পানি ব্যবহারের পর টিস্যু দিয়ে হাত শুকিয়ে নিন। টিস্যু না থাকলে শুধু হাত মোছার জন্য নির্দিষ্ট তোয়ালে/ গামছা ব্যবহার করুন এবং ভিজে গেলে বদলে ফেলুন।
=> কাশি শিষ্টাচার মেনে চলুন।
• মুখ ঢেকে হাঁচি কাশি দিন
• হাঁচি কাশির সময় টিস্যু পেপার/ মেডিকেল মাস্ক/ কাপড়ের মাস্ক/রুমাল/ বাহুর ভাঁজে মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন এবং উপরের নিয়মানুযায়ী হাত পরিষ্কার করুন।
• টিস্যু পেপার ও মেডিকেল মাস্ক ব্যবহারের পর ঢাকনাযুক্ত ময়লা ফেলার পাত্রে (পাত্র পরিষ্কারের নিয়ম নিচে দেখুন) ফেলুন। কাপড় বা রুমাল ব্যবহার করলে হাঁচি/কাশি দেবার পর সাথে সাথেই সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করুন।
=> জরুরী প্রয়োজন ব্যতিত ভ্রমণ পরিহার করুন
• জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ভিড় এড়িয়ে চলুন বা জনসমাগম হয় এমন স্থানে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
• জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে বিরত থাকুন বা প্রবাসীগণ দেশে আসা থেকে থেকে বিরত থাকুন।
=> মাস্ক ব্যবহারের নিয়মাবলীঃ
• মাস্ক কখন ব্যবহার করবেনঃ
o আপনি অসুস্থ হলে (সর্দি/কাশি/জ্বর/গলাব্যাথা/শ্বাসকস্ট) বা
o অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যাকারী হলে বা নিকটে অবস্থান করলে বা
o বিগত ১৪ দিনের মাঝে বিদেশে ভ্রমণ করলে বা বিদেশ থেকে দেশে ফিরলে বা
o বিগত ১৪ দিনের মাঝে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকলে বা
o স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী হলে
• মাস্ক কিভাবে ব্যবহার করবেনঃ
o মাস্ক দিয়ে নাক মুখ ভালোভাবে ঢেকে শক্ত করে বাধুন যেন মাস্ক ও মুখের মাঝে ফাকা স্থান সর্বনিম্ন থাকে।
o মাস্ক ব্যবহারের সময় হাত দিয়ে মাস্ক ধরা থেকে বিরত থাকুন।
o মাস্ক খোলার সময় মাস্ক এর সামনে হাত না দিয়ে পেছন থেকে খুলুন।
o মাস্ক খোলার পর পুর্বে বর্ণিত নিয়মে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলুন।
o ব্যবহৃত মাস্কটি ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফেলে দিন বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করুন।
o প্রতিবার হাঁচি/কাশির পর মাস্কটি ফেলে দিন বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে ব্যবহার করুন।
o সার্জিক্যাল মাস্ক পাওয়া না গেলে এই ভিডিও লিংক অনুসারে পপলিন বা মোটা কাপড় দিয়ে সহজে মাস্ক বানিয়ে নিনঃ https://web.facebook.com/189823517785353/videos/205916710658630/
ঢাকনাযুক্ত আবর্জনার পাত্রে ব্যবহৃত টিস্যু/মাস্ক ফেলার জন্য আলাদা পলিথিন ব্যাগ ব্যাবহার করুন এবং ব্যাগটি গিট দিয়ে আটকে রাখুন। পাত্র পূর্ণ হয়ে গেলে আবর্জনা সহ পলিথিন ব্যাগটি উন্মুক্ত স্থানে না ফেলে পুড়িয়ে ফেলুন (হাসপাতালের ক্ষেত্রে ইনসিনারেশন এর ব্যবস্থা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন) এবনং পাত্রটি নিম্নের চিত্রবিবরণী অনুসারে পরিষ্কার করুনঃ