12/04/2023
#দাঁতের_যত্ন
** প্রতিদিন সকালে নাস্তার পরে এবং রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট এবং টুথব্রাশ দিয়ে দাঁত এবং মুখ গহবর পরিষ্কার করুন। বাঁশ বা কাঠের টুথপিকের বদলে প্লাস্টিকের টুথপিক এবং সুতার বদলে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন।
** দাঁত ব্রাশ করতে ছাই, কয়লা, দাঁতের মাজন, টুথ পাউডার, গাছের ডাল, লবন, লেবু ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না। এতে দাঁত ক্ষয় হতে পারে৷
** খুব শক্ত বা খুব নরম ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার না করে মাঝামাঝি ব্রিসলের টুথব্রাশ ব্যবহার করুন।
** খুব জোরে চাপ দিয়ে, দীর্ঘক্ষণ যাবত দাঁত ব্রাশ করবেন না। এতে দাঁতের ক্ষয় বেশি হয়।
** দাঁত ব্রাশ করার সময় পাশাপাশি না ঘষে উপরে নিচে করে ব্রাশ করুন।
** শুধু বাইরের দিকে ব্রাশ না করে, সামনে, পিছনে, উপরে, নিচে, ভিতরে এবং বাইরে সমান ভাবে ব্রাশ করুন।
** ছোট বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে চিনি যুক্ত দুধ বা চিনি যুক্ত খাবার খাওয়াবেন না। এতে ডেন্টাল ক্যারিজ (দাঁতে পোকা) হবার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।
** মুখে কোন রকম সমস্যা না থাকলে বাজারের মাউথওয়াশের বদলে হালকা গরম পানিতে সামান্য লবন দিয়ে কুলি বা গার্গল করুন। এটি একটি চমৎকার ন্যাচারাল মাউথওয়াশ।
** অতিরিক্ত চা, কফি, কোমল পানীয়, কঠিন পানীয় (😜), এলকোহল, ধূমপান, পান, সুপারি, চুন, তামাক, জর্দা, গুল ইত্যাদি পরিহার করুন। এগুলোর অনেক গুলোই মুখের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্ষেত্র বিশেষে মুখের ক্যান্সারের প্রধান কারন।
** চিকিৎসকের (ডেন্টাল সার্জন) পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন স্কেলিং বা পলিশিং বা হোয়াইটেনিং করবেন না। এতে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হবে। খুব ঘন ঘন স্কেলিং করলে এবং অনভিজ্ঞ হাতে স্কেলিং করালে দাঁতের ক্ষয় হয় এবং শিরশিরে অনুভূতির সৃষ্টি হয়।
** কালো ব্যক্তিদের দাঁতের রঙ সাদা এবং ফর্সা ব্যক্তিদের দাঁতের রঙ সামান্য হলদেটে হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। এই হলদেটে রঙ এর জন্য কোন ধরনের চিকিৎসা বা হোয়াইটেনিং বা স্কেলিং এর প্রয়োজন নেই।
** যে কোন ধরনের ডেন্টাল চিকিৎসা যত দ্রুত শুরু করবেন, খরচ ততই কম হবে। জটিলতা কমবে, সময় কম প্রয়োজন হবে। ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন, দেরী করলে চিকিৎসা ক্রমশই জটিল এবং ব্যয়বহুল হতে থাকে।
** অত্যাধিক দাঁত শিরশির করা, মাড়ি ফুলে যাওয়া, ব্রাশিং এর সময় বা থুথু ফেলার সময় রক্ত আসা, দাঁত নড়া, দাঁতে সাদা বা কালো স্পট বা দাগ, এগুলো সবই চিন্তার কারন। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই দেরী না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
** মনে রাখবেন, দাঁতের সমস্যায় এন্টিবায়োটিক কখনোই কোন শেষ সমাধান নয়। সমস্যার সমাধান না করে এন্টিবায়োটিক খেয়ে গেলে রোগমুক্তি হবে না, বরং কয়েকদিন পর প্রকট আকার ধারন করবে। পেটের সমস্যায় যেমন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন না, মাথার সমস্যায় যেমন বক্ষব্যধি বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন না, তেমনি মুখ ও দাঁতের সমস্যায় অন্য কারো কাছে না গিয়ে সঠিক চিকিৎসা এবং দিক নির্দেশনার জন্য অবশ্যই দন্ত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হোন। কারন বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে ঘুরে ঘুরে আপনি শেষ পর্যন্ত যতক্ষনে আমাদের কাছে আসবেন, ততক্ষনে রোগের জটিলতা এবং চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাবে বহু গুণ।
** ঝামেলা এড়াতে প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার একজন দন্ত চিকিৎসকের কাছে রুটিন ডেন্টাল চেক আপ করান। এক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখবেন, BDS (Bachelor of Dental Surgery) ডিগ্রী ছাড়া কেউই দন্ত চিকিৎসক/ ডেন্টিস্ট/ ডেন্টাল সার্জন নন। চিকিৎসক নির্বাচনের আগে অবশ্যই এই বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখুন। কারন আমাদের দেশে দন্ত চিকিৎসক নামধারী অধিকাংশ ব্যক্তিই আসলে হাতুড়ে বা ভুয়া বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট।
নিজের এবং পরিবারের দাঁত এবং মুখের যত্ন নিন!
কারন মুক্তোঝরা প্রতিটি হাসিই অমূল্য!
কপি