18/08/2026
"চেম্বারে একটু নতুনত্ব এনেছি"
এই নতুনত্বের পেছনে যে শ্রম, ধৈর্য, সময় আর মেধা ব্যয় হয়েছে-তার পরিমাণ আমার কাছে মনে হয়েছে পাহাড়সম। আর সেই পাহাড়সম শ্রমের পুরো কৃতিত্ব আমার ভাগিনা সাজ্জাদের। সে পাশে না থাকলে এই পরিবর্তনটা আমার পক্ষে সম্ভব হতো কি না, সেটাই বরং আরেকটি বড় প্রশ্ন। সত্যিকার অর্থে আমার একটি কথাও সে এই সৌন্দর্যে রাখেনি। আমি যখনই বলতাম এভাবে না, এভাবে হবে! তখনই আপত্তি আমার পরিকল্পনা ভেস্তে দিতো। এভাবেই শেষতক পরিসমাপ্তি।
চেম্বারটি কাজ শুরু করেছি মাস দুয়েক হলো। এই অল্প সময়ের মধ্যে কোনো অর্থনৈতিক যোগান ছাড়াই যে সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা দাঁড় করানো হয়েছে, সেখানে আমার নিজের কৃতিত্ব বলতে গেলে কিছুই নেই। ভালো-মন্দ মিলিয়ে এখানে যা কিছু দেখছেন, তার শতভাগ প্রাপ্তি ও কৃতিত্ব তার। আমি শুধু তার শ্রম, মেধা ও ভালোবাসার ফলটা উপভোগ করছি।
আমার সাজানো এই ‘চিকিৎসা-বাগানে’ আপনাদের সবাইকে স্বাগত।
এটা আমার কোনো ফ্যাশন নয়; বরং আমার ভালো লাগার একমাত্র আশ্রয়স্থল। চেম্বারের এই শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক পরিবেশের মধ্যে কখনো কখনো এমন প্রশান্তি অনুভব করি যে, নিজের শয়নঘরের কথাই মনে পড়ে।
আপনারা অবশ্য কালেভদ্রে আসবেন। যারা নিয়মিত আসেন, তারা সঙ্গে বকশিস নিয়ে আসবেন!😆
দরজায় টেবিল না থাকলেও সহকারী থাকবে-তাই বলার আগেই ‘উপভোগ ফি’ দিয়ে আমাদের বাধিত করতে ভুলবেন না!
(দুষ্টুমি করলাম।) 😄
তবে এই সমস্ত আয়োজনের মাঝেও একটা সত্য বারবার মনে পড়ে-
একদিন সবই রয়ে যাবে; শুধু শূন্য হাতে আমাকে ফিরে যেতে হবে আমার রবের নিকটে।
সেই দিনটি আসার আগ পর্যন্ত আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে প্রতিটি রোগীকে সর্বোচ্চটা দেওয়ার তাওফিক যেন আল্লাহ আমাকে দেন-এই দোয়াটুকু আপনাদের কাছে চাই।
চেম্বারটি কতটা সুন্দর, কতটা রুচিশীল-তার কোনো মার্ক আমি চাই না। আমার কাছে সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় সংজ্ঞা হলো, একজন রোগী এখানে এসে যেন পরিচ্ছন্নতা, স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং আন্তরিকতার অনুভূতি নিয়ে বের হতে পারেন।
দীর্ঘ এই পথচলায় আমার চেষ্টা শুধু এতটুকুই-চিকিৎসার পাশাপাশি আপনাদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, শান্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করা।
আর আমার টেবিল ও চেয়ারের পাশে যে তাকটি দেখছেন, সেটি আমার ছোট্ট লাইব্রেরি। বাসার লাইব্রেরির কোনো কালেকশন এখানে আনব না। নিজের পছন্দ, প্রয়োজন আর সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে তাকগুলো সাজাব—ইনশাআল্লাহ।
হয়তো একদিন এই তাকগুলো বইয়ে ভরে যাবে, চেম্বার আরও বদলে যাবে, সময়ও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
কিন্তু আমি চাই, এই জায়গাটার সঙ্গে একটি বিষয় যেন সবসময় থেকে যায়—
এখানে মানুষ শুধু চিকিৎসা নিতে আসেনি; একটু স্বস্তি, একটু আস্থা আর একটু আন্তরিকতা নিয়েও ফিরে গেছে।
আমার এই ছোট্ট চিকিৎসা-বাগানে আপনাদের আগমন, ভালোবাসা, আস্থা ও দোয়াই হোক সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।