22/10/2024
মুখের ক্যান্সার
ক্যান্সার! শব্দটি শুনলেই মনের অজান্তেই এক আতংক সৃষ্টি হয়।
উন্নত বিশ্বে যখন দিন দিন মুখের ক্যান্সার এর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে তখন বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দিন দিন মুখের ক্যান্সার এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখের ক্যান্সার নিয়ে বাংলাদেশে আলাদা কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের ক্যান্সার নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের মানুষের শরীরে হওয়া ক্যান্সারের মধ্যে মুখের ক্যান্সার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ,যা খুবই আতংকের বিষয়।
তবে আশার কথা হলো মুখের ক্যান্সার প্রায় ৯০% ই প্রতিরোধযোগ্য ও বাংলাদেশেই মুখের ক্যান্সার এর উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।
কোথায় হয়ঃ
মুখের ভেতর যে কোন স্থানেই ক্যান্সার হতে পারে। তবে বেশিরভাগ মুখের ক্যান্সার হয়:
১. জিহবার পার্শ্বভাগ ও নিচে।
২. ঠোঁটে ( বিশেষত নিচের ঠোঁটে)
৩. মাড়ি
৪. তালু
৫. গালে
কারণ:
ক্যান্সারের শতভাগ নিশ্চিত কারন এখনও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি তবে মুখের ক্যান্সারের কিছু কিছু কারণ জানা যায়, তা হলোঃ
১. ধূমপান।
২. পান-সুপারি ও সাদাপাতা, জর্দা, গুল, খৈনী ইত্যাদি তামাক জাতীয় পদার্থ গ্রহণ ও ব্যবহার।
৩. মদ্যপান।
৪. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস(HPV) এর সংক্রমণ।
৫. সূর্যালোকের সংস্পর্শ(ঠোঁটের ক্ষেত্রে)।
৬. প্রাক-ক্যান্সারীয় ক্ষত।
৭. ভাংগা দাঁতের/ নকল দাঁতে সুচালো অংশ দিয়ে ক্রমাগত আঘাত পেয়ে পেয়ে সৃষ্ট ক্ষত।
৮. চোয়ালের হাড়ের টিউমার।
উপসর্গঃ
১. মুখের কোন স্থানে(যেমনঃ ঠোঁট, জিহবার পার্শ্বদিকে,মাড়ি, তালু,গাল) দীর্ঘদিন ধরে ক্ষত যা সাধারণ চিকিৎসায় ভাল হচ্ছে না।
২. মুখের ভেতর ব্যথা-বেদনাহীন ফোলা যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
৩. মুখের ভেতর কোন অংশে লালচে/ কালচে/সাদাটে ক্ষত বা ছোপ পরা।
৪. জিহবা নাড়াতে অসুবিধা হওয়া, কথা বলতে অসুবিধা অনুভব বা খাদ্য গেলার সময় ব্যথা হওয়া।
৫. চিবুকের নিচে/ গলা বা ঘাড়ের লসিকাগ্রন্থি ব্যথাহীন ফুলে যাওয়া।
রোগনির্ণয়ঃ
বায়োপসি ও হিস্টোপ্যাথলজি অর্থাৎ আক্রান্ত স্থান থেকে টিস্যু কেটে নিয়ে তা অণুবীক্ষণযন্ত্রের মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয় করা হয়।
চিকিৎসাঃ
সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে মুখের ক্যান্সার ভাল হয়। দ্রুত রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশই এখন উন্নত দেশের মতই মুখের ক্যান্সার এর চিকিৎসা হচ্ছে।
মুখের ক্যান্সার এর চিকিৎসা হলোঃ সার্জারি,পরবর্তীতে প্রয়োজন মত রেডিওথেরাপি ও ক্যামোথেরাপি।
প্রতিরোধের উপায়ঃ
১. সম্পূর্ণভাবে ধূমপান পরিহার করা।
২. পান-সুপারি ও সাদাপাতা, জর্দা, গুল, খৈনী ইত্যাদি তামাক জাতীয় পদার্থ পরিহার করা।
৩. মদ্যপান পরিহার করা।
৪. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস(HPV) এর ভ্যাক্সিন গ্রহণ করা।
৫. দাঁতের ভাংগা অংশ / নকল দাঁতে সুচালো অংশ যার আঘাত থেকে ক্ষত/ ঘা হচ্ছে তা ভোঁতা করা বা পরিবর্তন করা।
৬. প্রাক-ক্যান্সারীয় ক্ষতের চিকিৎসা করা।
৭. রোদে বের হলে ঠোঁটে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
৮. মুখের কোন ক্ষত/ ঘা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে(ব্যথা থাকুক বা না থাকুক)অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।
৯. ৬ মাস অন্তর অন্তর একজন রেজিস্টার্ড ডেন্টাল সার্জনের কাছে মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
১০. মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখা।
১১. প্রতিদিন সুষম খাদ্য ও তাজা ফল-মূল গ্রহণ।
©